ঢাকা, রোববার 12 August 2018, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৯ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মানিকগঞ্জে ৩৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে লাভলু নামে এক হাতুরে দন্ত চিকিৎসক

হরিরামপুর(মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা: মানিকগঞ্জে শহরে বাড়ী কিনে দেয়ার কথা বলে লাভলু মিয়া নামে এক গ্রাম্য দন্ত চিকিৎসক ৩৫ লক্ষ টাকা হাতিযে নিয়ে নিজের নামে জমি কিনে বাড়ী করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সে সদর উপজেলার পশ্চিম দাশরা গ্রামের মৃত হেলাল উদ্দিন দেওয়ানের ছেলে। এদিকে প্রতারকের খপ্পরে পরে আজগর আলী স্বর্বস্বান্ত হয়ে এখন স্বপরিবারে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। প্রতারক টাকা নিয়া জমি খরিদ করিয়া না দিয়া উল্টা টাকার কথা অস্বীকার করলে আজগর আলীর স্ত্রী সেলিনা বেগম বাদী হয়ে গত ১৩/১১/২০১৭ইং তারিখে মানিকগঞ্জ ২নং জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে লাভলু মিয়ার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছে। সি,আর মামলা নং ৫৫৯। মামলার বিবরণীতে জানাযায়,মানিকগঞ্জ সদর উপজেলাধীন লেমুবাড়ী গ্রামের মৃত সামেজুদ্দিনের ছেলে আজগর আলী দীর্ঘদিন ধরে ছাইথেকে সোনা উৎপাদনের কাজ করে আসছে। স্বর্ণের ছাইয়ের ব্যবসা করে স্ত্রী,সন্তান নিয়ে বেশ সুখেই ছিলোতারা। অপর পক্ষে প্রতারক লাভলু মিয়া একজন গ্রাম্য হাতুড়ে দন্ত চিকিৎসক। হাট বাজারে ঘুরে ঘুরে ঔষুধ বিক্রী করে খেয়ে নাখেয়ে কোনভাবে দিন কাটাতো। লেমুবাড়ীর হাটে ও তিনি পলিথিন টাঙ্গায়ে দাঁতের ঔষুধ বিক্রী করতো। একবার আজগরের মেয়ে জীবন আরার দাঁতে পোকা লাগলে লাভলুকে দিয়ে  তার চিকিৎসা করানো হয়।এসূত্র ধরে উভয়ের সাথে একটি সম্পর্ক গড়ে উঠে। তারা একে অপরের বাড়ীতে যাতায়াত করতে থাকে। আজগর এবং তার স্ত্রী সেলিনার সরলতার সুযোগ বুঝে প্রতারক লাভলু তাদেরকে বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখাতে থাকে। বাচ্চাদের মানুষ করতে হলে টাউনে বাড়ী করা প্রয়োজন। ৩৫ লক্ষ টাকা হলে মানিকগঞ্জ জেলা সদরের রমজান আলী রোডের পার্শ্বে ০৭ ডিসিমল ভাল জমি কিনে বাড়ী করে দিতে পারিবো। লাভলুর এমন কুমতলব বুঝতে না পেরে টাউনে বাড়ী করার আসায় আজগর তার গ্রামের বাড়ীর ০৯ বিঘা জমি বিক্রীকরে এবং ব্যবসার টাকা থেকে নিজ বাড়ীতে বসে চুক্তিপত্রে স¦াক্ষর রেখে তিন কিস্তিতে মোট ৩৫ লক্ষ টাকা লাভলুকে দেয়। দীর্ঘদিন গতহলে জমি কিনেছে কিনা জিঞ্জাসা করিলে লাভলু নানা টাল বাহানা করতে থাকে। এক পর্যায়ে লাভলু জমি কিনে দেয়া ও সমস্ত টাকার কথা অস্বীকার করে। আর তখনী আজগরের সুখের সংসারে অন্ধকারের কালো ছায়া নেমে আসে। সরেজমিনে বাদিনী আজগরের স্ত্রী সেলিনা বেগমের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, লাভলু যে এতবড় প্রতারক,বিশ্বাষঘাতক আমাদের জানা ছিলোনা। আমার মেয়ের চিকিৎসক হিসেবে তারসাথে পরিচয়। আমাদের স্বরলতার সুযোগে মানিকগঞ্জ শহর এলাকায় জমিকিনে বাড়ী করে দেয়ার কথা বলে আমার স্বামীকে ফুসলিয়ে আমাদের কাছ থেকে ৩৫ লক্ষ টাকা নেয়। তার প্রতারণা বুঝতেনা পেরে আমার স্বামী নিজের সব জমাজমি বিক্রীকরে স্বরল বিশ্বাষে এ  টাকা দেয়। টাকা নিয়ে নিজের নামে জমি কিনে বাড়ী করেছে এটা আমরা জান্তামনা। অনেক দিন গতহলে জমি কিনে নাদিলে টাকা ফেরত চাইতে যাই। তখন জমি কিনে দেয়া এবং টাকার কথা লাভলু অস্বীকার করে। কথা শুনে আমার স্বামী অসুস্থ্য হয়েপরে। টাকার জন্য অনেকবার তার কাছে গিয়েছি। কিন্তু আমাদেরকে পাত্তা দেয়না। পরে লাভলুকে আসামী করে মামলা করি। কিন্তু টাকার বিনিময়ে জামিনে এসে আমাকে বিভিন্ন ভাবে প্রাননাশের হুমকি দিচ্ছে। আমি আমার টাকা ফেরত চাইএবং লাভলুর উপযুক্ত বিচার চাই। মোঃ ইন্তাজ আলী। পুলিশ পরির্দশক, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মানিকগঞ্জ জেলা মামলাটি তদন্ত করেন। তিনি সরেজমিন তদন্ত করে মোঃ লাভলু মিয়ার বিরুদ্ধে আনিত দঃবিঃ ৪০৬/৪২০/৪১৭ ধারার অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমানিত হইয়াছে বলে বাদীকে পিটিশন মামলার তদন্ত ফলাফল লিখিত আকারে জানান। এবং তদন্ত প্রতিবেদন উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করেন। আসামী লাভলু মিয়াকে মোবাইল ফোনে জান্তে চাইলে তিনি টাকার কথা অস্বীকার করেন। তবে তিনি একজন হাতুড়ে দন্ত চিকিৎসক। আজগরের মেয়ের দাতের চিকিৎসা করতে যেয়ে তার সাথে পরিচয় হয় এবং বন্ধুত্বের সৃষ্টি হয় বলে জানান। বাদীনি সেলিনা বেগম তার স্বামীর দেয়া ৩৫ লক্ষ টাকা ফেরত পাওয়া সহ প্রতারক লাভলুকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করে সুবিচারের দাবী জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ