ঢাকা, মঙ্গলবার 14 August 2018, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৫, ২ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কোটা বাতিলের সুপারিশ কমিটির, তবে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ে আদালতের মতামত চাইবে সরকার

সামছুল আরেফীন : সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার, বাতিল ও পর্যালোচনায় গঠিত সরকারি কমিটির প্রাথমিক সুপারিশ হচ্ছে, কোটা প্রায় পুরোটাই উঠিয়ে দেয়া। এর পাশাপাশি মেধাকে প্রাধান্য দেয়ারও সুপারিশ এসেছে। তবে মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানাতে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও ওই কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ শফিউল আলম। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে বিদ্যামান কোটা যেমন অস্বাভাবিক তেমনি পুরোপুরি বাতিল করাও সম্ভব নয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, কমিটির প্রাথমিক সুপারিশ হলো কোটা অলমোস্ট (প্রায় পুরোটাই) উঠিয়ে দেয়া, মেধাকে প্রাধান্য দেয়া। তবে সুপ্রিম কোর্টের একটি রায় আছে যে মুক্তিযোদ্ধা কোটা প্রতিপালন করতে হবে। সংরক্ষণ করতে হবে। যদি পদ খালি থাকে, তবে তা খালি রাখতে হবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, সরকার আদালতের কাছে মতামত চাইবে। যদি আদালত বাতিল করে দেন, তবে কোটা থাকবে না। আর যদি আদালত বলেন, ওই অংশটুকু (মুক্তিযোদ্ধা কোটা) সংরক্ষণ করতে হবে, তাহলে ওই অংশ বাদে বাকি সবটুকু উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। এটা হলো প্রাথমিক তথ্য।
আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, তারা (কমিটি) নিজেরাও ওই রায় বিশ্লেষণ করেছিল। তবে পুরোপুরি বুঝতে পারছে না। এ জন্য আদালতের মতামত চাওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, এখন আমাদের সময় এসেছে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতায় যাওয়া।
পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী সামনে আসবে কীভাবে, এমন প্রশ্নের জবাবে শফিউল আলম বলেন, তাঁরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছেন, তারাও (পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী) অনেক অগ্রসর হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার গত ২ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। প্রথমে কমিটিকে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার সময় দেয়া হয়েছিল। পরে সময় বাড়িয়ে আরও ৯০ কর্মদিবস দেয়া হয়।
দেশে প্রথম শ্রেণীর সরকারি চাকরিতে এখন সব মিলিয়ে ৫৬ শতাংশ কোটা রয়েছে। সম্প্রতি শিক্ষার্থীরা পুরো কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করলেও কোটার একটি বড় অংশ, অর্থাৎ ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং তাদের নাতি-নাতনিদের জন্য সংরক্ষিত থাকায় সেটি নিয়েই সবচেয়ে বেশী আলোচনা হচ্ছে। এর বাইরে নারীদের জন্য ১০ শতাংশ, অনগ্রসর জেলার বাসিন্দাদের জন্য ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য ৫ শতাংশ আর প্রতিবন্ধীদের জন্য এক শতাংশ কোটা বর্তমান ব্যবস্থায় সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।
এই ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে বেশ কয়েক মাস ধরে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে গত ১১ই এপ্রিল বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে দেয়া একটি ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুরো কোটা ব্যবস্থা বাতিলের ঘোষণা দেন। তবে গত ১২ই জুলাই তিনি আবার সংসদে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশ থাকায় সেটি সরকারের পক্ষে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
৩০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা : গত ১১ জুলাই সাংবাদিক সম্মেলন করে সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় হস্তক্ষেপ করা হবে না বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক মোজাম্মেল হক। উচ্চ আদালতের রায়ের বরাত দিয়ে মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধা কোটা থেকে পূরণ করার সুযোগ থাকলেও ৩০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাই এই আদেশ অগ্রাহ্য করে বা পাশ কাটিয়ে বা উপেক্ষা করে ভিন্নতর কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ নেই। এটা করা হলে তা আদালত অবমাননার শামিল হবে।
মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল সম্ভব নয়: ১২ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের যে কোটা তাতে হাইকোর্টের রায় রয়ে গেছে। সেখানে হাইকোর্টের রায়ে আছে মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা সংরক্ষিত থাকবে। তাহলে ওই কোটার বিষয়ে আমরা কীভাবে কোর্টের ওই রায় ভায়োলেট করবো। সেটা তো আমরা করতে পারছি না। এই রায় অবমাননা করে তখন তো আমি কনটেম্প অব কোর্টে পড়ে যাবো। এটা তো কেউ করতেই পারবে না। তিনি আরও বলেন, যেখানে কোটা পূরণ হবে না, কোটার যেটা খালি থাকবে, তা মেধার তালিকা থেকে নিয়োগ হবে। এটা আমরা করে দিয়েছি। গত কয়েক বছর থেকেই এই প্রক্রিয়া চালু রয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংরক্ষণে আদালতের মূল রায় নয় : মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংরক্ষণে আদালতের যে রায়ের কথা বলা হচ্ছে, তা মূল রায় নয়। এই অংশটা আদালতের পর্যবেক্ষণ। পর্যবেক্ষণ মানা বাধ্যতামূলক নয়। এ কথা ফেসবুকে লিখেছেন সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদক গোলাম মোর্তুজা। তার ফেসবুক স্ট্যাটাসটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো- আমাদের কান চিলেই নেয়।
মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংরক্ষণে আদালতের যে রায়ের কথা বলা হচ্ছে, তা মূল রায় নয়। এই অংশটা আদালতের পর্যবেক্ষণ (the reservation of 30%quota the children of fredoom fighter Shall be followed strictly, aû case if the quota canÕt be filled up the concerned post be kept vacant).
মূল রায় নয়। মূল রায় মানা বাধ্যতামূলক। অমান্য করলে আদালত অবমাননা করা হয়। পর্যবেক্ষণ মানা বাধ্যতামূলক নয়। এই পর্যবেক্ষণেও নাতি- পুতিদের (এৎধহফ ঈযরষফৎবহ) কথা লেখা হয়নি।
মুন সিনেমা হলের মামলায় আদালতের তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিষয়ে পর্যবেক্ষণ ছিল, সংসদ চাইলে আরও দুই মেয়াদ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে পারে। সরকার তা মানেনি। এতে আদালত অবমানাও হয়নি। কারণ এটা মূল রায় ছিল না, ছিল পর্যবেক্ষণ।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী প্রথম দিন যা বলেছেন, দ্বিতীয় দিন সংসদেও প্রধানমন্ত্রী সেকথাই বলেছেন। হয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীকে ভুল বোঝানো হয়েছে, বা তিনি ভুল বুঝেছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছেও সঠিক তথ্য পৌঁছায়নি বলেই মনে হচ্ছে।
তিনি গত ১১ এপ্রিল কোটা বাতিলের যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ২ মে বলেছিলেন ‘কোটা বাতিল হয়ে গেছে’- তার থেকে সরে এসে গতকাল বলেছেন, আদালতের রায় থাকায় কোটা বাতিল করা যাবে না।
তাছাড়া এটা মুক্তিযোদ্ধা কোটা থাকা না থাকা বিষয়ক মামলা ছিল না। এটা ছিল এড়াবৎহসবহঃ ড়ভ ইধহমষধফবংয াং ঔধসধষ টফফরহ ঝযরশফবৎ (২০৬২ ড়ভ ২০১৩) অন্য একটি মামলার পর্যবেক্ষণ।
কোটা পদ্ধতি কিভাবে এলো?
১৯৭১ সালে যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, তাদের সন্তানদের সুবিধা দেবার জন্য প্রথমে এ কোটা চালু করা হয়েছিল। ১৯৭২ সালে প্রথম এই কোটা ব্যবস্থা চালু করা হয়। কিন্তু ক্রমান্বয়ে এই কোটার পরিধি বেড়েছে। এখন মুক্তিযোদ্ধাদের নাতী-নাতনীদের জন্য এ কোটা প্রযোজ্য হচ্ছে। ৬৪টি জেলার জন্য কোটা আছে। মূলত দেশের অনগ্রসর মানুষকে সুবিধা দেবার জন্যই কোটা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল।
বাংলাদেশের পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সূত্র মতে, প্রথম শ্রেণীর চাকরিতে মোট পাঁচটা ক্যাটাগরিতে কোটার ব্যবস্থা রয়েেেছ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা কোটায়।
প্রথম শ্রেণীর সরকারি চাকরিতে কোটা:
*    মুক্তিযোদ্ধা কোটা: ৩০ শতাংশ
*    জেলা কোটা: ১০ শতাংশ
*    নারী কোটা: ১০ শতাংশ
*    উপজাতি কোটা: ৫ শতাংশ
*    প্রতিবন্ধী কোটা: ১ শতাংশ
কোটা সংস্কারের দাবিগুলো কী? 'বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র সংরক্ষণ পরিষদ'এর ব্যানারে যে পাঁচটি বিষয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চলছে সেগুলো হল-
*    কোটা-ব্যবস্থা ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা।
*    কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধাতালিকা থেকে শূন্য পদে নিয়োগ দেয়া
*    সরকারি চাকরিতে সবার জন্য অভিন্ন বয়স-সীমা- (মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে চাকরির বয়স-সীমা ৩২ কিন্তু সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য ৩০)
*    কোটায় কোনও ধরনের বিশেষ পরীক্ষা নেয়া যাবে না ( কিছু ক্ষেত্রে সাধারণ শিক্ষার্থীরা চাকরি আবেদনই করতে পারেন না কেবল কোটায় অন্তর্ভুক্তরা পারে)
*    চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় একাধিকবার কোটার সুবিধা ব্যবহার করা যাবে না।
আইন কী বলে: সংবিধানের তৃতীয় ভাগের ২৯ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ-লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকিবে।
এই অনুচ্ছেদের ২৯ এর (৩) এর (ক) তে বলা হয়েছে, নাগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশ যাহাতে প্রজাতন্ত্রের কর্মে উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব লাভ করিতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যে তাঁহাদের অনুকূলে বিশেষ বিধান-প্রণয়ন করা হইতে, রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না।
কোটা বাতিল করা সম্ভব?
কোটা পুরোপুরি বাতিল সম্ভব না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, এ ক্ষেত্রে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সংবিধানের ২৮(৪) এবং ২৯(৩)(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দেশের সব নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে কোটা পদ্ধতি চালু হয়েছিল। দেশের পিছিয়ে পড়া কোনও জনগোষ্ঠী, কোনও এলাকার জনগোষ্ঠী, ধর্মীয় সংখ্যালঘু, প্রতিবন্ধী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসহ বিভিন্ন সম্প্রদায় যদি সমান সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়, তাহলে তাদের সুযোগ দিতে সংবিধান সরকারকে ক্ষমতা দিয়েছে। এই ক্ষমতা বলেই কোটা পদ্ধতি চালু হয়েছিল। বিভিন্ন সময় যৌক্তিক কারণেই বিভিন্ন গোষ্ঠী ও মানুষের জন্য এই কোটা পদ্ধতির সৃষ্টি হয়েছে। সেই কারণগুলো এখনও সমাধান হয়নি বলে কোটা পুরোপুরি বাতিল করা যাবে না বলে মনে করেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক। তিনি বলেন, আমাদের বিভিন্ন জনগোষ্ঠী যেমন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, ধর্মীয় সংখ্যালঘু, প্রতিবন্ধী, তারপর বিশেষ ভৌগলিক এলাকার বিশেষ মানুষ এমন বিভিন্ন ধরনের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী আছে। তাদের পক্ষে রাষ্ট্রের বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া আমাদের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা আছে। শাহদীন মালিক বলেন, আমরা শতকরা ৫৬ ভাগ কোটা করে যে অস্বাভাবিক সমাধান করেছিলাম, ঠিক সেভাবেই কোটা শূন্যে নামিয়ে আনাও আমার দৃষ্টিতে একটা অস্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তিনি মনে করেন, কোটা শূন্য হলে বিভিন্ন বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর বঞ্চনা দীর্ঘস্থায়ী করা হবে, যা ১৯৭২ সালের সংবিধানের চেতনা ও ধারণার পরিপন্থী।
ভারতে কোটা পদ্ধতি আছে। আগে অনেক বেশি ছিল, এখন কিছুটা কম। এখন খাতগুলো কমে গেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে সিডিউল কাস্ট, সিডিউল ট্রাইব এবং অন্যান্য পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা। আগে এটা চাকরির ক্ষেত্রেও প্রবলভাবে ছিল। কিন্তু এ নিয়ে ভারতের আদালত একাধিকবার তাদের পর্যবেক্ষণ জানিয়েছে, ফলে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট একবার বলেছে, এই কোটা পদ্ধতিটি সরাসরি সংবিধানবিরোধী। পরে ভারত সরকার অবশ্য এ কারণে তাদের সংবিধানেও কিছু পরিবর্তন এনেছে। তখন সুপ্রিম কোর্ট কিছু কিছু ক্ষেত্রে কোটাকে বৈধ বললেও এর পরিমাণ যাতে ৫০ শতাংশের বেশি না হয়, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে বলেছে।
মেধার মূল্যায়ন সর্ম্পকে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায় হয়েছে এবং তাতে বলা হয়েছে, কোটাভিত্তিক নিয়োগ কখনও-ই মেধার চেয়ে বেশি হতে পারবে না।
এ বিষয়ে ড. আকবর আলী খান ও কাজী রকিবউদ্দীন আহম্মদ (এখন প্রধান নির্বাচন কমিশনার) একটি গবেষণা করেছেন। তাতে দেখা যায় যে, বাংলাদেশে বর্তমানে ২৫৭ প্রকারের কোটা আছে, যা ঐতিহাসিক এবং বিশ্বে বিরল ঘটনা। এ জাতীয় কোটার হিসেব-নিকাশ অতি জটিল একটি প্রক্রিয়া এবং তাতে ভুল হতে পারে। ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে সুবিধা দেয়ার সুযোগও থাকতে পারে।
বিশেষ করে পাবর্ত্য চট্টগ্রাম এলাকায় কোটা নির্ধারণে এমনটি বেশি হওয়ার কথা শোনা যায়। এছাড়াও জলা কোটা হিসেবের ক্ষেত্রে জনসংখ্যাকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। দেখা যায়, মেধা থাকা সত্বেও বা বেশি নম্বর পেয়েও কম জনসংখ্যার অধিবাসী, যেমন মেহেরপুর, লক্ষ্মীপুর, লালমনিরহাট জেলার প্রার্থীরা চাকরি পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এসবই হচ্ছে সংবিধান-বিরোধী এবং সমসুযোগ প্রদানের ব্যতয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক এবং মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের সংবিধানে যা আছে, তা ব্যাখ্যাসাপেক্ষ। কিন্তু আমাদের সংবিধানের স্পিরিট হলো অনগ্রসর শ্রেণিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা। তাই কোটা পুরো বাতিল নয়, কোটা সংস্কারই যৌক্তিক। আর প্রধানমন্ত্রী কিন্তু ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখার কথা বলেছেন। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের আমরা সম্মান জানাবো, এটাই স্বাভাবিক। আর সেই সম্মানের জয়াগা থেকেই কোটা। কিন্তু সেটা কতদিন এবং কোন পর্যন্ত পাবেন, কী পরিমাণ পাবেন তা যৌক্তিক হওয়া প্রয়োজন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ