ঢাকা, মঙ্গলবার 14 August 2018, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৫, ২ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সংসদ নির্বাচন নিয়ে সংলাপে বসা ছাড়া আ’লীগের গত্যন্তর নেই -ব্যারিস্টার মওদুদ

স্টাফ রিপোর্টার: একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিরোধী জোটের সাথে সংলাপে বসা ছাড়া ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কোনো গত্যন্তর নেই মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, নির্বাচনের আর মাত্র ২/৩ মাস সময় আছে। এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে যে সরকার বাধ্য হবে সংলাপে আসতে বিরোধী দলের সঙ্গে। তাছাড়া তাদের কোনো গত্যন্তর থাকবে না। সংলাপ নিয়ে সরকারের মন্ত্রীদের নানারকম বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার বিকেলে এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে জাতীয়তাবাদী তরুন দলের উদ্যোগে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এই আলোচনা সভা হয়। সংগঠনের সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিকের সভাপতিত্বে ও কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, তৈমুর আলম খন্দকার, লেবার পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, পারভেজ আহমেদ, সংগঠনের সাধারন সম্পাদক সাঈদ আহমেদ আসলাম প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।
মওদুদ বলেন, আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই,  বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তন চায়।  এই পরিবর্তন আপনারা কী বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে আনতে চান নাকী আপনারা শান্তিপূর্ণভাবে আনতে চান? সরকার যদি চায় শান্তিপূর্ণভাবে আনতে তাদেরকে সংলাপে আসতেই হবে, সমঝোতায় আসতে হবে।
সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমদ বলেন, আমাদের দাবি অত্যন্ত সুস্পষ্ট। আজকে সারাদেশে একটা ঐক্যমত সৃষ্টি হয়েছে, জনমত সৃষ্টি হয়েছে। কিসের উপরে ? প্রথম হলো যে, আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হতে হবে, মুক্ত খালেদা জিয়াকে নিয়ে সেই নির্বাচন হতে হবে। অর্থাৎ খালেদা জিয়ার মুক্তি এক নম্বর।
দুই নম্বর হলো নির্দলীয় নিরপেক্ষ একটি সরকার থাকতে হবে। তিন নম্বর হলো সংসদ ভেঙে দিতে হবে এবং চার নম্বর হলো নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণভাবে পূণঃগঠন করতে হবে, নির্বাচন কমিশনকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হবে, নতুন কমিশন হবে সমঝোতার ভিত্তিতে। আর সেনা মোতায়েন করতে হবে তাদেরকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে। এই দাবিগুলোর ব্যাপারে মোটামোটি বাংলাদেশে একটা ঐক্যমত সৃষ্টি হয়েছে। এটার উপর ভিত্তি করেই আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে।
এসব দাবিতে আন্দোলনকে বেগবান করতে সংগঠন শক্তিশালী করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, এই দাবিতে জাতীয় ঐক্যমত সৃষ্টির চেষ্টা করছি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আমরা কথা-বার্তা বলছি যাতে করে আমরা জাতীয়ভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগামীতে নির্বাচন ও ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে পারি। আমাদের একটিই চ্যালেঞ্জ তা হলো- গণতন্ত্রকে আবার ফিরে পেতে চাই। গণতন্ত্র বলতে আমরা বুঝাই বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, আইনের শাসন, মৌলিক অধিকার সংরক্ষন। সেই গণতন্ত্র এখন নাই। এটা আমাদের জন্য নয়, দেশের মানুষের মঙ্গলের জন্য ফিরিয়ে আনতে হবে।”
নিজের সম্পর্কে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যে বক্তব্য দিয়েছেন তাকে ‘অসত্য ও অরুচিশীল’ বলে মন্তব্য করেছেন মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন, ২/৩ দিন আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমাকে ব্যক্তিগতভাবে অনেক কথা বলেছেন। আমি এই ধরনের কথার জবাব সাধারণত দেই না। কুতুচিসম্পন্ন বক্তব্য। শুধু এইটুকু বলতে পারি যে, বক্তব্যটা ছিলো অসত্য, মিথ্যা, তথ্যনির্ভর নয় এবং ব্যক্তিগত আক্রমল। রুচিশীল কোনো বক্তব্য না। আমি বলতে চাই, বক্তব্য দিন সমালোচনা করুন তাতে আপত্তি নাই। তবে বক্তব্যের ক্ষেত্রে অশালীনতা ঠিক নয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ