ঢাকা, সোমবার 13 August 2018, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৫, ১ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ইমারত নির্মাণে কেডিএ’র প্লান অনুমোদনে উৎকোচ বাণিজ্যের অভিযোগ

খুলনা অফিস : ঘর-বাড়িসহ বিভিন্ন ইমারত নির্মাণের জন্য প্লান অনুমোদনে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)’র কর্মকর্তারা বছরে কোটি কোটি টাকা উৎকোচ গ্রহণ করছে এমন অভিযোগ উঠেছে। উৎকোচ ছাড়া প্লান পেতে জনসাধারণের পোহাতে হচ্ছে নানা ভোগান্তি। অপরদিকে অর্থের বিনিময়ে ইমরত বিধিমালা উপেক্ষা করে জলাশয়েও প্লানের অনুমোদন মিলছে। ফলে সংস্থাটির অধিক্ষেত্রে অপরিকল্পিতভাবে বড় বড় দালাল-কোঠা গড়ে ওঠায় নানা ঝুঁকির সৃষ্টি হচ্ছে। অবশ্য সংস্থাটির চেয়ারম্যান বলছেন, এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা পেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়।
কেডিএ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬১ সালের মাস্টার প্লান অনুযায়ী ১৮১ দশমিক ৩০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় সংস্থাটি। এরপর সময়ের সাথে চাহিদা অনুযায়ী বেড়েছে এর অধিক্ষেত্র। ২০০১ সালে থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত অধিক্ষেত্র বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২৪ দশমিক ৭৬ কিলোমিটার। যার উত্তরে নওয়াপাড়া পৌরসভার উত্তর সীমানা, দক্ষিণে মংলা পৌরসভার দক্ষিণ সীমানা, পূর্বে রূপসা ও রামপাল উপজেলা, পশ্চিমে কৈয়া বাজার ও পশুর নদী। অধিক্ষেত্র বৃদ্ধির সাথে সাথে ওই সব এলাকায় নিত্য নতুন মানুষের বসতি গড়ে উঠছে। এসব বসতিকে কেন্দ্র করে নির্মাণ হচ্ছে অসংখ্য ঘর-বাড়িসহ নানা স্থাপনা।
সূত্রটি জানায়, গৃহ ও স্থাপনা নির্মাণে কেডিএ’র কাছ থেকে প্লান অনুমোদনে প্রতিমাসে গড়ে অন্তত তিন শতাধিক আবেদন জমা পড়ে। এসব আবেদনের সাথে সঠিক কাগজপত্র জমা দেয়া সত্ত্বেও প্লান অনুমোদনে নগরবাসীকে নানা বিড়ম্বনা আর ভোগান্তি পোহাতে হয়। তাই ভোগান্তি এড়িয়ে প্লান অনুমোদনে কর্মকর্তাদের পদে পদে মোটা অঙ্কের উৎকোচ দিতে বাধ্য হন গ্রাহকরা। অন্যদিকে, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ইমরত বিধিমালা উপেক্ষা জলাশয়েও প্লান অনুমোদন মিলছে। ফলে সংস্থাটির অধিক্ষেত্রে অপরিকল্পিতভাবে বড় বড় দালান কোঠা গড়ে ওঠায় নানা ঝুঁকির সৃষ্টি হচ্ছে।
প্লানের অনুমোদন নিতে আসা কয়েকজন গ্রাহক জানান, প্লান অনুমোদনে সকল বৈধ ও সঠিক কাগজপত্র জমা দেন তারা। কিন্তু নানা অজুহাতে শুধু কালক্ষেপন আর হয়রানী করা হয়। এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে ঘুষ প্রদান করে অনুমোদন নিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংস্থার কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, প্লানের অনুমোদন নিতে নির্ধারিত সরকারি আবেদন ফিস ছাড়া প্রথম ধাপ অর্থাৎ ভূমি ব্যবহারের ছাড়পত্র (এনওসি) পেতে প্রদান করতে হয় ৫ হাজার টাকা। দ্বিতীয় ধাপে সয়েল টেস্ট অফিসের একজন কর্মকর্তার ফার্ম থেকে করতে বাধ্য করানো হয়। স্ট্রাকচার ডিজাইন ও ডিজাইন কেডিএ’র কর্মচারীরাই অর্থের বিনিময়ে তৈরি করেন। তালিকাভুক্ত ফার্মগুলো শুধু নির্ধারিত পরিমাণ টাকা নিয়েই স্বাক্ষর করেন। এরপর অথরাইজড শাখায় ৬ তলা পর্যন্ত ৮ থেকে ১০ হাজার, ১ম তলা থেকে ৪র্থ তলা পর্যন্ত ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত উৎকোচ  দিতে হয়। সর্বশেষ বোর্ড কমিটির মিটিং-এ প্লানের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করা হয়। কিন্তু বোর্ড সভায়ও ওই প্লানের কোন কাগজপত্র সঠিকভাবে যাচাই-বাচাই করা হয় না। এভাবেই চলছে সংস্থাটির প্লান অনুমোদন।
সুজন-এর জেলা সম্পাদক কুদরত-ই-খুদা বলেন, প্লানের ব্যাপারে কেডিএর অনিয়মের শেষ নেই। আর ঘুষ ছাড়া কাজই হয় না। ফলে অপরিকল্পিত শহর গড়ে উঠছে। তাই ঘুষ, দুর্নীতিমুক্ত ও প্লান অনুমোদনে ভোগান্তি কমাতে স্বচ্ছ ও দক্ষ প্রশাসন দরকার। পাশাপাশি কাগজপত্রসহ সকল অর্থ অনলাইনে দাখিল ও মনিটরিং ব্যবস্থা থাকতে হবে। এছাড়া সিটি গভরমেন্ট চালু ও জনপ্রতিনিধিকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে। তাহালে ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়ম থাকবে না। মানুষের ভোগান্তি কমবে।
কেডিএ চেয়ারম্যান বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আহমেদুল কবীর বলেন, এ ধরনের অভিযোগ আসার পর যদি সত্যতা মেলে তবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ