ঢাকা, মঙ্গলবার 14 August 2018, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৫, ২ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অব্যাহত দুঃশাসন গণঅভ্যুত্থান ডেকে আনতে পারে?

ব্যক্তি জীবনের একটি ঘটনা দিয়েই আজকের নিবন্ধটি শুরু করছি। সময়টা ১৯৬১ সাল। আমি তখন ফেনীর দাগনভুইঞার আতাতুর্ক হাইস্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র, সামনের ’৬২ সালে আমার ম্যাট্রিকুলেশান পরীক্ষা। তখন ফেনী নোয়াখালী জেলার একটি মহকুমা ছিল। এখন মহকুমা নেই; থানা উপজেলা হয়েছে মহকুমা হয়েছে জেলা। আমি ছিলাম আতাতুর্ক হাইস্কুলের ফাস্ট বয় এবং তখনকার নিয়ম অনুযায়ী ছাত্রদের প্রতিনিধি। হেড মাস্টার ছিলেন আবদুল লতিফ বিশ্বাস। একজন সুযোগ্য প্রশাসক ও শিক্ষাবিদ। স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী নামক এক ভদ্রলোক। দাগনভুইঞা ছিল রাজনীতি সজাগ একটি এলাকা। আবার স্থানীয় রাজনীতিতে সেখানে বিভাজন ও সংকীর্ণতা ছিল অনেক বেশী এবং তা ছিল ব্যক্তি  ইমেজকে কেন্দ্র করে। এই সংকীর্ণ রাজনীতি স্কুল কমিটিতে এসেও ঢুকেছিল এবং মোস্তাফিজুর রহমান-সুরুজ মিয়া কোন্দল স্কুলের হেড মাস্টার খেদানোর আন্দোলনে রূপ নিয়েছিল। এক পর্যায়ে চট্টগ্রাম বিভাগের ডিডিপিআই (Deputy Director, Public Instruction) জনাব এ এস মাহমুদ এবং ফেনীর এসডিও জনাব আহমদ ফরিদ সিএসপি যৌথভাবে স্কুল পরিদর্শন করেন। এই উপলক্ষে আমরা ছাত্ররা তারা যাবার পথে তাদের কাছে স্কুলের পড়ালেখার সমস্যা নিয়ে একটা দাবিনামা পেশ করি। নিয়মানুযায়ী আমিই এসডিও সাবের হাতে দরখাস্তটি তুলে দেই। আমি তখন আতাতুর্ক স্কুলের হোস্টেলে থাকতাম। এসডিও এবং ডিডিপিআই দু’জনই গাড়িতে চড়ে ফেনীতে চলে যান। তখন বিকেল ৪টা। সন্ধ্যা নাগাদ আমাদের কাছে খবর আসে যে এসডিও সাব ফেনী গিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী দ-বিধির ১৪৩ ও ৩৪১ ধারায় (Unlawful Assembly, Wrongful Resolution) একটি মামলা রুজু করেছেন। পুলিশ এসে হোস্টেল ঘেরাও করে ফেলেছে। এই মামলায় হেড মাস্টার আবদুল লতিফ বিশ্বাস এক নম্বর এবং আমি দুই নম্বর আসামী ছিলাম। আরো ৩৯ জন ছাত্র আসামী ছিলেন। পুলিশ আমাদের গ্রেফতার করেনি। তারা হোস্টেল এবং ক্যাম্পাস ঘেরাও করে আমাদের সতর্ক করে দেয়। তাদের একজন সূর্য ওঠার আগে আমাদেরকে নোয়াখালী যাবার পরামর্শ দেয়। রাতের বেলা গ্রেফতারের নিয়ম নাই বলে অভয়ও দেয়। আমরা স্কুল হোস্টেল এবং আশপাশের গ্রামগুলোর সকল শিক্ষার্থীদের অর্গনাইজ করে (প্রায় ৪০ জন) সকলে দাগনভুইঞা দীঘির পাড়ে সমবেত হই এবং রাতের বেলায়ই নোয়াখালীর মাইজদী কোর্ট অভিমুখে যাত্রা করি। সকালবেলা সেখানে পৌঁছাই। সেদিন রাতে আমরা প্রায় ৩০ কিলোমিটার পথ হেঁটেছিলাম। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করার জন্য আমরা তার বাংলোতে গিয়েছিলাম। জেলা প্রশাসক আমাদের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (জেনারেল) জনাব আবুল খায়েরের নিকট পাঠিয়ে দেন। আমরা তার কাছে গিয়ে ঘটনার আদ্যপান্ত বর্ণনা করি, বলি যে ফৌজদারী দণ্ডবিধির ১৪৩ ও ৩৪১ ধারার কোন অপরাধই আমরা করিনি। আমরা শুধুমাত্র শিক্ষা সম্পর্কিত আমাদের কিছু দাবি-দাওয়ার প্রতি মহকুমা প্রশাসক ও জনশিক্ষা দফতরের উপ-পরিচালকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। এডিসি সাব মনোযোগ দিয়ে আমাদের কথা শুনে মামলার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। মহকুমা প্রশাসক আবার মহকুমা হাকিমও ছিলেন। তার কোর্টেই এই মামলা বিচার হবার কথা ছিল। অর্থাৎ তিনিই বাদী এবং তিনিই বিচারক। এডিসি সাব আমাদের এই মর্মে পরামর্শ দিলেন যে তোমরা ফেনীর মহকুমা হাকিমের আদালতে আত্মসমর্পণ করো এবং উকিলের মাধ্যমে অনাস্থা দিয়ে মামলাটি নোয়াখালীতে স্থানান্তর করো। তিনি নাজারতের মাধ্যমে আমাদের নাস্তা ও খাবার ব্যবস্থা করলেন এবং দাগনভুইঞা পর্যন্ত আসার জন্য একটি বাসের ব্যবস্থা করে দিলেন। বিকেলে আমরা ফেরৎ আসলাম এবং কোর্টে সারেন্ডার করে এসডিএম কোর্টের উপর অনাস্থা দিয়ে নোয়াখালীর ল’ইয়ার ম্যাজিস্ট্রেট গিয়াসুদ্দিন আহমদ সাবের আদালতে মামলাটি স্থানান্তর করেছিলাম। বিচারিক প্রক্রিয়ার এক পর্যায়ে ১৯৬৪ সালে মামলাটি খারিজ হয়ে যায়। তখন আমি ঢাকাতে কলেজে পড়ি।
ঘটনাটি মনে পড়লো সম্প্রতি স্কুল ছাত্রদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিশু-কিশোরদের প্রতি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সরকারের আচরণ দেখে। দুজন সহপাঠি মর্মান্তিকভাবে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত হবার প্রেক্ষাপটে স্কুল ছাত্ররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই আন্দোলন গড়ে তোলে। হতে পারে তাদের সিনিয়র কিছু ছাত্র হয়ত তাদের পরামর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। ট্রাফিক কন্ট্রোল করে তারা দেখিয়ে দিয়েছে যে সড়ক দুর্ঘটনা কেন ঘটে এবং নিরাপদ সড়কের চাবিকাঠি কোথায়! তারা নয় দফা দাবি পেশ করেছিল। সরকার স্কুল ছাত্র-ছাত্রীগণ কর্তৃক সরকারের ত্রুটি বিচ্যুতি দেখিয়ে দেয়াকে সহজভাবে নিতে পারেনি। এটাকে তারা সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র হিসেবেও দেখতে শুরু করেন। তারা তাদের পেছনে দলীয় গুন্ডাদের লেলিয়ে দেন। এই গুন্ডারা পুলিশের সাথে একত্র হয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। চাকরির নিশ্চয়তার দাবিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের সাথেও সরকার অনুরূপ জঘন্য আচরণ করেছে। এই দেশে হাতুড়ি দিয়ে মানুষ পেটানোর ঘটনা এর আগে কখনো ঘটেনি। ছাত্র আন্দোলন দমানোর জন্য আওয়ামী লীগ সরকার এবার তাও করেছে। স্কুলছাত্র হোক অথবা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের, ভুক্তভোগী এই ছেলে-মেয়েরা কি কখনো এই সরকার, নির্যাতনকারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় গুন্ডাদের ক্ষমা করতে পারবে?
আহমেদ ফরিদ পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসের একজন দক্ষ কর্মকর্তা ছিলেন। তার সততা ও দক্ষতার কথা শুনেছি। সর্বশেষ তিনি বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রদূত হয়ে অবসর নিয়েছেন। কিশোর বয়সে বিনা কারণে তিনি আমাকে যে হয়রানি করেছেন তা আমি কখনো ভুলতে পারিনি, ক্ষমা করতেও পারিনি। সরকার আজকে কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী যে যুবক অথবা কিশোর-কিশোরীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন গ্রেফতার করেছেন অথবা যাদের উপর নির্যাতন চালিয়েছেন; তারা অথবা তাদের সহপাঠিরা অবশ্যই ভবিষ্যতে এগুলো মনে রাখবে। এক্ষেত্রে পুরো যুবসমাজ সরকারের জন্য দায় হয়ে দাঁড়াতে পারে। এখন অন্য প্রসঙ্গে আসি। সম্প্রতি দেশের দক্ষিণ এবং উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলা সফর করে আসলাম। সফরকালে সড়ক-মহাসড়ক এবং পল্লী এলাকার রাস্তাঘাটের যে অবস্থা দেখেছি তা ভয়াবহ। সামাজিক অবস্থা আরো খারাপ। নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার যে প্রস্তুতি নিচ্ছে তাতে অবস্থা আরো খারাপ হবার আশংকা রয়েছে। দেশের বেশির ভাগ মানুষ মনে করেন যে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা নানা ধরনের লুটপাট ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। এরা তাদের চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, ব্যভিচার, ঘুষ রিসওয়াত ও নানা অপকর্ম দ্বারা শুধু সরকারকেই গণবিচ্ছিন্ন করছে না বরং দলের ত্যাগী ও পুরনো নেতা-কর্মীদের থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। তারা দেশকে এমনভাবে বিভক্ত করে ফেলেছে যে তার রেশ হয়ত শতাব্দির পর শতাব্দি পর্যন্ত চলতে থাকবে। গ্রামগঞ্জে যারা বিএনপি-জামায়াত করে অথবা আওয়ামী লীগ করে না- এ রকম হাজার হাজার যুবক-কিশোর ও প্রৌঢ় ব্যক্তি এখন ঘরছাড়া। তারা বাড়িতে থাকতে পারেন না, দাড়ি-টুপিওয়ালা অথবা নামাজিরা জামাতি, তাদেরও এলাকায় থাকা একটা অপরাধ, থাকলেও নানা গঞ্জনা ও নির্যাতন সহ্য করে থাকতে হচ্ছে। মামলা মোকদ্দমা মাথায় নিয়েই থাকছে। এই সরকার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন দলভিত্তিক করে পাড়া-মহল্লা এবং বাড়িতে বাড়িতে যেভাবে হিংসা-বিদ্বেষ ছড়িয়ে দিয়েছে তা আমাদের সমাজ এবং দীর্ঘদিনের সামাজিক সংহতি এবং বন্ধনকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। বিএনপি জামায়াত ছাড়াও এই ধ্বংসাত্মক সিদ্ধান্তটি আওয়ামী লীগের নবীন-প্রবীণদের মধ্যেও মারাত্মক দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করেছে। এখন ক্ষমতার আশ্রয়ে থেকে তারা এক গ্রুপ অন্য গ্রুপের বিরুদ্ধে দেশীয় নয়; মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করতেও দ্বিধা করছে না। এতে সামগ্রিকভাবে সমাজ কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং দুষ্কৃতি প্রতিরোধ ও সুকৃতি প্রতিষ্ঠার জন্য আর কেউ অবশিষ্ট থাকছে না। এই সরকার ক্ষমতায় আসার আগে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের যারা নিয়মিত বাজার সাজার করতে পারতো না তারা এখন অনেকে বিত্ত বৈভবের মালিক, বাড়িতে বহুতল ভবন তুলেছে। তাদের আয়ের উৎস নিয়ে মানুষের মনে নানা প্রশ্ন। ক্ষমতাসীন দলের এমপি-চেয়ারম্যানরা ক্ষমতার অপব্যবহার দুর্নীতির পাহাড় সৃষ্টি করে চলেছেন। পল্লী পূর্ত কর্মসূচি, কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি টেস্ট রিলিফ প্রভৃতি দুর্নীতির আখড়ার পরিণত হয়েছে। এমনকি দুস্থ ও বিধবা এবং বয়স্কদের ভাতার টাকা ও ভাগাভাগি হয়ে যাচ্ছে, সুবিধা বঞ্চিত ব্যক্তিরা তা পায় না। দলীয়করণ ও অত্যাচার নির্যাতনের মাত্রা সীমা ছাড়িয়ে গেছে। ফলে মানুষের মনে অসন্তোষ ও বিক্ষোভ ধূমায়িত হয়ে যে কোন সময় বিস্ফোরিত হবার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। অনেকের আশংকা এর ফলে প্রতিহিংসার যে আগুন জ্বলে উঠবে তাতে আমাদের সমাজ জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে যেতে পারে। আমি ইতোপূর্বেও এই স্তম্ভে উল্লেখ করেছিলাম যে, গত দশ বছর ধরে নির্যাতিত মানুষ যে হারে বিরূপ হয়ে পড়েছে সরকারের উপর, ক্ষমতার শৃঙ্গে থাকা সরকারি নেতারা তার খবর পাচ্ছেন না। বিরোধী দল বিশেষ করে বিএনপি নেতৃত্বের কাঠামোগত দুর্বলতা অথবা ঘর গোছানোর বিলম্ব সরকারকে উজ্জীবিত করলেও গণবিস্ফোরণ ঠেকানোর মতো তা যথেষ্ট নয়। রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের জেল-জুলুম, মামলা, ফাঁসি, দল এবং তার অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্যে মিল নেই, দুর্নীতি সন্ত্রাস ও অপকর্মে আকণ্ঠ নিমজ্জিত ক্ষমতাসীন দল যখন জামায়াতের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ তুলে, তা শুনে মানুষও হাসে। কেননা একই সমাজে বসবাসের ফলে জামায়াতের প্রতিটি লোকের নাড়ি নক্ষত্র সম্পর্কে তারা জানে এবং যে কেউ তাদের বিভ্রান্ত করতে পারে না। জুুলুম-নির্যাতনের বৈশিষ্ট্যই হলো তা দীর্ঘায়িত হতে পারে না। একদিন তার পরিসমাপ্তি ঘটবেই। এই প্রক্রিয়া যখন শুরু হবে তখন গণজোয়ার রোধ করা কারোর পক্ষেই সম্ভব হবে না। সেদিন সরকার ও মিডিয়ার অব্যাহত অপপ্রচার কোন কাজেই আসবে না।
শোনা যাচ্ছে, অক্টোবরে নতুন সরকার হবে। ২৮ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচনের বাধ্যবাধকতাকে সামনে রেখেই আওয়ামী লীগই এই নতুন সরকার গঠন করবে। ঐ সরকারের অধীনে নবেম্বরের মাঝামাঝি নির্বাচনের তফসীল ঘোষণা করা হবে। অর্থাৎ জনগণের ম্যান্ডেটহীন সরকার কর্তৃক আরেকটি ম্যান্ডেটহীন সরকার গঠন করা হবে। বলা হচ্ছে, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। সংবিধানে নির্বাচনকালীন সরকারের কোন বিধান নেই। তা হলে কি এটি হবে? জনগণের দাবি হচ্ছে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের  অধীনে  আস্থাভাজন একটি নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন। ক্ষমতাসীনরা এটা হতে দেবেন বলে মনে হয় না। বিরোধী দলসমূহের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার ও তাদের ওপর হামলা-মামলা অব্যাহত রেখে ক্ষমতাসীন দল বিরোধী দল ঠেকানো এবং যে কোন ধরনের আন্দোলন প্রতিহত করার জন্য ৪৩ হাজার নির্বাচনে কেন্দ্র কেন্দ্রিক লক্ষাধিক কমিটি গঠন করছেন বলে পত্রিকান্ত প্রকাশিত খবরে জানা গেছে। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিকলীগ নেতা-কর্মীদের নিয়ে এ কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তারা পুলিশকে সাথে নিয়ে বিরোধী দলকে মোকাবেলা করবেন। দেশের মানুষ এ পরিস্থিতিতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে কিনা তা বলা মুশকিল। যদি না পারে তা হলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য গণআন্দোলন অপরিহার্য হয়ে পড়বে। এ ক্ষেত্রে কোটা সংস্কার ৬ শিশু-কিশোরদের আন্দোলন পথিকৃত হয়ে থাকবে। সরকারের অব্যাহত দুঃশাসন গণঅভ্যুত্থান ডেকে আনতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ