ঢাকা, মঙ্গলবার 14 August 2018, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৫, ২ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শ্রীনগরে ইউকে হেলথ কেয়ার ল্যাবরেটরিজ নামে ভেজাল ওষুধ কারখানা

শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ) সংবাদদাতা : মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে অনুমোদনহীন ভেজাল ঔষধ কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে। উপজেলার তন্তর-নওপাড়া সড়কের আটপাড়া ইউনিয়নের তারাটিয়া ব্রীজ সংলগ্ন পশ্চিম হাঁসারগাঁও নামক স্থানে গড়ে উঠেছে ইউকে হেলথ কেয়ার ল্যাবরোটরিজ (আয়ুর্বেদিক) নামে ভেজাল ঔষধ কারখানা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শ্রীনগর তন্তর নওপাড়া সড়কের পশ্চিম হাঁসারগাঁও গ্রামের প্রধান সড়কের পাশে নির্মিত দোতলা ভবনটিতে গড়ে উঠেছে সাইনবোর্ড বিহীন আয়ুর্বেদিক ঔষধ কারখানাটি। বাহির থেকে দেখে বোঝার কোন উপায় নেই এটি জীবনরক্ষাকারী একটি ঔষধ তৈরির কারখানা। ভিতরে প্রবেশ করে দেখা যায় অপরিষ্কার  অপরিছন্ন অবস্থায় হাতের স্পর্শে তৈরী করা হচ্ছে ঔষধ। কারখানার অপরিছ্ন্ন ফ্লোরে যত্রতত্রভাবে ফেলা রাখা হয়েছে ঔষধ তৈরীর বিভিন্ন উপকরণ। খুঁজে পাওয়া যায়নি কোন ফার্মাসিষ্ট। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ কারখানায় তৈরী করা যাবতীয় ভেজাল ঔষধ ঢাকার পাইকারী ঔষধের বাজার বাবু বাজারের মিটফোর্ডে বিক্রি করা হয় । অধিক লাভের আশায় দোকানীরা কিনে নেয় এসব ভেজাল ঔষধ। মিটফোর্ডের দোকানীদের মাধ্যমে এসব ভেজাল ঔষধ পরবর্তিতে ছড়িয়ে দেয়া হয় পুরো দেশের গ্রামগঞ্জের খুঁচরা বাজারে। ইউকে হেলথ কেয়ার ল্যাবরোটরিজ নামের ভেজাল ঐ ঔষধ কারখানার মালিক উপজেলার আটপাড়া ইউনিয়নের হাঁসারগাঁও গ্রামের জাকির হোসেন ও জাহিদ হোসেন। তারা উভয়েই মোঃ তোতা মিয়ার ছেলে। তারা দীর্ঘ দিন যাবত প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কারখানাটিতে যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন-মিনারেল ট্যাবলেট, কোল্ড-কফ নামক কাঁশির সিরাপসহ বিভিন্ন প্রকার ভেজাল ঔষধ তৈরী করছে। কারখানাটির অবস্থান উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামে হওয়ায় এখন পর্যন্ত প্রশাসনের নজরদারির বাইরেই রয়ে গেছে।

প্রতিষ্ঠানটির কর্মরত ম্যানেজার মো. সোয়েব (৬০) সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে কিছু না বলে তারাহুরো করে কারখানার মেশিন বন্ধ করে দেন। ঔষধ তৈরী করার বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে সে এব্যাপারে কিছু জানেন না বলে মালিক পক্ষের সাথে কথা বলার জন্য অনুরোধ করেন। কারখানায় কর্মরত ইউনিফর্ম বিহীন নোংরা অপরিছ্ন্ন পোশাক পড়া আরো কয়েক জন মহিলা শ্রমিকের দেখা মিলে। তারা জানান, কারখানার মালিক তাদের দৈনিক মজুরি প্রদান করেন তাই তারা কাজ করেন।

শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার, মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন, শ্রীনগর উপজেলায় কোন ঔষধ কারখানা আছে, এটি আমাদের জানা ছিল না। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ সৈয়দ রেজাউল ইসলাম জানান, খোঁজ খবর নিয়ে এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এভাবে গ্রামে ভেতরে ঔষধ কোম্পানী হতে পারে না। আর সাইন বোর্ড ব্যবহার না করার পেছনেও অবশ্যই রহস্য রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ