ঢাকা, সোমবার 13 August 2018, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৫, ১ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

প্রয়োজন সঙ্গত ও সৃজনশীল ভূমিকা

‘কারাগারে সাত নেতা, বাকিরা পালিয়ে’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন মুদ্রিত হয়েছে প্রথম আলো পত্রিকায়। ১২ আগস্ট মুদ্রিত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের নির্মম হাতুড়ি পেটায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলামের পায়ের হাড় ভেঙ্গে গিয়েছে। আঘাত পেয়েছিলেন মেরুদণ্ড ও মাথায়। মাথার আঘাতটা ভাল হয়েছে কিন্তু মেরুদণ্ডের ব্যথা রয়ে গেছে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা পায়ের। শুধু তরিকুল ইসলামই নন, কোটা সংস্কারের আন্দোলনের সাথে যুক্ত বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের মারধরে আহত হয়েছিলেন। গত ৩০ জুন থেকে পরের এক সপ্তাহ ধরে চলা হামলায় ১২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তবে সরকারি হাসপাতালে তাদের ভাল করে চিকিৎসা করা হয়নি। পরে গোপনে চিকিৎসা নিয়ে তারা এক ধরনের পলাতক জীবন যাপন করছেন। পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন ১১ জন আন্দোলনকারী। একাধিক মামলায় এখনও কারাগারে আছেন ৭ জন শিক্ষার্থী। সব মিলিয়ে চাকরির জন্য আন্দোলন করতে গিয়ে স্বাভাবিক জীবন থেকেই দূরে থাকতে হচ্ছে আন্দোলন কারীদের। কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরতদের সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা যারা হলে থাকতাম তাদের কেউ এখন হলে থাকতে পারছি না। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে যারাই এ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম সবাই গুম এবং গ্রেফতার আতঙ্কে আছি। নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্তদেরও গ্রেফতার করা হচ্ছে, এতে এই আতঙ্ক বাড়ছে। তারপরও কোটা সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত আমরা নতুন কর্মসূচিতে আন্দোলন চালিয়ে যাব, গ্রেফতারকৃতদেরও নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।’
এমন চিত্রে উপলব্ধি করা যায়, কোটা আন্দোলনের কাঙ্খিত ফল এখনও অর্জিত হয়নি। সরকার প্রকাশ্যে কোটা আন্দোলনের দাবি মেনে নেয়ার কথা ঘোষণা করলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন এখনও লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বরং কোটা আন্দোলনের সাথে জড়িত নেতা-কর্মীদের ওপর চলছে নির্যাতন-নিপীড়ন। গণতান্ত্রিক সমাজে এমন আচরণ মেনে নেয়া যায় না। বর্তমানে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে তা কারো জন্যই মঙ্গলজনক বলে বিবেচনা করা যায় না। স্বস্তিতে নেই সরকারি দলও। পত্রিকান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, হঠাৎ করে নানা অরাজনৈতিক ইস্যু জনপ্রিয় আন্দোলনের বড় বিষয়ে পরিণত হওয়ার প্রবণতায় দুশ্চিন্তায় পড়েছে সরকারি দল আওয়ামী লীগ। দলটি আশঙ্কা করছে নির্বাচন সামনে রেখে এমন আরো আন্দোলন হতে পারে। আওয়ামী লীগের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা বলছেন, অরাজনৈতিক আন্দোলনগুলো জনপ্রিয়তা পেয়ে যাওয়ার পেছনে বড় কারণ দাবিগুলোর যৌক্তিকতা। আর আন্দোলন সংগঠিত হওয়া এবং তা ছড়ানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। এতে সরকার বিরোধী শক্তিও সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করছে। তাই আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সরকারকে শক্তি প্রয়োগ, গ্রেফতার ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ আরোপের মতো অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।
পর্যবেক্ষকমহল মনে করেন, যৌক্তিক আন্দোলনগুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকার দমন-পীড়নের নীতি গ্রহণ করেছে। সরকার হয়তো মনে করছে এই নীতির মাধ্যমে কোটা সংস্কার ও ছাত্র আন্দোলন আপাতত সামাল দেয়া গেছে। কিন্তু সমাজে বিক্ষুব্ধ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যদি আন্দোলনে নেমে পড়ে তখনও যৌক্তিক ভূমিকার বদলে সরকার কি দমন-পীড়নের নীতি গ্রহণ করবে? তখন দেশের পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাড়াবে? বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনে নামার আশংকা আছে। শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির দাবিটিরও সুরাহা হয়নি। কোটা সংস্কার আন্দোলনও আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে। এমন বাস্তবতায় দমন-পীড়নের পুরনো নীতির বদলে সরকারের সঙ্গত ও সৃজনশীল ভূমিকা গ্রহণ প্রয়োজন বলে পর্যবেক্ষকমহল মনে করেন। সরকার পরিস্থিতিকে কীভাবে মূল্যায়ণ করবে সেটাই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ