ঢাকা, সোমবার 13 August 2018, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৫, ১ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনা বেতার চত্বরে আট কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য উদ্বোধন করলেন তথ্যমন্ত্রী

খুলনা অফিস : তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, যে বাংলাদেশ আজ আলোর পথে হাঁটছে, তাকে আর পিছনে যেতে দেবো না। দেশে আজ সন্ত্রাস, মাদক ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে য্দ্ধু চলছে। যুদ্ধের চশমা দিয়ে আমরা বাংলাদেশকে দেখতে চাই। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মাপকাঠি দিয়ে বাংলাদেশে যা ঘটছে তা পরীক্ষা করে নিতে হবে। পরীক্ষায় পাশ করলে তা গ্রহণ করবো নইলে তা প্রত্যাখ্যান করবো। গতকাল রোববার দুপুরে খুলনা বেতার চত্বরে বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য  উদ্বোধনকালে সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু হলেন বাংলাদেশের এপিঠ-ওপিঠ। বঙ্গবন্ধু একটি পতাকা, তিনি একটি দেশ, তিনি একটি রাষ্ট্র, তিনি এক বিপ্লব, তিনি একটি অভ্যুত্থান। বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে নিরাপদ রাখতে হলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী শক্তি, সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদের দোসরদের প্রত্যাখ্যান করতে হবে।
সুধী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক নারায়ণ চন্দ্র শীল। বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট তারানা হালিম, খুলনার সংসদ সদস্য মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, তথ্য সচিব আব্দুল মালেক, বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া এবং জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ। স্বাগত জানান বেতারের কর্মসূচি পরিচালক মো. জাকির হোসেন। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি তথ্য প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট তারানা হালিম বলেন, বঙ্গবন্ধু হলেন বাংলাদেশের সমার্থক। বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ অবিচ্ছিন্ন-অবিভক্ত, তিনি বিশ্বনেতা, শ্রেষ্ঠ রাজনীতিবিদ ও দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক। আর শেখ হাসিনা হলেন আমাদের মাথার ছাতা।
তথ্য সচিব আব্দুল মালেক বলেন, বাংলাদেশের পতাকা আজ মহাসাগর থেকে মহাকাশ পর্যন্ত বিস্তৃত। সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে আজ দেশের সরকারি কর্মকর্তারা কাজ করে যাচ্ছেন। আমাদের এই পথচলাকে কেউ রুদ্ধ করতে পারবে না।
বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক বলেন, বাংলাদেশ বেতারের উদ্দেশ্য হলো গণতন্ত্র সমুন্নত রেখে সরকারের উন্নয়ন প্রচার করা। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলা।
এসময় খুলনা জেলা প্রশাসক মো. আমিন উল আহসান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সরদার মো. রকিবুল ইসলাম, বাংলাদেশ বেতারের উপ-মহাপরিচালক (বার্তা) হোসনে আরা তালুকদার, প্রধান প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান, উপ-মহাপরিচালক-(অনুষ্ঠান) সালাউদ্দীন আহমেদ এবং পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) খান মো. রেজাউল করিমসহ বেতারের সকল কর্মকর্তা ও কলাকুশলীগণ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে তথ্যমন্ত্রী আট কোটি ২৯ লাখ ৯১ হাজার টাকা ব্যয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিভাস্কর্যের ফলক উম্মোচন করেন এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।
খুলনা বেতারের সামনে বঙ্গবন্ধু স্মৃতিভাস্কর্যে স্কাল্পচার বেইজ, এক্সিভিশন গ্যালারী, এম্ফি থিয়েটার, ফাউন্টেন, গ্রিন্ডল্যান্ড স্কেপিং, ইন্টারনাল রোড, প্লান্টার বক্স, ফ্লাওয়ার বেড, মডেল অব ট্রাকচার, স্কাল্পচার, আর্ট ওয়ার্ক, স্টোরেজ ও ভাস্কর্য বেদীর চারদিকে ব্রোঞ্জের রিলিফ ওয়ার্কের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর জীবনের বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বাংলাদেশ বেতারের সহযোগিতায় তথ্য মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে খুলনা গণপূর্ত বিভাগ বঙ্গবন্ধু স্মৃতিভাস্কর্যটি নির্মাণ করেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ