ঢাকা, মঙ্গলবার 14 August 2018, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৫, ২ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ওরা পুলিশকে লাঞ্ছিত করে অবলীলায়

সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস রোববারে রাজধানী ঢাকার সড়কে ছিল তীব্র যানজট। যানবাহনের গতি ছিল ধীর। তারপরও সড়কে নৈরাজ্য বন্ধ ছিল না। পুলিশ মামলা ও জরিমানা করেও সড়কে শৃঙ্খলা আনতে পারছে না। রোববার রাজধানীর পাঁচটি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় লক্ষ্য করা গেছে যানবাহনের চালক ও পথচারীদের আইন অমান্য করার ঘটনা। বর্ধিত ট্রাফিক সপ্তাহের অষ্টম দিন ছিল রোববার। এদিন গুলিস্তানে বাস চাপায় প্রাণ গেছে এক যুবকের। এদিকে রোববার রংপুরের দর্শনা এলাকায় বাস চাপায় প্রাণ হারায় রংপুর কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের দশম শ্রেণীর ছাত্র জিয়ন মন্ডল। লক্ষণীয় বিষয় হলো, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শেষ হওয়ার পর দেশের সড়কগুলোয় আবার পুরনো বিশৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। এই বিশৃঙ্খলা লক্ষ্য করে স্বয়ং ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। ১২ আগস্ট রোববার রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল এ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন পথচারী আন্ডারপাস নির্মাণ কাজ উদ্বোধনকালে ভাষণে সড়কের বিশৃঙ্খল অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ্য যে, গত ২৯ জুলাই বেপরোয়া বাসের চাপায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল এ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। এরপরই নিরাপদ সড়কের দাবিতে সারাদেশে রাস্তায় নামে শিক্ষার্থীরা।
নানা কারণেই সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসছে না। এর একটা কারণ প্রশ্রয়প্রাপ্ত বিশেষ ক্ষমতাবান গোষ্ঠী। গত রোববার এই গোষ্ঠীর দৌরাত্ম্য লক্ষ্য করা গেছে চট্টগ্রামে। উল্টো পথে আসা মোটর সাইকেল আরোহীকে বাধা ও মামলা দেওয়ায় অন্তত পাঁচ পুলিশ সদস্যকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে কিছু যুবক। শুধু তাই নয়, আইন অমান্যকারী মোটরসাইকেল আরোহী ওই যুবক দলবল নিয়ে হামলা চালিয়েছে নগরীর নিউ মার্কেট মোড়ের ট্রাফিক পুলিশ বক্সে। ট্রাফিক সপ্তাহ চলাকালে রোববার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় কয়েকজনকে ধরা হলেও পরে তাদের ছেড়ে দেয় পুলিশ। এমন ঘটনায় প্রশ্ন জাগে, আইন কি তার নিজস্ব গতিতে চলতে অক্ষম? এমনটি হলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে কেমন করে? সুশাসন তো অনেক দূরের কথা। ন্যায়ের বদলে অনুরাগ-বিরাগের শাসনই কি দেশে চলতে থাকবে?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ