ঢাকা, মঙ্গলবার 14 August 2018, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৫, ২ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অভিযোগপত্রের আগে হাজিরা বিধান তুলে দেয়ার সুপারিশ সংসদীয় কমিটির

সংসদ রিপোর্টার: ফৌজদারি মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল না হওয়া পর্যন্ত আসামীদের আদালতে হাজিরা দেওয়ার বিধান তুলে দেওয়ার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। এক্ষেত্রে কমিটি নতুন আইন প্রণয়নেরও সুপারিশ করেছে। 

গত রোববার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি বৈঠকে এই সুপাশি করা হয়। এ বিষয়ে কমিটির যুক্তি, আসামীদের হাজিরার নামে হয়রানির শিকার হতে হয়, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। অবশ্য কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার বিষয়টি নিয়ে তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে বলে বৈঠককে জানিয়েছে।

আবদুল মতিন খসরুর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, মো. শামসুল হক টুকু, জিয়াউল হক মৃধা, সফুরা বেগম ও আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি আবদুল মতিন খসরু বলেন, আমরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখতে পাই এফআইআর (প্রাথমিক তথ্য বিবরণী) দেওয়ার অনেক পরে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। এই সময়টায় যাদের আসামী করা হয়, তাদের কোর্টে নির্দিষ্ট সময় পর পর আদালতে হাজিরা দিতে হয়। আমরাও মনে করি, এটা মানবাধিকারের লঙ্ঘন। এমন হওয়া উচিত, একবার সারেন্ডার করে জামিনে যাবে, অভিযোগপত্র দেওয়ার আগ পর্যন্ত ‘অন কল’থাকবে। তাদের মাসে মাসে হাজিরা দেওয়ার দরকার পড়বে না। এই লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে কথা বলে মন্ত্রণালয়কে একটা আইন করার জন্য বলা হয়েছে। অভিযোগপত্র দাখিলের আগে লিগ্যাল প্রসিডিং শুরু হয় না। এর আগে আসামীর কোর্টে যাওয়া না যাওয়ায় কিছু যায়-আসে না।

আসামীদের হাজিরা দেওয়ার নানা প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরে আবদুল মতিন খসরু আরও বলেন, ‘আসামীদের মাস অন্তর কোর্টে যেতে উকিল-পেশকার থেকে শুরু করে আঠারো ঘাটে টাকা দিতে হয়। একটা পরিবার এমনিতেই ধ্বংস হয়ে যায়। ন্যায়বিচার পেতে এসে মানুষ হয়রানির শিকার হয়। বিচারের নামে বিচারপ্রার্থীরা অবিচারের শিকার হয়। এটা বন্ধ করার জন্য সুপারিশ করেছি।’

বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখার কথা বলে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, হাজিরা দেওয়ার ব্যাপারে ফৌজদারি কার্যবিধিতে বলা আছে। তদন্তের সুবিধার্থে হাজিরা দেওয়ার ব্যাপারটি আছে। সংসদীয় কমিটি যে সুপারিশ করেছে, ওই জায়গাটা পরীক্ষা করে দেখতে হবে।

এদিকে, বৈঠকে পিপি ও এপিপিদের বেতন-ভাতা সম্মানজনকভাবে বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। সংসদীয় কমিটির বৈঠক সম্পর্কিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে কমিটি আদালতে ন্যায়বিচার প্রার্থীদের বিভিন্ন প্রকার অবিচার, হয়রানি ও অপমানিত হওয়ার কারণগুলো নির্ণয় করে সমাধান করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে। এছাড়া বৈঠকে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য অবিলম্বে বিচার প্রক্রিয়া ঢেলে সাজানোর সুপারিশ করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ