ঢাকা, রোববার 12 August 2018, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৯ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সিসিকের ২৭ নং ওয়ার্ডের জহির তাহির উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পুন:ভোট দাবি ভোটারদের

সিলেট ব্যুরো : গত ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্থগিত দুটি কেন্দ্রে আগামী ১১ আগষ্ট শনিবার ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর একটি কেন্দ্র ২৭ নং ওয়ার্ডের হবিনন্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। অভিযোগ রয়েছে এণ ওয়ার্ডের তিনটি কেন্দ্রই দখল করে ব্যাপক জাল ভোট প্রদান করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর ও সিসিক নির্বাচনের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আব্দুল জলিল নজরুল সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচনে কারচুপির চিত্র তুলে ধরেছেন। গতকাল বুধবার সরেজমিন ২৭ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ভোটারদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে তাদের নানা অভিযোগ ও ক্ষোভের কথা। হবিনন্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যায় কেন্দ্রের মত জহির তাহির মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রেও পুন:ভোট গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
৩০ জুলাইয়ের নির্বাচনে ২৭ নং ওয়ার্ডের ৩ টি কেন্দ্রে ব্যাপক হারে জাল ভোট ও কেন্দ্র দখল করে ব্যালট ছিনিয়ে নিয়ে টেবিল কাষ্ট করারও অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ভোটাররা। বেলা ১২ টায় ভোট কেন্দ্রে গিয়ে অনেক ভোটার দেখতে পান তাদের ভোট দেয়া হয়ে গেছে। অনেক মৃত ও প্রবাসী ভোটারের ভোটও দিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। ব্যাপক কারচুপি, জাল ভোট প্রদান ও অনিয়মের কারনে হবিনন্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রটি তাৎক্ষণিক স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু জাল ভোটসহ নানা অভিযোগ থাকা স্বত্তেও জহির তাহির মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় পাঠানপাড়া দুটি কেন্দ্র স্থগিত না করায় গত ৩১ জুলাই ২৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আব্দুল জলিল নজরুল সিসিক নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। তিনি লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, জহির তাহির মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় পাঠানপাড়া দুটি কেন্দ্র দখল করে কাউন্সিলর প্রার্থী আজম খানের কর্মীরা গলায় জনৈক মেয়র প্রার্থীর কার্ড ঝুলিয়ে কেন্দ্র দখল করে ব্যালেট পেপারের বই ছিনিয়ে নিয়ে ঘুড়ি প্রতীকে সীল মেরে ব্যালেট বাক্স ভর্তি করে। দুপুর বারোটার মধ্যে ব্যালট শেষ হয়ে যায়। বারোটার পর ভোটাররা ভোট দিতে আসলে ব্যালেট শেষ হয়ে গেছে বলে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি অনেকের ভোট দেওয়া হয়ে গেছে বলে তাদের বলা হয়।
২৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী আব্দুল জলিল নজরুল বলেন, নির্বাচন হলে ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবে। এণ জনগনের ভোটে যে নির্বাচিত হবে সেই জনপ্রতিনিধি হবে। আমি টানা দুইবার জনগনের ভোটে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় ৩০ জুলাই নির্বাচনে আমার ২৭ নং ওয়ার্ড এর তিনটি কেন্দ্রে যে হারে ভোট ডাকাতি হয়েছে তা খুবই লজ্জাজনক। প্রভাব খাটিয়ে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আজম খান নিজে দাঁড়িয়ে থেকে উনার কেন্দ্র জহির তাহির মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় পাঠানপাড়া দুটি কেন্দ্র দখল করে নিজ কর্মীদের দিয়ে আমার এজেন্টদের বের করে টেবিল কাষ্ট করান। তিনি এণ দুটি কেন্দ্রে ২২৭১ ভোট পান আর আমি পাই ৪৫৪ টি ভোট। অনেক ব্যালটে প্রিজাইডিং অফিসারের সীল স্বাক্ষর নেই তাই আমি রিটার্নিং অফিসারের বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছি যাতে এ দুটি কেন্দ্র স্থগিত করে করে পুনরায় নির্বাচন দেওয়া হয়। তিনি বলেন, আগামী ১১ আগষ্ট হবিনন্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আবারো কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট প্রদানসহ সন্ত্রাসীরা প্রভাব বিস্তার করতে পারে বলে আমি আশঙ্কা করছি।
২৭ নং ওয়ার্ডের ভোটার কদমতলীর বাসিন্দা নুরুজ্জামান জানান, তিনি দুপুর বারোটায় জহির তাহির মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোট দিতে গেলে থাকে ব্যালেট শেষ হয়ে গেছে বলে জানান দায়িত্বরত কর্মকর্তা। বলা হয় পরে এসো ব্যালেট আসবে। নুরুজ্জামান আবার ২টার সময় যান তখনো থাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। আচার্য্যপাড়ার বাসিন্দা বাবুল দেবনাথ জানান, তিনি একটার দিকে কেন্দ্রে গেলে তার ভোট কে দিয়ে দিয়েছে বলে থাকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।
কৃষাণপুরের বাসিন্দা নতুন ভোটার মৃদুল নিজের প্রথম ভোটটি না দিতে পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এ কেমন নির্বাচন? আমার ভোট অন্যজন দিয়ে দেয়? তাহলে এণ স্মার্ট কার্ডের দরকার কি? আমার জীবনের প্রথম ভোটটি আমি দিতে পারিনি বলে খুব কষ্ট পেয়েছি। এরকম আরো অনেক ভোটার তাদরে অভিযোগ তুলে ধরেছেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কাউন্সিলর প্রার্থী আযম খান বলেন, জহির তাহির স্কুল কেন্দ্রে ৭০ ভাগ ভোট কাস্ট হয়েছে। এখানে ৪ হাজারের উপরে ভোট। কাস্ট হয়েছে ২৯০০ ভোট। বাকী থাকে আরো প্রায় ১২০০ ভোট। তাহলে মৃত আর প্রবাসীদের ভোট কিভাবে দেয়া হল?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ