ঢাকা, সোমবার 13 August 2018, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৫, ১ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতারে ব্যর্থ হলে সরকারকে চরম মূল্য দিতে হবে

গতকাল রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএফইউজে ও ডিইউজে’র যৌথ উদ্যোগে সাংবাদিক নির্যাতন ও গণমাধ্যমের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের প্রতিবাদে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী -সংগ্রাম

* ১৭ আগস্ট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদিক নির্যাতন বিরোধী সংহতি সমাবেশ
স্টাফ রিপোর্টার: সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেছেন, পেশাগত দায়িত্বপালনকালে সাংবাদিকদের যারা রক্তাক্ত করেছে তাদের বিচারের আওতায় আনতে ব্যর্থ হলে সরকারকে চরম মূল্য দিতে হবে। সাংবাদিক সমাজ আজ ঐক্যবদ্ধ। ঐক্যবদ্ধভাবে সাংবাদিক সমাজ মাঠে নামলে কোনো স্বৈরশাসক টিকতে পারে না, তা বার বার প্রমাণিত হয়েছে। ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা সাংবাদিকদের ওপর বর্বরোচিত কায়দায় হামলা চালিয়েছে বলে উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, পুলিশ ন্যায়সঙ্গত দাবি আদায়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার ও নির্যাতন করছে, অথচ দিবালোকে ক্যামরার সামনে হামলাকারি চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না। এসব সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করতে না পারলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও তথ্যমন্ত্রীকে বিদায় নিতে হবে। নেতৃবৃন্দ আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফটোসাংবাদিক ড. শহীদুল আলমের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেন।
গতকাল রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের প্রধান ফটকের সামনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজে আয়োজিত সড়ক নিরাপত্তার দাবিতে ছাত্র বিক্ষোভ চলাকালে কর্তব্যরত ৪০ জন সাংবাদিকের ওপর বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে নেতৃবন্দ এসব কথা বলেন।
বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে ও ডিইউজের সহ-সভাপতি শাহীন হাসনাতের পরিচালনায় অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএফইউজে ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, বিএফইউজে মহাসচিব এম আবদুল্লাহ এবং ডিইউজের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ শহীদুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি কবি আবদুল হাই শিকদার, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, বিএফইউজে’র সহসভাপতি নুরুল আমিন রোকন ও মোদাব্বের হোসেন, সহকারী মহাসচিব আহমদ মতিউর রহমান, বিএফইউজে সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী মাসুদ, দফতর সম্পাদক আবু ইউসুফ, প্রচার সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ,  ডিইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক দিদারুল আলম, দফতর সম্পাদক শাজাহান সাজু, জনকল্যাণ সম্পাদক খন্দকার আলমগীর, প্রচার সম্পাদক মাসুদা সুলতানা, কার্যনির্বাহী সদস্য সৈয়দ আলী আসফার, ডিএম আমিরুল ইসলাম অমর, এইচ এম আল আমিন, রফিক লিটন, সাংবাদিক নেতা রফিকুল ইসলাম আজাদ, ইলিয়াস হোসেন, কামরুজ্জামান কাজল, আবুল কালাম মানিক, রাশেদুল হক, আবুল হাসান হৃদয় প্রমুখ।
রুহুল আমিন গাজী বলেন, এই সরকারের আমলে ৩২ জন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত একজনেরও বিচার হয়নি। আলোচিত সাগর-রুনী হত্যার বিচারও হয়নি। চ্যানেল ওয়ান, দিগন্ত টিভি, ইসলামিক টিবিসহ অসংখ্য মিডিয়া বন্ধ করা হয়েছে- হাজার হাজার সাংবাদিক আজ বেকার। এভাবে একের পর এক সাংবাদিকদের উপর হামলা নির্যাতন করা হচ্ছে। এভাবে চলতে পারে না। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের উপর হামলার চিত্র ধারণের সময় ছাত্রলীগের গুন্ডারা সাংবাদিকদের উপর যে বর্বরোচিত হামলা করেছে তার প্রতিবাদ জানানোর ভাষা জানা নেই। অবিলম্বে এসব হামলাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। এ ছাড়া কোটা আন্দোলনকারী ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে গ্রেফতারকৃত ছাত্রদের ছেড়ে দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, আমাদের আন্দোলন কোনো গতানুগতি আন্দোলন নয়। হামলাকারীদের গ্রেফতার করে শাস্তি দিতে হবে। সাংবাদিকদের ওপর থেকে মামলা তুলে নিতে হবে। মিডিয়ার ওপর থেকে সেন্সর উঠিয়ে দিতে হবে। সাংবাদিকদের ন্যায্য দাবি না মানা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, জাতির বিবেক সাংবাদিকদের উপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং যতদিন হামলাকারীদের বিচার না হয় ততদিন আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহবান জানাচ্ছি। সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, আর ভুল করবেন না। অবিলম্বে সকল হামলাকারীদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসুন। তা হলে এ আন্দোলন আসবে না। তিনি আরো বলেন, কোটা আন্দোলনকারীদের মধ্যে যাদের গ্রেফতার করেছে তাদের অবিলম্বে ছেড়ে দিয়ে পড়াশুনার সুযোগ দিন। ফটো সাংবাদিক শহীদুল আলমকে আটকে রেখে দেশকে আরও ছোট করবেন না। অবিলম্বে তাকে মুক্তি দিন।
তিনি বলেন, ছোটরা দেখিয়ে দিয়েছে রাষ্ট্র অচল হয়ে গেছে। রাষ্ট্রের মেরামত করতে হবে। এখন সাংবাদিকদের দেখাতে হবে রাষ্ট্রের কোথায় কোথায় মেরামত করতে হবে। আপনাদের লেখনির মাধ্যমে দেশবাসীকে সেটা জানান। পুলিশের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের মেরামতের কাজে আপনারাও যুক্ত হন। তাহলে দেশবাসী আপনাদের স্বাগত জানাবে।
শওকত মাহমুদ বলেন, বর্তমানে সরকার গুজব নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র করছে। নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের উপর হামলার খবর প্রচারে মিডিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। গণমাধ্যমের উপর অঘোষিত  সেন্সরশীপ আরোপ করা হয়েছে তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করুন। তিনি বলেন, সাংবাদিক ও জনগণের উপর হামলা বন্ধ করুন। তা না হলে আপনাদের (সরকার) রেহাই হবে না। পতন আপনাদের হবেই।
সরকার যত কঠিন হবে, সরকারের পতন তত দ্রুত হবে, এমন মন্তব্য করে শওকত মাহমুদ বলেন, পুলিশের সঙ্গে ছাত্রলীগের যে সব ক্যাডাররা ছাত্র ও সাংবাদিকদের উপর হামলা করেছে তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করুন, তা না হলে সাংবাদিকরা তদন্ত করে হামলাকারীদের প্রকাশ্যে আনবে।
তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, হামলাকারী কারা তা খোঁজার জন্য আপনারা পুলিশের কাছে তথ্য চান। কেননা পুলিশই বলেছে যে, ছাত্রলীগ ছাড়া তারা এ আন্দোলন থামাতে পারবে না। পুলিশ একা হামলা করতে পারবে না। অতএব তাদের কাছেই সব তথ্য আছে।
এম আবদুল্লাহ বলেন, বর্তমান সরকারের একটা বড় কূট-কৌশল হচ্ছে একের পর এক ইস্যু তৈরি করে অপকর্ম ধাপাচাপা দেয়া, সাংবাদিকদের উপর হামলা করে যদি মনে করেন ইস্যু ধামাচাপা দিবেন তা হবে না, হতে দেয়া হবে না। তিনি বলেন, বহু সাংবাদিকদের পঙ্গু ও বেকার করেছেন। এখন এসবের জবাব দেয়ার সময় এসেছে। মাহমুদুর রহমানের উপর কুষ্টিয়ায় যে বর্বরোচিত হামলা হয়েছে, সেই চিহ্নিত হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনার আহবান জানাচ্ছি।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, দেশে দানবীয় শাসন চলছে। এই সরকার একের পর এক সাংবাদিকদের উপর হামলা নির্যাতন করছে। কোনো বিচার হচ্ছে না। এভাবে চলতে দেয়া যায় না। স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব ও লাল সবুজের পতাকাকে রক্ষা করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকারের জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সম্প্রতি সাংবাদিকদের উপর যে হামলা করা হয়েছে সে সব হামলাকারীদের দৃষ্টিন্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
শহিদুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকদের উপর যারা হামলা করেছে তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। মিডিয়ার উপর আরোপকৃত সকল বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করতে হবে। সরকার সন্ত্রাসীদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আর ১৬ কোটি মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এ সরকারের বিদায় ছাড়া দাবি আদায় সম্ভব না। এ জন্য সকলে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
কবি আবদুল হাই সিকদার বলেন, আমরা এই সরকারকে কোনোদিন ক্ষমা করবো না কারণ, এই সরকার একের পর এক সাংবাদিকদের উপর হামলা করছে। এখন হয়তো এসবের বিচার পাবো না। তবে, ভবিষ্যতে প্রত্যেকটির জবাব দেয়া হবে, এখন ভয়ে ভয়ে দিন কাটাতে হয়, কখন কি যে হয় বলা যায় না। কোটা আন্দোলনকারীর লাশ বুড়িগঙ্গায় ভাসে। এ অত্যাচারী সরকারের বিরুদ্ধে এ সব লাশ একদিন কথা বলবে।
১৭ আগস্ট সংহতি সমাবেশ
অবস্থান কর্মসূচি থেকে আগামী ১৬ আগস্টের (বৃহস্পতিবার) মধ্যে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতার করা না হলে পরের দিন ১৭ আগস্ট (শুক্রবার) জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদিক নির্যাতন বিরোধী সংহতি সমাবেশের ঘোষণা দেন বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ