ঢাকা, সোমবার 13 August 2018, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৫, ১ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সৌদীবিরোধী অবস্থান নিয়ে কূটনৈতিক বিপাকে কানাডা

১২ আগস্ট, দ্য গার্ডিয়ান : মানবাধিকার প্রশ্নে সৌদি আরবের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে কূটনৈতিকভাবে কাউকে পাশে পায়নি কানাডা। যুক্তরাষ্ট্র বলে দিয়েছে, সৌদি আরব ও কানাডার মধ্যে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে সেখানে ওয়াশিংটন হস্তক্ষেপ করবে না। যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নও সৌদী-বিরোধিতায় নারাজ। বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব কানাডাবিরোধী অবস্থান নিলে অটোয়ার ওপর খুব বেশি একটা প্রভাব পড়বে না। তবে ভবিষ্যতের কোনও রাজনৈতিক সংকটের বিবেচনায় এই একাকী হয়ে পড়া নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তেমন সংকটে পশ্চিমা দেশগুলোকে পাশে না পেলে কী হবে, তা নিয়ে ভাবছেন তারা।

১ আগস্ট‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’ জানিয়েছিল, সৌদি আরব কয়েকজন অধিকারকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। এদের মধ্যে ছিলেন সৌদি আরবের নারী মুক্তি আন্দোলনের প্রখ্যাত নেত্রী সামার বাদাউই। এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অপরাপর অধিকারকর্মীদের পাশাপাশি সামার বাদুউইয়ের ‘অবিলম্বে মুক্তি’ দাবি করেছিল কানাডা। এর আগে জাতিসংঘও একইরকমের দাবি জানিয়েছিল। কানাডার এই দাবি ভালো লাগেনি সৌদি আরবের। প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় সৌদি আরব বলেছিল, ‘কানাডার বক্তব্য সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে খোলাখুলি হস্তক্ষেপ, যা আন্তর্জাতিক রীতিনীতি ও বিধির খেলাপ।’ ক্ষোভ জানিয়ে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কানাডার রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার ও কানাডায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। কানাডার সঙ্গে থাকা শিক্ষা বিষয়ক চুক্তি বাতিল করা হয়। সৌদি আরবের বৃত্তিতে কানাডায় পড়াশোনা করতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের অন্য দেশে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয় রিয়াদ। কানাডাসৌদি আরবের মধ্যে হওয়া প্রতিরক্ষা সমঝোতা এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তিও স্থগিত করা হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় কানাডার সঙ্গে বিমান চলাচল।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্বগ্রহণের পর পরই পরিষ্কার হয়ে যায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের উত্তরাঞ্চলীয় প্রতিবেশী দেশ কানাডার সম্পর্কটা বদলাতে যাচ্ছে। নাফটা চুক্তি পুনর্বিবেচনার প্রশ্নে জোরালো আলোচনা হয়, দুই দেশের সীমান্ত দিয়ে লাখো অভিবাসন প্রত্যাশীর আগমন নিয়ে কথা হয়েছে এবং কানাডার সংরক্ষণবাদী বাণিজ্য নীতিকে আক্রমণ করা হয়। তবে, সম্প্রতি যে ঘটনা ঘটেছে তাতে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার মধ্যকার সম্পর্ককে সবচেয়ে বাজে দিকে টেনে নিয়ে গেছে। ‘এর সমাধান করাটা সৌদি আরব সরকার ও কানাডীয়দের বিষয়। দুই পক্ষেরই কূটনৈতিকভাবে এর সমাধান করা প্রয়োজন। আমরা তাদেরকে এটা করে দিতে পারি না।’এরইমধ্যে নিজেদের একা বোধ করতে শুরু করেছে কানাডা। সাবেক কানাডীয় প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হার্পারের অধীনে কাজ করা নীতিমালাবিষয়ক পরিচালক রাচেল কুরান টুইটারে লিখেছেন, ‘গোটা বিশ্বে আমাদের একটি বন্ধুও নেই।’ ফেডারেল লিবারেল পার্টির সাবেক নেতা ও স্বনামধন্য কূটনীতিক বব রে মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো যুক্তরাজ্যও একইরকম করে নীরব হয়ে আছে। টুইটারে তিনি লিখেছেন: “ব্রিটিশ ও ট্রাম্পীয়রা নিজেদের ভূমিকাকে আড়াল করতে চাইছে এবং বলছে ‘আমরা’ সৌদী ও কানাডীয় দুই পক্ষের মানুষেরই বন্ধু। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ