ঢাকা, রোববার 12 August 2018, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৯ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনার আলোচিত সোনিয়া হত্যার রহস্য দেড় মাসেও উন্মোচন হয়নি

খুলনা অফিস: ময়না তদন্তের দোহাই দিয়ে খুলনা মহানগরীর খালিশপুরে সোনিয়া আক্তার (২০) হত্যার রহস্য গত দেড় মাসেও উন্মোচন করতে পারেনি পুলিশ। এদিকে মামলার বাদী ও নিহতের মা জবেদা বেগম ও নিহতের স্বামী মিন্টু সরদারকে অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য আসামী পক্ষ থেকে হুমকি দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে খালিশপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। গত ৫ আগস্ট জবেদা বেগম এ জিডি করেন। অন্যদিকে মা হারা দুগ্ধজাত শিশু সুমন হাসান (২) মাকে না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ছে। দিন রাত সে তার মাকে খুঁজছে।
রূপসা উপজেলার আইচগাতীর সেনের বাজার ঘাট সংলগ্ন ভৈরব নদ থেকে উদ্ধার হওয়া নগরীর খালিশপুরে সোনিয়া আক্তারের হত্যার রহস্য গত দেড় মাসেও উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। সে খালিশপুর উত্তর কাশিপুর পোড়াবাড়ি মসজিদ সংলগ্ন আক্কাস আলীর বাড়ির ভাড়াটিয়া নির্মাণ শ্রমিক মো. মিন্টু সরদারের স্ত্রী।
খালিশপুর থানার ওসি (তদন্ত) শেখ আবুল খায়ের বলেন, সোনিয়ার লাশের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়, সোনিয়ার হত্যার ঘটনায় আদালতে জোবেদা বেগম বাদী হয়ে তার মেয়েকে বাড়িওয়ালার পরিবার যোগসাজসে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে লিখিত অভিযোগ করেন। এ অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য গত ১ আগস্ট বিকেল ৫টায় বিবাদী বাবুলের স্ত্রী তানিয়া নিহতের স্বামী মিন্টু সরদারকে মোবাইলফোনে হুমকি দেয়। পরে মিন্টু মোবাইলফোন জবেদা বেগমের নিকট দিলে তাকেও একই কথা বলে হুমকি দেয়। মামলা তুলে না নিয়ে ক্ষতি করার হুমকি দেয়। এ ঘটনার পর তার আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে জবেদা বেগম খালিশপুর থানায় জিডি করেন।
দর্জি আব্দুল গফুর জানান, সোনিয়া হত্যার বিষয় নিয়ে সব কিছু যেন ক্রমে থেমে যাচ্ছে। কারণ যারা আন্দোলন শুরু করেছিল তাদের হুমকি দেয়া হচ্ছে। আন্দোলন না করার জন্য ভয়-ভীতি দেখানো হচ্ছে।
এদিকে গৃহবধূ সোনিয়া আক্তারের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় গত ২৭ জুন মহানগর হাকিমের আমলী আদালত ‘গ’ অঞ্চলে জোবেদা বেগম বাদী হয়ে তার মেয়েকে বাড়িওয়ালার পরিবার যোগসাজসে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে বলে লিখিত অভিযোগ করেন। যার সি/আর নং-৫৩৯/১৮। অভিযোগে বাড়িওয়ালার বড় মেয়ে আকলিমা (২৪), আ. সালামের ছেলে সাদ্দাম হোসেন (৩০), বাড়িওয়ালা আক্কাস আলী শেখ (৫০), আ. সালামের ছোট ছেলে তরিকুল ইসলাম (২৮) ও আক্কাসের ছোট ছেলে মো. ইব্রাহিমকে (১৯) অভিযুক্ত করা হয়। বাদীর পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করছেন এডভোকেট মোহাম্মাদ আলী বাবু। তিনি বলেন, আগামী ৯ আগস্টের মধ্যে আদালত অভিযোগটি তদন্ত সাপেক্ষে খালিশপুর থানার ওসিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
নিহতের মা জবেদা বেগম জানান, হত্যার ঘটনায় যাদেরকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল তারা এলাকায় ফিরে এসে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আন্দোলনকারীদের হুমকি ধামকি দিচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২১ জুন বাড়িওয়ালা আক্কাস ও তার পরিবারের লোকজন দর্জি শ্রমিক সোনিয়াকে বেদম প্রহার করে। এরপর থেকে সোনিয়ার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। গত ২৩ জুন আইচগাতী ফাঁড়ির পুলিশ সোনিয়ার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ