ঢাকা, সোমবার 13 August 2018, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৫, ১ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আসামের ৪০ লাখ মানুষের পাশে দাঁড়ান--মুসলিম নেতা

১২ আগস্ট, আন্দবাজার : এনআরসির চূড়ান্ত খসড়া থেকে নাম বাতিল করায় বিপর্যয়ের মুখে আসামের চল্লিশ লাখ মানুষ। নাগরিকপঞ্জি নিয়ে যে বিপর্যয়ের মোকাবিলা করছেন সাধারণ মানুষ তাতে জাত পাত, হিন্দু মুসলিম বিচার্য নয়। বিপদগ্রস্ত প্রতিটি মানুষের পাশে দাঁড়াতে সর্বশ্রেণীর শিক্ষিত তরুণ তরুণীদের এগিয়ে আসার আহবান জানালেন এআইইউডিএফ সুপ্রিমো সাংসদ বদর উদ্দিন আজমল।

জমিয়ত উলামার উদ্দ্যোগে আয়োজিত জাতীয় নাগরিকপঞ্জির সম্পূর্ণ খসড়া নিয়ে এক সচেতনতা সভায় অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির ভাষণে বদরুদ্দিন আজমল এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এনআরসি নিয়ে আজ গোটা অসমের বিভিন্ন ধর্ম, জাতি গোষ্ঠীর লোক সঙ্কটে রয়েছে। তাই এই সংকটপূর্ণ সময়ে ধর্ম, জাতপাত বিচার না করে মানব জাতির সেবায় সবাইকে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। প্রত্যেক শিক্ষিত যুবক যুবতীকে নিজ নিজ সাধ্যমত এন আর সি চূড়ান্ত খসড়া থেকে বাতিলদের নাম অন্তর্ভুক্তি, সংশোধন, দাবি আপত্তি ইত্যাদি ফর্ম পূরণে সহযোগিতা করার আহবান জানান। জাত পাত বিচার না করে বিপদগ্রস্ত প্রতিটি মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে দাবি ও আপত্তির ফর্ম পূরনে সহযোগিতা করতে এদিন তিনি দলীয় কর্মী সমর্থকদের ও আহবান জানান। এর জন্য প্রত্যেক গ্রামে সচেতনতা সভা ও সহায়তা শিবির খুলবে জমিয়ত ও এইউডিএফ।

তিনি বলেন, রাজ্যের চল্লিশ লক্ষ নাম ছুটদের পাশে রয়েছে জমিয়ত উলামা ও এআইইউডিএফ। এনআরসি ছুটদের মধ্যে একজন ও ভারতীয়র নাম যাতে বাদ না পড়ে, সে দিকে সতর্ক নজর রাখছে জমিয়ত-ইউডিএফ।

বদরুদ্দিন আজমল এদিন সুপ্রিম কোর্টের তত্বাবধানে চলা নাগরিকপঞ্জি নবায়ন প্রক্রিয়ার প্রতি পূর্ণ আস্থা ব্যক্ত করে বলেন, ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চ মধ্যরাত্রি পর্যন্ত আসা নাগরিকদের পাশে রয়েছে তার দল, সংগঠন। পরবর্তী সময়ে যারা এসেছেন তাদের নাগরিকত্ব নিয়ে আপাতত কোনো কিছু করার নেই।

 হিন্দুরা নাগরিকত্ব পাবে : গত শনিবার কলকাতায় এক জনসভায় এমনই বার্তা দিয়ে গেলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ।

তিনি বলেন, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টানদের নাগরিকত্ব দিয়ে দেওয়া হবে, আর বাংলাদেশ থেকে যে মুসলিমরা এ দেশে ঢুকেছেন, তারা ধর্মীয় কারণে বাংলাদেশে কোনও সঙ্কটের মধ্যে ছিলেন না, তা সত্ত্বেও ভারতে এসেছেন বাংলাদেশ থেকে আসা মুসলিমরা হলেন অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের জন্য এ রাজ্যের বৈধ নাগরিকদের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে জানান বিজেপি সভাপতি।

তিনি আরো বলেন, অনুপ্রবেশের চাপে এ রাজ্যের মানুষ অনেক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি অভিযোগ তুলে বলেন, বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীরাই পশ্চিমবঙ্গে সন্ত্রাস ছড়াচ্ছে, বোমা বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে। বাংলার সুরক্ষা এবং বাংলার বৈধ নাগরিকদের অধিকার রক্ষার স্বার্থে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীদের তাড়াতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ