ঢাকা, মঙ্গলবার 14 August 2018, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৫, ২ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মংলা বন্দরে দু’দফায় সহস্রাধিক রিকন্ডিশন গাড়ি নিলামে উঠলেও দরপত্রে ক্রেতাদের আশানুরূপ সাড়া নেই

খুলনা অফিস : মংলা বন্দরে রিকন্ডিশন গাড়ি নিলাম দরপত্রে ক্রেতাদের আশানুরূপ সাড়া মিলছে না। তাই এ খাতে পূরণ হচ্ছে না কাস্টমসের শুল্ক ও রাজস্ব আদায়ের টার্গেট। গত দু’মাসে বন্দর ইয়ার্ডে পড়ে থাকা সহস্রাধিক গাড়ির নিলাম ওঠানো হয়। দুই দফায় এ নিলাম আহবানের বিপরীতে বিভিন্ন ব্রান্ডের মাত্র ৩৩টি গাড়ির জন্য দরপত্র জমা পড়ে। প্রথম দফায় ৪৬২টি গাড়ির বিপরীতে জমা পড়া ১৪টি দরপত্রে বুক ভ্যালুভেশনও পূরণ না হওয়ায় নিলামে অংশগ্রহণকারীদের কেউ গাড়ি পায়নি। এ অবস্থায় দ্বিতীয় দফায় আর ৫৯১টি গাড়ি নিলামে তোলা হয়। জমাপড়া দরপত্রের যাছাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কাস্টমসের নিলাম প্রক্রিয়াকারি প্রতিষ্ঠান এক্সপো ট্রেডাস।  এদিকে চলতি মাসের শেষের দিকে বিভিন্ন ব্রান্ডের আরও প্রায় ৬শ’ রিকন্ডিশন গাড়ি নিলামে ওঠার প্রক্রিয়া চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। গাড়ি নিলামের এ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও এটা শুল্ক আদায়ের কৌশল হিসেবে দেখছে কাস্টমস।  

মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ট্রাফিক অফিসার মিজানুর রহমান জানান, এ বন্দর ব্যবহারকারি গাড়ি আমদানিকারকের সংখ্যা ২শ’ থেকে ২৫০শ’জন। এসব আমদানিকারকরা বিদেশ থেকে এ বন্দরের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্রান্ডের রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানি করে থাকে। আর এ আমদানিকারকদের কম বেশি গাড়ি রয়েছে বন্দর জেটি, শেট ও ইয়ার্ডে। কাস্টমসের নিয়োগকৃত নিলামকারী প্রতিষ্ঠান এক্সপো ট্রেডার্সের একটি সূত্র জানায়, নিয়ম অনুযায়ী আমদানিকৃত গাড়ি বন্দরে পৌঁছার এক মাসের মধ্যে ছাড় করিয়ে না নিলে শুল্ক ও রাজস্ব আদায়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তা নিলামে তুলতে পারে। এ কারণে বন্দরে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা গাড়ির শুল্ক ও রাজস্ব আদায়ে নিলামে তোলার উদ্যোগ নেয় কর্তৃপক্ষ। গত ১৪ জুন প্রথম দফায় বিভিন্ন আমদানিকারকদের ৪৬২টি গাড়ির জন্য দরপত্র আহ্বান করে কাস্টমসের নিয়োগকৃত নিলামকারী প্রতিষ্ঠান এক্সপো ট্রেডার্স। গত ২৮ জুন দরপত্র দাখিলের শেষদিনে মাত্র ১৪টি দরপত্র জমা পড়ে। দ্বিতীয় দফায় গত ২৯ জুলাই আরও ৫শ’ ৯১টি গাড়ি দরপত্র আহ্বান করে নিলামকারী প্রতিষ্ঠানটি। এতে মাত্র ১৯টি দরপত্র জমা পড়ে। এ সকল জমা পড়া দরপত্রের যাছাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানায় নিলামকারী প্রতিষ্ঠান এক্সপো ট্রেডার্স।  প্রতিষ্ঠানটির খুলনার ব্যবস্থাপক দেলোয়ার হোসেন জানান, প্রথম দফার নিলাম দরপত্র খোলার পর ১টি নিশান সিভিলিয়ন বাসের জন্য ১৬ লাখ ৫৮ হাজার টাকা, ২টি কোস্টার বাসের জন্য দু’টি দরপত্রে একটি ২৩ লাখ ২৩ হাজার, অন্যটি ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, টয়োটা নোয়া গাড়ির জন্য ১৯ লাখ ৯২ হাজার ও ১৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকার দুটি দরপত্র জমা পড়ে। এছাড়া করোলা ফিল্ডার গাড়ির বিপরীতে দরপত্র জমা পড়েছে ৩০ হাজার টাকা, করোলা এক্সিও, টয়োটা প্রিমিও, টয়োটা মার্ক এক্স ও টয়োটা হাইএস গাড়ির প্রত্যেকটির জন্য ৫০ হাজার টাকার দরপত্র জমা হয়। টয়োটা লেক্সাস এনএক্স ও টয়োটা হাইএস সুপার জিএলের জন্য ৩০ হাজার টাকা করে। দু’টি টয়োটা ভিটজ, টয়োটা টয়োএস পিকআপ ও টয়োটা প্রিমিও গাড়ির বিপরীতে দরপত্র জমা পড়ে ৫ লাখ ১৫ হাজার, ৭ লাখ ২৫ হাজার, ২ লাখ ও ৫ লাখ টাকার। জমা পড়া ওই ১৪টি দরপত্রে বুক ভ্যালুভেশনও পূরন না হওয়ায় নিলামে অংশগ্রহণকারী কেউ গাড়ি পায়নি । দেলোয়ার হোসেন আরও বলেন, নিলামে অংশগ্রহণকারিরা তাদের ইচ্ছে মতো দর প্রস্তাব করেছেন। আর এতে গাড়ির বাজার মূল্য কভার করে না। তবে ভ্যালুয়েশনের ৩০ শতাংশ দর প্রস্তাব করেও একজন গ্রাহক গাড়ি পেয়ে যেতে পারেন। তিনি আরও বলেন, নিলামে অংশগ্রহণ করলেও গাড়ি পাওয়া যাবে তা নয়। কাস্টমস শুল্ক ও রাজস্ব টার্গেট বা ভ্যালুয়েশনের দিকে নজর রাখতে হচ্ছে। এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই নিলাম প্রক্রিয়ায় জমা পড়া দরপত্র মূল্যয়ন কমিটিতে পাঠানো হয়। 

এদিকে নিলামে ওঠা গাড়ি ছাড় করে নেয়ার সুযোগ রয়েছে আমদানিকারকদের। আর অনেকে ছাড় করে নিচ্ছেন নিজেদের আমদানিকৃত গাড়ি। 

অপর দিকে চলতি অর্থ বছরের প্রথম দফা ১৪ জুন ও দ্বিতীয় দফায় ২৯ জুলাই  ওই নিলাম প্রক্রিয়া শেষ হতে না হতেই তৃতীয় দফায় আরও বিভিন্ন ব্র্রান্ডের অন্তত ৬শ’ গাড়ি নিলামে ওঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে। এ নিয়ে আগামী দু’একদিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণসহ চলতি মাসেই পত্রিকায় বিজ্ঞাপনসহ দরপত্র বিক্রি ও শেষ সপ্তাহে নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।  এ নিলাম প্রক্রিয়া নিয়ে রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানিকারক মেসার্স স্টারপাত শিপিং-এর মালিক ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলাম বলেন, ব্যাংক লোন, এলসি খোলাসহ নানা কাজ করতে হয় একজন আমদানিকারককে। আর আমদানিকৃত গাড়ি ছাড়া করতে একটি দেরি হলে প্রতিষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠানের মালিক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন। তবে এ নিয়ে আর কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। 

এদিকে মংলা বন্দর ব্যবহারকারি শিপিং এজেন্ট এইচ এম দুলাল জানান, তবে কাস্টমসের নিলাম প্রক্রিয়ায় ত্রুটি-বিচ্ছুতি রয়েছে। এয়াড়া প্রচার-প্রচারণার অভাবে  আগ্রহীরা নিলামে খোঁজ পায় না এবং নিলামে অংশ নিতে পারে না। তিনি অভিযোগ করেন, নামমাত্র এ নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাস্টমসের একটি চক্র স্বার্থন্বেষী গাড়ি আমদানিকারকদের স্বার্থ রক্ষা করছে। প্রকাশ্য নিলাম প্রক্রিয়া প্রচার-প্রচারণা হলেও বিপুল আশানুরূপ ক্রেতার সাড়া মিলবে বলেও জানান তিনি।  গাড়ি নিলাম প্রক্রিয়াকারি প্রতিষ্ঠানে অপর একটি সূত্র জানায়, গাড়ি আমদানির পর নির্ধারিত সময় আমদানিকারকরা বিভিন্ন অজুহাতে ছাড় ও শুল্ক পরিশোধে বিলম্ব করে থাকে। তাই গাড়ির জট ও শুল্ক জটিলতা দূর সহ রাজস্ব আদায়ের জন্য দীর্ঘদিন পড়ে থাকা গাড়ি নিলামে তোলা হয়।  আর নিলামে তোলা মানেই মূলতঃ গাড়ি আমদানিকারকের ওপর দ্রুত গাড়ি ছাড় করিয়ে নেয়ার চাপ প্রয়োগ ছাড়া আর কিছু নয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ