ঢাকা, সোমবার 13 August 2018, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৫, ১ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

জরিমানার ৩০ শতাংশ ট্রাফিক পুলিশকে দেওয়ার সুপারিশ

স্টাফ রিপোর্টার : বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতির শহর ঢাকার অন্যতম সমস্যা যানজট। সময়ের পরিক্রমায় প্রতিনিয়ত পাল্লা দিয়ে যানবাহন বাড়লেও বাড়েনি সড়ক। ফলে এই মহানগরীর যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে নিত্যনৈমিত্তিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ জানায়, চার হাজারেরও বেশি সদস্য নিয়মিত সড়কে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। আগে দুই শিফট থাকলেও সড়কে ব্যস্ততা বাড়ায় তিন শিফটে দায়িত্ব পালন করছেন তারা। প্রতি শিফটে নির্ধারিত ৮ ঘণ্টার কথা বলা হলেও কোন কোন ক্ষেত্রে ১৪-১৬ ঘণ্টাও রাস্তায় থাকতে হচ্ছে তাদের। দায়িত্ব পালনের সময় প্রসিকিউশনের মাধ্যমে যানবাহন থেকে জরিমানা আদায় করছেন। আর সেই জরিমানা থেকে প্রাপ্ত অর্থ যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে। পক্ষান্তরে, পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ট্রাফিক বিভাগে কর্মরতদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। ঢাকার রাস্তায় তীব্র দূষণের মধ্যে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রায়ই বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন তারা। সার্বিক বিষয়টি মাথায় রেখে ট্রাফিক প্রসিকিউশনের মাধ্যমে আদায় হওয়া জরিমানার ৩০ শতাংশ এ বিভাগে কর্মরতদের বরাদ্দের সুপারিশ করেছে ডিএমপি। এরইমধ্যে এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব বরাবর একটি চিঠিও পাঠিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া।
ডিএমপি কমিশনার স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, বিশ্বের ব্যস্ততম শহরগুলোর অন্যতম রাজধানী ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতে দিন-রাত নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন পুলিশের প্রায় চার হাজার সদস্য। বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ এ মহানগরীতে আয়তনের তুলনায় রাস্তাঘাট অপ্রতুল। ফলে যানজট এখানকার একটি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্মাণাধীন আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনগুলো থেকে নিঃসৃত ধুলাবালি এবং যানবাহন ও কল-কারখানা সৃষ্ট বায়ু ও শব্দ দূষণের মধ্যে স্বাভাবিকভাবে ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালন করার বিষয়টি অত্যন্ত দুরূহ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া একজন ট্রাফিক পুলিশকে ঝড়, বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও তার দায়িত্ব পালন করে যেতে হচ্ছে।
চিঠিতে আরো বলা হয়, ঢাকায় প্রতিনিয়ত গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে। ফলে ট্রাফিক সদস্যদের প্রত্যেক পালায় (শিফটে) নির্ধারিত ৮ ঘণ্টার ডিউটি শেষেও অতিরিক্ত ডিউটি করতে হচ্ছে। আগে ট্রাফিক সদস্যদের দুই পালায় ডিউটি করতে হলেও বর্তমানে কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের তিন পালায় ডিউটি করতে হচ্ছে। দিন-রাত তীব্র শব্দ ও সার্বক্ষণিক মানসিক চাপের মধ্যে কাজ করার কারণে এ বিভাগের সদস্যদের অনেকেই মানসিক বৈকল্য, বধিরতা, ক্যান্সার, যক্ষ্মা, অপুষ্টিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এ বিভাগের সদস্যদের জন্য নিয়মিত চিকিৎসা বাবদ ব্যয় পরিশোধ করে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ ও পারিবারিক প্রয়োজন মেটানো অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে। এই শহরের প্রাত্যহিক যান চলাচল নিশ্চিত করা, ট্রাফিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ আইনের প্রয়োগসহ ভিভিআইপি গমনাগমন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইভেন্ট আয়োজনে ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশ আস্থার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। ঢাকা মহানগরীর ট্রাফিক বিভাগের সদস্যদের এই কর্মতৎপরতা প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রশংসিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল কমিটি ফর ইন্টেলিজেন্স কো-অর্ডিনেশনের (এনসিআইসি) সভায় ট্রাফিক পুলিশদের এসব সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়েছিল। সে সময় ট্রাফিক প্রসিকিউশনের মাধ্যমে আদায় হওয়া মোট জরিমানার একটি অংশ প্রতি মাসে বিভাগীয় সদস্যদের বরাদ্দ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এই বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের অন্য কোনও আর্থিক খাত হতে অর্থ সংগ্রের প্রয়োজন পড়বে না বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেন ডিএমপি কমিশনার।
ডিএমপি কমিশনার আরো উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক নির্দেশিত ট্রাফিক বিভাগের প্রসিকিউশনের মাধ্যমে প্রতিমাসের আদায় করা জরিমানার ৩০ শতাংশ এই বিভাগে কর্মরত সদস্যদের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।
এদিকে, অনুমোদন না হলেও মাঠপর্যায়ে ট্রাফিক সদস্যরা এরইমধ্যে বিষয়টি জেনেছেন। এমন সিদ্ধান্তের বিষয়ে সন্তুষ্টিও প্রকাশ করেছেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ট্রাফিক সদস্য বলেন, চাকরি যেহেতু করছি সেহেতু যে কোন পরিস্থিতিতেই আমাদের দায়িত্ব পালন করতে হয়। কষ্ট এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় এমন উদ্যোগ অবশ্যই আমাদের জন্য বাড়তি অনুপ্রেরণা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ