ঢাকা, সোমবার 13 August 2018, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৫, ১ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কোটি টাকার সড়কে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে ধস

খুলনা : টিপনা-কদমতলা সড়কের বেহালদশা -সংগ্রাম

খুলনা অফিস : বছর খানেক আগে ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার টিপনা-কদমতলা ৫ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার করা হলেও এরই মধ্যে সড়কের বিভিন্ন স্থান ডেবে গেছে, বিটুমিন উঠে গিয়ে ছোট-বড় অনেক গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ওইসব গর্তে ইট বিছিয়ে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে। ফলে জনসাধারণের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে বাহাদুরপুর সড়কের কার্পেটিং কাজ শেষ হয় মাত্র দেড় মাস আগে। বর্তমানে সড়কের অনেক জায়গার দুই পাড় ধসে পড়ছে। অনেক স্থানে বিটুমিন উঠে গিয়ে সড়কের উপর ছড়িয়ে পড়ছে। যা ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
শুধু টিপনা-কদমতলা বা বাহাদুরপুর সড়ক নয়; ডুমুরিয়া উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় চারটি অর্থবছরে ১৩৭টি সড়ক নতুনভাবে কার্পেটিং করা হয়। যার মধ্যে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে নতুন কার্পেটিং হয় অন্তত ১০ কোটি টাকার, আর ২ কোটি টাকার সংস্কার কাজ হয়। নতুনভাবে কার্পেটিং আর সংস্কার হওয়া সড়কের বেশির ভাগই অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে এমনই বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া অনেক প্রকল্পের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও বাস্তবায়ন দীর্ঘসূত্রতা দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে গেছে, ডুমুরিয়া উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় ১ হাজার ৩শ’ ৪৭ দশমিক ৩ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে।
এসব সড়কের মধ্যে ২০১৪-১৫ অর্থ বছর থেকে ২০১৭-১৮ অর্থ বছর অর্থাৎ বিগত চার অর্থ বছরে ৪টি প্রকল্পের মাধ্যমে ১৩৭টি সড়ক নতুনভাবে কার্পেটিং করা হয়। এর মধ্যে আইআরআইডিপি-২ প্রকল্পের আওতায় ২৪টি, ইউআইডিপি-২ এর আওতায় ৮১টি, কেডিআরআইডিপি-২ এর আওতায় ১৫টি এবং সাউথ-ওয়েস্ট প্রকল্পের আওতায় 
১৭টি সড়ক কার্পেটিং করা হয়। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরেই অন্তত ১০ কোটি টাকার নতুন সড়ক নির্মাণ হয়। যার অনেক কাজ এখনও চলমান রয়েছে। এছাড়া একই অর্থ বছরে ২ কোটি টাকার বীর উত্তম লেফট্যান্ট কর্ণেল এইচএমএ গফ্ফার রোড, মালতিয়া ও সাউথ মাগুরাঘুনা রোড, বানিয়াখালি জিসি-শরাফপুর-কৈয়া জিসি রোড, শলুয়া বাজার-রঘুনাথপুর বাজার থেকে রংপুর ইউপি অফিস রোড এবং খর্ণিয়া ইউপি অফিস থেকে শোভনা পশ্চিমপাড়া বাজার রোড সংস্কার করা হয়।
কিন্তু অভিযোগ উঠেছে এসব সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি হচ্ছে। ফলে কাজের মান অত্যন্ত খারাপ হচ্ছে। যার কারণে কিছু দিনের মধ্যে সড়কের মধ্যে খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়ে ফের বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া অনেক প্রকল্পের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও সময়মতো সঠিক সময়ে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। বছরের পর বছর অসম্পন্ন অবস্থায় পড়ে থাকছে। এতে প্রকল্পের আসল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়ক নতুনভাবে কার্পেটিং বা সংস্কার যাই হোক না কেন; কোন কাজ এস্টিমেট অনুযায়ী হচ্ছে না। প্রতিটি কাজেই ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হচ্ছে। ফলে দায়সারা গোচের কাজ হওয়ায় কিছু দিনের মধ্যে ফের চরম বেহাল দশায় পরিণত হচ্ছে। এছাড়া অনেক প্রকল্পের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও সময়মতো বাস্তবায়ন হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে সড়ক উন্নয়ন কাজ পড়ে থাকায় সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী প্রতিনিয়ত ডুমুরিয়া উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অফিসে দৌড়-ঝাঁপ শুরু করছেন। কিন্তু তাতেও তেমন ফল হচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কোন ভাবেই লাঘব হচ্ছে না। দুর্ভোগ থেকেই যাচ্ছে।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার দাস বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হচ্ছে। আর অল্প সময়ে সড়ক নষ্ট হওয়ার জন্য গাছপালা দায়ী করেছেন তিনি। তিনি বলেন, গ্রামীণ সড়কের পাশে অতিমাত্রায় গাছপালা থাকার কারণে বৃষ্টি হলেই সড়কে গাছপালার পানি সড়কে জমে থাকে। আর সড়ক কার্পেটিং করার সময় মাটি পাওয়া যায় না। ফলে অনেক সময় সঠিকভাবে কাজ করা সম্ভব হয় না।
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. শাহনাজ বেগম বলেন, অভিযোগ আসলে তদন্তমূলক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ব্যাপারে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ও খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেন, প্রতিটি সড়কে ওভার লোডেড গাড়ি চলাচল করছে। এছাড়া এখন বৃষ্টির মওসুম চলছে। যার কারণে সড়ক দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। তবে ইতোমধ্যে ডুমুরিয়া-বানিয়াখালি ও শাহাপুর-খুলনা সড়ক সংস্কারের জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আর অনিয়ম-দুর্নীতি ও প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের ব্যাপারে তদারকি বাড়ানো হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ