ঢাকা, মঙ্গলবার 14 August 2018, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৫, ২ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চট্টগ্রামে কুরবানির পশুর পর্যাপ্ত মজুদ ॥ দামও সহনীয় থাকবে

নুরুল আমিন মিন্টু, চট্টগ্রাম ব্যুরো : ঈদুল আজহার আর মাত্র আটদিন বাকি। চট্টগ্রামে কুরবানির পশুরহাটগুলো কেনাবেচার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। খামারিরা পশু বাজারে তোলার অপেক্ষায় রয়েছে। কিছু কিছু খামারে কুরবানির জন্য পশু বেচাকেনা হচ্ছে। কুরবানিদাতারা খামার থেকে পছন্দ মতো পশু কিনছেন। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাপকহারে পশু আসছে। যার ফলে কুরবানির পশু ঘাটতি হবে না এবং দামও সহনীয় থাকবে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্যমতে, চট্টগ্রাম মহানগর এবং ১৪ উপজেলায় চলতি বছর ৬ লাখ ৫৫ হাজার ৪১৪টি পশু জবাইয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কুরবানিযোগ্য পশু মজুদ আছে ৫ লাখ ৮১ হাজার ৬৩৪টি। সেই হিসেবে চট্টগ্রামে ৭৩ হাজার ৭৩০টি পশু ঘাটতি আছে। 

তবে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা বলছেন, নিজস্ব উৎপাদিত পশু দিয়ে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেও এ বছর কোরবানিতে পশুর ঘাটতি হবে না। কারণ কুরবানির হাটগুলোতে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে চট্টগ্রামে পশু প্রবেশ করবে। সুতরাং কোনো ধরনের সংকট হবে না।

গতবছর চট্টগ্রাম নগরী ও বিভিন্ন উপজেলায় পশু জবাই হয়েছিল প্রায় ৫ লাখ ৯৫ হাজার ৮৩১টি। এর মধ্যে চার লাখ ১০ হাজারই ছিল গরু। বাকি পশুর মধ্যে ছাগল-ভেড়া ছিল এক লাখ ৮২ হাজার ৪৪১ এবং মহিষ ছিল ৩ হাজার ৩টি।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মীরসাইয়ের ২৩০ খামারে গরু মজুদ রয়েছে ২৭ হাজার ৬, ছাগল-ভেড়া রয়েছে ১১ হাজার ৪৭৬ ও মহিষ আছে ৫ হাজার ২৬৬টি। সীতাকুন্ডের ১৫০ খামারে গরু রয়েছে ২৪ হাজার ৫৪৭টি, ছাগল-ভেড়া ৬ হাজার ৬৩০ ও মহিষ রয়েছে ১ হাজার ৬৪৬টি। সন্দ্বীপের ১২০ খামারে গরু ২৫ হাজার ৫৪৭, ছাগল-ভেড়া ২০ হজার ৩৮৩ ও মহিষের মজুদ রয়েছে ৮ হাজার ৫৫২টি।

হাটহাজারীর ৫৫০ খামারে গরু রয়েছে ২৬ হাজার ৮১, ছাগল-ভেড়া ১১ হাজার ৭৪৯ ও মহিষ মজুদ আছে ২ হাজার ৬৬৮টি। রাউজানের ৪৩০ খামারে গরু আছে ২৩ হাজার ৮৮৬, ছাগল-ভেড়া ৭ হাজার ৯৬ ও মহিষ রয়েছে ২ হাজার ৩৬৬টি। রাঙ্গুনিয়ার ৩৯৮ খামারে গরু রয়েছে ২৬ হাজার ১৯২, ছাগল-ভেড়া ৮ হাজার ১২৯ ও মহিষ আছে ২ হাজার ১৫৬। ফটিকছড়িতে ২৩৯ খামারে গরু আছে ২৭ হাজার ৮৬৬, ছাগল-ভেড়া ১১ হাজার ২৪০ ও মহিষ রয়েছে ২ হাজার ৭২৫টি। বোয়ালখালীতে ৪৬৬ খামারে গরু মজুদ রয়েছে ২৭ হাজার ৫৭৪, ছাগল-ভেড়া ৮ হাজার ৩৪৬ ও মহিষ আছে ৫ হাজার ৮৯টি।

আনোয়ারায় ৮১২ খামারে গরু রয়েছে ২৭ হাজার ৩০১, ছাগল-ভেড়া ১০ হাজার ৯৪৩ ও মহিষ মজুদ রয়েছে ৪ হাজার ১৫৫টি। পটিয়াতে ৯০৭ খামারে গরু আছে ৪০ হাজার ৩৬২, ছাগল-ভেড়া ১০ হাজার ৩৭৭ ও মহিষ রয়েছে ২ হাজার ৬১৫টি। চন্দনাইশের ৬৮৪ খামারে গরু আছে ২২ হাজার ৬৭০, ছাগল–ভেড়া ৬ হাজার ৯২৫ ও মহিষের মজুদ আছে ১ হাজার ২৪৫টি। সাতকানিয়ায় ৩৯৮ খামারে গরু রয়েছে ২৫ হাজার ৩৮৩, ছাগল-ভেড়া ৭ হাজার ৭৩৮ ও মহিষ রয়েছে ২ হাজার ১৫৫টি। বাঁশখালীতে ২০৪ খামারে গরু রয়েছে ২০ হাজার ৪৮৮, ছাগল-ভেড়া ৮ হাজার ৮৪৮ ও মহিষ আছে ১ হাজার ৯৩০টি। লোহাগাড়ার ৭৪১ খামারে ২৬ হজার ৩৭১টি গরু, ৯ হাজার ৩৫৪টি ছাগল-ভেড়া ও ১ হাজার ২৭৩টি মহিষ মজুদ রয়েছে।

মহানগরীর ডবলমুরিংয়ের ১২৭ খামারে গরু আছে ৫ হাজার ৩৪৫, ছাগল-ভেড়া ৮৩৫ ও মহিষের মজুদ আছে ৯৫টি। পাঁচলাইশের ২২৪ খামারে গরু আছে ১২ হাজার ৪৫৪, ছাগল-ভেড়া ৭৮০ ও মহিষ রয়েছে ২৭০টি। কোতোয়ালীতে ১০৭ খামারে গরু মজুদ রয়েছে ৩ হাজার ৪৭০, ছাগল-ভেড়া রয়েছে ৩৯০ ও মহিষ মজুদ আছে ২৫টি।

জানতে চাইলে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রেয়াজুল হক বলেন, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে আমাদের পশু মজুদ রয়েছে ৫ লাখ ৮১ হাজার ৬৩৪টি। এখনো আমাদের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় পশুর সংখ্যা কম রয়েছে। মওসুমী গরু ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে গরুর সরবরাহ করছেন। ঘাটতিটা সহজে পূরণ হয়ে যাবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ