ঢাকা, মঙ্গলবার 14 August 2018, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৫, ২ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রংপুরের বিভিন্ন হাটে কুরবানির পশুর বাজার জমে উঠছে

মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, রংপুর অফিস : রংপুর মহানগরী সহ জেলার ৮ উপজেলার বিভিন্ন হাটে পবিত্র ঈদুল আজ্হা উপলক্ষে কোরবানির গরু-ছাগল আসতে শুরু করেছে। ফলে রংপুর বিভাগের ঈদুল আজহার কুরবানির প্রাণির বাজার জমে উঠতে শুরু করেছে। 

গবাদি প্রাণির কারবারীরা জানিয়েছেন- গত বছর কুরবানির জন্য দেশি গরুর চাহিদা ছিল বেশি। এবারও দেশী গরুর চাহিদা শীর্ষে থাকবে বলে তাঁরা আশা করছেন। তবে চোরাই পথে আসা ভারতীয় গরুর আমদানি প্রতিরোধ করা না গেলে দেশী গরুর খামারীরা এবারও মারাত্মক আর্থিক এবং ব্যবসায়ীক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে তাঁরা আশংকা প্রকাশ করেছেন। এ জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রশাসন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের সজাগ থাকার আহবান জানিয়েছেন এই অঞ্চলের খামারীরা। 

রংপুর মহানগরীর লালবাগ হাট, খলিশাকুড়ির হাট, নিসবেতগঞ্জ হাট, নজিরেরহাট, কেরনিরহাট, চকইসবপুর হাট, বুড়িরহাট, শুকানচকি হাট এবং ভুরারঘাট হাট ছাড়াও জেলার বিভিন্ন হাট যেমন, মিঠাপুকুর উপজেলার জায়গীরহাট, বালারহাট, রানীপুকুর হাট, শুকুরেরহাট, শঠিবাড়ী হাট, বৈরাতিহাট, শাল্টি গোপালপুর হাট, পাইকোরের হাট, পীরগঞ্জ উপজেলার ভে-াবাড়ীহাট,  চতরাহাট, শানেরহাট, পীরেরহাট, মাদারগঞ্জহাট, লালদিঘহিাট, বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুরহাট, পদাগঞ্জহাট, বদরগঞ্জহাট, লালদিঘীহাট, ট্যাক্সেরহাট,  তারাগঞ্জ উপজেলার  বুড়িরহাট, ইকরচালীহাট, ডাঙ্গিরহাট, তারাগঞ্জহাট, সদর উপজেলার মমিনপুরহাট, পানবাজারহাট, পাগলাপীর হাট, পালিচড়া হাট, বুড়িরহাট, গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ীহাট, বড়াইবাড়ীহাট, কাউনিয়া উপজেলার খানসামাহাট, টেপামধুপুরহাট, মীরবাগহাট, পীরগাছা উপজেলার বড়দরগা হাট, কালিগঞ্জ হাট পাওটানা হাট, দামোচচাকলা হাট, পীরগাছাহাট, অন্নদানগর হাট, কৈকুড়িহাট, কান্দিরহাট, সৈয়দপুরহাট, দেউতিরহাট সহ বিভিন্ন বড় হাট গুলোতে কোরবাণীর প্রণী সবচেয়ে বেশী আমদানি এবং কেনা-বেচা হয়ে থাকে। হাটে আসা ক্রেতারা জানান,  কোরবানির ঈদ এখনও কয়েক দিন বাকি আছে। তাই একটু একটু করে হাট জমে উঠছে। গত বুধবার থেকে কিছু ব্যবসাীরা হাটে গরু নিয়ে আসা শুরু করেছেন। তবে বাজারে ক্রেতার সংখ্যা এখনও কম। হাতে গোনা কয়েকজন ক্রেতা গরু দেখছেন, আর দর দাম পরখ করছেন। দু’একদিনের মধ্যে হাট জমে উঠতে পারে। 

রংপুর প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রংপুর বিভাগের আট জেলায় ছোট- বড় ১ লাখ ১০ হাজার ৫২০ টি গরুর খামার গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে  সবেচেয়ে বেশি খামার রয়েছে রংপুর জেলায় ৩৩ হাজার ১৫৫টি এং নীলফামারী জেলায় ১৭ হাজার ৫৮৬ টি। স্থানীয় সরকারি পশু চিকিৎসকদের সহযোগিতায় এ বছর রংপুর বিভাগের  আট জেলায় করবানি যোগ্য  প্রায় ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৪৯৬টি পশু  মোটাতাজাকরণ হচ্ছে। এর মধ্যে ছাগল ও ভেড়া ১ লাখ ৭৬ হাজার ১২৫টি এবং গরু, মহিষ, বলদ, ষাঁড় ও গাভী ৩ লাখ ৯০ হাজার ৩৭০টি। 

রংপুর বিভাগীয় প্রাণি সম্পদের উপ পরিচালক ডক্টর মাহবুবুর রহমান জানান, ঈদে ক্রেতারা যাতে সুস্থ সবল গরু পেতে পারে  সেদিক লক্ষ্য রেখেই খামারীদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। তিনি আরো জানান, বাজারের স্টোরেজ জাতীয় ট্যাবলেট গরুর জন্য ক্ষতিকর । এগুলো খাওয়ালে  গরু ফুলে যায়, শ্বাসকষ্ট হয় এবং কোন এক সময় মারা যায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ