ঢাকা, রোববার 12 August 2018, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৯ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চৌহালীতে ঝুঁকি নিয়ে যমুনা পারাপার

সিরাজগঞ্জের চৌহালীর যমুনা নদীতে স্যালো ইঞ্জিন চালিত নৌকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে মানুষ

সেলিম রেজা, চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) : সিরাজগঞ্জ জেলা সদর থেকে যমুনা নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন চৌহালী উপজেলার প্রায় দুই লাখ বাসিন্দাদের প্রতিনিয়তই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইঞ্জিন চালিত স্যালো নৌকায় যাতায়াত করতে হয়। একদিকে ফিটনেসবিহীন স্যালো নৌকা আর অদক্ষ চালক অপর দিকে লাইফ সাপোর্ট জ্যাকেট না থাকায় মারাক্তক ঝুঁকি মাথায় নিয়ে পাড়াপাড় হতে হচ্ছে কৃষি প্রধান চরাঞ্চলের মানুষদের। একারনে প্রতি বছরই নৌ দুর্ঘটনায় প্রাণহানির মত ঘটনা ঘটছে। এদিকে, যমুনা নদী দ্বারা বেষ্টিত চৌহালীর মানুষের যাতায়াতের নিরাপত্তায় উন্নত নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করতে উর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন জনপ্রতিনিধি সহ নৌ পথের যাত্রীরা। অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৩ সালে যমুনার ভাঙনে চৌহালী উপজেলা কমপ্লেক্স, থানা, হাসপাতাল ভবন ও প্রায় ২৩ কি.মি. পাকা সড়ক যমুনায় বিলীন হয়ে যায়। যে কারনে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে শুস্ক মৌসুমে ঘোড়ার গাড়ি অথবা পায়ে হাটা আর বর্ষায় নৌকাই একমাত্র ভরসা। এরপর চৌহালী ডিগ্রি কলেজ ভবনে উপজেলা প্রশাসন, পরিষদ ও থানা পুলিশের কার্যক্রম শুরু হয়। এখানে সেবা নিতে প্রতিদিনই ৭টি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌ পথে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষার পর গন্তব্যে পৌছতে হচ্ছে। এছাড়া জেলা প্রশাসনের সাথে উপজেলা প্রশাসনের যোগাযোগের জন্য ইঞ্জিন চালিত নৌকায় আড়াই ঘন্টা অপেক্ষার পর এনায়েতপুর হয়ে বাসে অথবা নাগরপুর-টাঙ্গাইল হয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে জেলা সদরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ দুইয়েরই অপচয় হয়।  স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন ভোরবেলা থেকে বিভিন্ন সময়ে এসব নৌকা গুলো চৌহালী খাষকাউলিা, খগেন ঘাট ও এনায়েতপুর নৌকা ঘাট থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যায়। এতে সরকারী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন ফাইল-পত্র ও পুলিশ আসামি নিয়ে ঝঁড় তুফানের মধ্যেও প্রতিদিনই যমুনা পাড়ি দিয়ে তাদের নিজ গন্তব্যে যোগাযোগ রক্ষা করতে হচ্ছে। এত ঝুঁকির পরও যোগাযোগের কোন উন্নত ব্যাবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে এসকল মানুষকে বাণিজ্যিক ভাবে নির্মীত স্যালো ইঞ্জিন চালিত নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামালের সাথে যাত্রী হয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এবিষয়ে নৌ পথের নিয়মিত যাত্রী আবু সাঈদ বিদ্যুৎ ও আবু দাউদ সরকার জানান, প্রাণহানি হতে পাড়ে এমন আশঙ্কা জেনেও জীবিকার তাগিদে স্যালো নৌকায় নিয়মিত যাতায়াত করতে হচ্ছে। সুষ্ঠ যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু না থাকা ও তদারিকির অভাবে প্রায়শই ছোট খাটো দুর্ঘটনা ঘটলেও, বর্ষা মৌসুমে প্রাণহানির ঘটনা ঘট। সদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম সিরাজ বলেন, যমুনার পশ্চিম পাড়ের প্রায় ১৮টি প্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী, ৩টি ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি সহ সাধারন মানুষকে উত্তাল যমুনা নদী পাড়ি দিয়ে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে হয়। এজন্য নিরাপদে ঝুঁকি বিহীন নৌযান চলাচলে সরকারী উদ্যোগে এনায়েতপুর-চৌহালী নৌ পথে উন্নত সার্ভিস চালু করতে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষন করেন তিনি।
এবিষয়ে চৌহালীর ইউএনও (ভার.) আনিছুর রহমান জানান, যমুনা নদীতে ইঞ্জিন চালিত নৌকায় যাতায়াত আসলেই ঝুঁকিপূর্ণ। তবে এসব নৌকা মেরামত ও নতুন নৌকা তৈরিতে তাদেরকে বলা হয়েছে। এছাড়া নৌকা গুলোতে লাইফ সাপোর্ট জ্যাকেট সরবরাহে এনজিও প্রতিনিধিদের এগিয়ে আশার আহ্বান জানান তিনি। এদিকে থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম জানান, এবছরই চৌহালীতে নৌ পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়েছে। আশা করছি অতিরিক্ত যাত্রী অথবা ফিটনেস বিহীন নৌকা চলাচল বন্ধে ও নিরাপদ যাতায়াতে নৌ পুলিশ ভুমিকা রাখবে। তবে, উপজেলা চেয়ারম্যান মেজর (অব.) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, মৃত্যু ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও বিকল্প কোন ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে অসুস্থ রোগীসহ প্রতিদিনই স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদেরকে ঝুঁকিপূন অবস্থায় যমুনার উত্তাল তরঙ্গ পাড়ি দিতে হচ্ছে। যাত্রীদের নিরাপদে যাতায়াতের জন্য উন্নত নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থারও দাবি জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ