ঢাকা, মঙ্গলবার 14 August 2018, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৫, ২ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

এমপিত্ব ক্ষমতাত্ব এবং অপরাধীর বৃত্তান্ত

এম. কে. দোলন বিশ্বাস : দুর্নীতির কথা বলায় কিংবা গণমাধ্যমে প্রকাশ করায় অপরাধী কেনো রাগে ফনিমনসা হয়ে ওঠে অথবা অপরাধীকে দেখলে কেনোই বা দুর্নীতির কথা সামনে চলে আসে। এ নিয়ে বিষদালোচনা না করে আজ দুর্নীতির বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়াসহ ‘দুর্নীতির শ্বেতপত্র’ গণমাধ্যমে প্রকাশ করায় আমার জীবনের ঘটে যাওয়া কিছু কাহিনী পাঠকদের জানাতে প্রবল ইচ্ছা পোষণ করছি।
কাহিনী- ১ : গত ১২ জুন জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে জেলা তথ্য অফিস ও উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘সরকারের সাফল্য অর্জন ও উন্নয়ন ভাবনা জনগণকে অবহিতকরণ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা চলছিল। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় এমপি আলহাজ্ব ফরিদুল হক খাঁন দুলাল। সভায় উপস্থিত থাকার জন্য আয়োজকদের পক্ষ থেকে ভাগ্যক্রমে নিমন্ত্রণপত্র পেয়েছিলাম অনেক আগে ভাগেই। যথারীতি সভায় উপস্থিত হই।
সভার সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান কয়েক বক্তার পরে আমাকে বক্তব্য দেয়ার জন্য ফ্লর দেন। স্পিকার অন করে মহান সৃষ্টি কর্তার নামে বন্ধনা নিমিত্তে বক্তব্য শুরু করি। বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য চলমান কর্মসৃজন কর্মসূচি প্রকল্প বাস্তবায়নে ‘অনিময়-দুর্নীতি’।
ওই সময় উপজেলায় ৭৭টি ‘কর্মসৃজন প্রকল্প’ চলছিল। প্রকল্প বাস্তবায়ন উপজেলা কমিটি’র সভাপতি হিসেবে থাকেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। সদস্য সচিব হিসেবে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাসহ প্রকল্প তদারকিতে থাকেন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কর্মকর্তা।
যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদী ভাঙ্গনকবলীত ইসলামপুর উপজেলার অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারের বিভিন্ন নিরাপত্তামূলক কর্মসূচিগুলোর মধ্যে ‘কর্মসৃজন প্রকল্প’ অন্যতম। অতিদরিদ্র শ্রমিকদের ২শত টাকা হাজিরা মুজুরীতে ৩৫ সেপ্টি মাটি কাটার চুক্তিতে দু’দফায় ৮০ দিন কাজ করার কথা প্রকল্পের কার্যাদেশে বিদ্যমান। কোনো কোনো প্রকল্পে শিশু শ্রমিক দিয়ে মাটি কাটার প্রমাণ মিলে। কোথাও মাটি কাটা হয় ড্রেজার মেশিনে। সর্বোপরি অতিদরিদ্রদের প্রকল্পে বিত্তবানদের কালো থাবা!
বলাবাহুল্য যে, প্রতিটি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিতে একজন স্কুল শিক্ষক, দুইজন গণ্যমান্য ব্যক্তি, একজন মহিলা সমাজসেবী, ও একজন স্থানীয় মসজিদের ইমাম-এর কথা কাগজ-কলমে উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে তারা প্রকল্প সম্বন্ধে কিছুই অবগত নন। উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বার ওইসব ব্যক্তির স্বাক্ষর জাল করে মাস্টাররোল সংশ্লিষ্ট কর্যালয়ে জমা দিয়ে অতিদরিদ্রদের কাজের বিনিময়ে অর্থ আত্মসাৎ করেন।
প্রকল্পের এমন অনিয়ম দুর্নীতির ফিরিস্তি তুলে ধরলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চটে গিয়ে আমাকে কথা বলতে থামিয়ে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। মুহূর্তের মধ্যে ‘সরকারের সাফল্য অর্জন ও উন্নয়ন ভাবনা জনগণকে অবহিতকরণ বনাম সাংবাদিক বক্তা’ হিসেবে ওই সভা রূপ নেয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দাবি, আমার উত্থাপিত বক্তব্যের বিন্দুমাত্রও সত্যতার লেশ নেই’। আর কোথাও যদি ‘অনিয়ম-দুর্নীতি’ ঘটেই থাকে, তবে কেনো তাকে জানায়নি। এখন কেনো বলছি। ইত্যাদি নানাবিধ বাহারি-রকমারি কত কথা। এতে সভার শান্ত পরিবেশ অশান্ত হয়ে ওঠে। ইউএন’র বক্তব্যে শান্ত পরিবেশ অশান্ত হয়ে ওঠার পরও রহস্যজনক কারণে মাননীয় এমপি মহোদয় নিশ্চুপ থাকায় চাপাউষ্মা প্রকাশ করেন উপস্থিত অনেকেই। পরিশেষে সভার সঞ্চালক মানবাধিকার কর্মী সাংবাদিক জাহাঙ্গীর সেলিমের প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি শান্ত হয়।
পরবর্তীতিতে আমার বক্তব্য সহমত পোষণ করে বক্তব্য দেন দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের স্থানীয় উপজেলা প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম শিবলী ও অধ্যক্ষ জামাল আব্দুন নাসের চার্লেস চৌধুরী। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা সিনিয়র তথ্য অফিসার নুরন্নবী, স্থানীয় ইনকিলাব প্রতিনিধি ফিরোজ খান লোহানী, ইত্তেফাক প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম ফারুক, সাংবাদিক সৈকত আহম্মেদ বিল্লালসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাগণ।
ওই সভায় ‘অনিয়ম-দুর্নীতি’ নিয়ে বক্তব্য দেয়া আমার উচিত হয়নি মর্মে দাবি করেন ভোরের কাগজের প্রতিনিধি উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোরাদুজ্জামান মোরাদ, সিএনএন বাংলা টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি আজিজুর রহমান চৌধুরী, দৈনিক দিনকালের প্রতিনিধি শহিদুল ইসলাম কাজল ও স্থানীয় দৈনিক আলোচিত জামালপুরের রোকনুজ্জামান সবুজ।
পাদটীকা : ওই সভা চলাকালে মাননীয় এমপি ফরিদুল হক খাঁন দুলালের নিশ্চুপতা, কতিপয় সাংবাদিকদের বিপক্ষ অবস্থান আর ইউএনও’র বেমানান বক্তব্যকে ছাপিয়ে কর্মসৃজন কর্মসূচি প্রকল্পের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে এলাকাবাসী এখন দুর্নীতি দমন কমিশনে বিচার প্রার্থী হয়েছেন।
কাহিনী- ২ : ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে ইসলামপুর থানা কম্পাউন্ডে অনুষ্ঠিত ‘ওপেন হাওজ ডে’ আলোচনা সভায় জিডি, মামলা থেকে শুরু করে কোনো প্রকার পুলিশী সেবা দিতে ঘুষ গ্রহণসহ পুলিশের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে উন্মুক্ত অনলবর্ষী বক্তব্য দিতে হয়েছিল আমাকে। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফুল হক সভায় প্রধান অতিথি থাকাবস্থায় শত শত লোকজনের সামনে অনিয়ম-দুর্নীতির খোলামেলা ফিরিস্তি তুলে ধরায় থানা পুলিশের মান-সম্মানে লজ্জার কালো ঝড় বয়েছে। এতে ক্রমেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন খোদ থানার ওসি দ্বীন-ই আলম। উপস্থিত বয়জ্যেষ্ঠ সহকর্মী আব্দুস সামাদ, নয়াদিগন্তের স্থানীয় প্রতিনিধি খাদেমুল হক বাবুল, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মানিকুল ইসলাম মানিক আমার বক্তব্যের সমর্থক বক্তব্য দেওয়ায় পুলিশের রাগের ডিগ্রির মাত্রা সহসাই চরমে উঠে ছিলো সভা চলাকালেই। পুলিশের হীনকাজের বিরুদ্ধে বলায় ক্রমেই অস্থির হচ্ছিলেন থানার ওসি। সে কারণেই ওসি ছাহেব বক্তব্যে আমার উপর ঘনরাগ ঝাড়েন। ওসি ছাহেবের দাবি, আমি নাকী পুলিশ বিদ্বেষী সাংবাদিক। পুলিশের বিরুদ্ধে না লিখলে আমার বুঝি ঘুম হয় না। কীভাবে পুলিশের বিরুদ্ধে লেখা যায় সেটাই আমার নাকী চিন্তা-ফিকির।
এক পর্যায়ে ‘ওপেন হাওজ ডে’ হয়ে যায় উত্তপ্ত। পুরো থানা মুহূর্তেই পরিস্থিতি রূপ নেয় ‘সাংবাদিক বনাম থানা পুলিশ’। পরিস্থিতি স্বাভাবিক আনতে প্রাণপণ চেষ্টা করেন ‘ওপেন হাওজ ডে’ সভার সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান শাহীন চৌধুরী। বক্তব্য চলাকালেই আমার সঙ্গে প্রধান অতিথি জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহোদয় প্রশ্ন-উত্তর পর্ব সাড়েন। অবশেষে ওসি ছাহেব তার রাগাম্বিত বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। কিন্তু সভার সভাপতি নাছোড় বান্দা। দুঃখ প্রকাশে ওসি ছাহেবকে পার পেতে দেননি। বরং তার বেমানান বক্তব্যের দায়ে উপস্থিত সবার সামনে মাইকে আমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করিয়ে তাকে মুক্তি দেন।
পাদটীকা : আমার বিরুদ্ধে পুলিশকর্তৃক নানাবিধ দুর্নাম বিশেষ করে আমার নিজ জেলার পুলিশ পাড়াগুলোর সর্বত্রজুড়ে থাকলেও নানাবিধ অভিযোগে শেষঅবধি ওসি দ্বীন-ই আলমকে স্ট্যান্ট রিলিজ করা হয়েছিল জেলা পুলিশ লাইনে। অনেক পুলিশই কথার ছলে বলে থাকেন ‘সাংবাদিকতা বাদ দিয়ে পুলিশের চাকরি নেন। তবেই সৎ থাকা, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করাসহ সত্য বলা কারে কয় হাড়ে হাড়ে টের পাবেন। তার মানে পুলিশমন্ত্রী যে ভাবে চালায়, সে ভাবেই পুলিশ চলতে বাধ্য।
কাহিনী-৩ : ‘এমপি’র কোটায় টিআর কাবিটা প্রকল্পে ‘নির্ভেজাল অনিয়ম দুর্নীতি’! শিরোনামে দুই হাজারেরও বেশি শব্দের আমার একটি নিবন্ধ অতিসম্প্রতি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকসহ প্রায় ডজনখানেক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
নিবন্ধটির সারমর্ম ছিলো- গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচীর আওতায় টেস্ট রিলিফ (টিআর), কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) ও কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) এর বিপরীতে নামে-বেনামে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা তছরূপের অভিযোগ। দেশের অনুন্নত জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় সরকারি বরাদ্দের বিধিবহির্ভূত এমনই চিত্র উঠে এসেছে জামালপুর-২ ইসলামপুর আসনের সরকারদলীয় এমপি আলহাজ্ব ফরিদুল হক খাঁন দুলালের কোটায় বরাদ্দকৃত টিআর ও কাবিটা প্রকল্পে। ফলে ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা ভাঙনকবলীত এ উপজেলায় সরকারি বরাদ্দের ওইসব প্রকল্পের সিংহভাগই ‘কাগজ-কলমে’ হচ্ছে বাস্তবায়ন।
গ্রামীণ অবকাঠামো রাস্তাঘাট, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে মাটি ভরাট এবং সংস্কার, ক্লাব-সংগঠন, হাটবাজার উন্নয়নের নামে প্রকল্প দেখিয়ে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত লাখ লাখ টাকা তছরুপ হলেও দেখার যেন কেউ নেই। অভিযোগ উঠেছে, প্রকল্পগুলো স্থানীয় এমপির কোটা হওয়ায় সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন অনেকটাই নির্বিকার।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রমতে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ইসলামপুর আসনের এমপি ফরিদুল হক খাঁন দুলালের নামে টিআর কর্মসূচীর আওতায় প্রথম পর্যায়ে ৭২টি প্রকল্পের বিপরীতে ৪৮ লাখ, ৬৯ হাজার ২০৩ টাকা ও কাবিটার প্রথম পর্যায়ে ১৮টি প্রকল্পের বিপরীতে ৫৭ লাখ, ৬২ হাজার ৯৯৮ টাকা বরাদ্দ আসে। এছাড়া একই অর্থবছরের টিআরের কর্মসূচির আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ে ১০৫টি প্রকল্পের বিপরীতে ৪৮ লাখ, ৬৯ হাজার ২০৩ টাকা ও কাবিখার দ্বিতীয় পর্যায়ে ১২টি প্রকল্পের বিপরীতে ১৪৭.৩৮৬ মেট্রিক টন চাউল বরাদ্দ আসে এমপি ফরিদুল হক খাঁন দুলালের নামে। এমপি মহোদয়ের প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রথম পর্যায়ে গত বছরের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে চলতি বছরের এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে উপজেলার পিআইও, ইউএনও, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসক যৌথ স্বাক্ষরে অনুমোদন করেন।
অভিযোগ রয়েছে, অনেক প্রকল্পের বরাদ্দের খবর সংশ্নিষ্ট এলাকাবাসী জানে না। যেসব স্থানে কাজ হয়েছে তা নামমাত্র। নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি প্রকল্পের শুরু এবং শেষ প্রান্তে কাজের ধরন, বরাদ্দ ও প্রকল্প কমিটির নাম সংবলিত সাইনবোর্ড থাকার কথা থাকলেও কোথাও এর কোনো চিহ্ন নেই। তাই কোন প্রকল্পের কত বরাদ্দ, কে সভাপতি সেটিও জানে না এলাকাবাসী। খোদ দলীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, এমপি ফরিদুল হক খাঁন দুলালের জামায়াত-বিএনপিসহ পছন্দের লোকদের নামে বেনামে বরাদ্দ দেয়া এবং বিএনপি থেকে যোগদানের নাম ভাঙিয়ে এমপির সাথে সমঝোতা করে বরাদ্দের টাকা ভাগাভাগি করে নেয়ায় প্রকল্পের কাজের বারোটা বেজেছে।
নিবন্ধটি গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ায় আমার ওপর এমপি মহোদয়ের চাপাক্ষোভ চারদিকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পাতি নেতা  থেকে শুরু করে একশ্রেণীর খামখাম নেতারা পত্রিকায় ওমন খবর দেয়া ‘বড্ড ভুল’ হয়েছে মর্মে আমাকে শায়েস্তা করতে নানাবিধ ফিকির-ফন্দি আঁটতে থাকে। কতিপয় সহকর্মীরা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সাথে আঁতাত করেন। শেষঅবধি এমপি মহোদয় ফোন করেন আমার আব্বাজানের নিকট। কথা বলেন আম্মাজানের সাথেও। এমপি মহোদয়ের দাবি, তিনি কোনো অন্যায় করেন না। তবে কেনোই বা তার নামে বরাদ্দকৃত প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে গণমাধ্যমে অনিয়ম-দুর্নীতির খবর প্রকাশ করা হল। এতে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে কলঙ্কের দাগ পড়ল। এমপি মহোদয়ের এমন দাবির প্রেক্ষিতে আব্বা-আম্মাজান উভয়ই বলেছিলেন যে, এ ব্যাপারে তারা কিছুই জানেন না। জেনেশুনে আমার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। আব্বা-আম্মার এমন প্রতিশ্রুতিতেও মন ভরেনি এমপি মহোদয়ের। তার সোজা-সাপটা কথা ছিল- ‘যা হওয়ার, তা তো হয়েই গেছে। মানুষ জেনেছে, তিনি অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িত। এখন আর কী বা আপনাদের করার আছে?
এমপি মহোদয়ের শেষ কথা ছিল- তিনি যদি অনিয়ম-দুর্নীতি করে থাকেন; সেটা নিশ্চয় আল্লাহতায়ালা দেখেছেন। আর যদি আপনার ছেলে (আমি) অন্যায়ভাবে তার বিরুদ্ধে খবর প্রকাশ করে থাকি; এটাও আল্লাহতায়ালা দেখেছেন। সুতরাং আল্লাহতায়ালাই বিচার করবেন।
এসব জানার পর আব্বা-আম্মাজানকে এতটুকু বলেছিলাম যে, মাননীয় এমপি মহোদয়ের বিচার চাওয়াকেই মেনে নেন। কেন না, তিনি যার নিকট বিচার সপে দিয়েছেন। তিনি বিশ্ব মালিক। তিনিই ন্যায়বিচারক। তিনি প্রকাশ্য ও গোপনের জান্নেওয়ালা। সুতরাং তার বিচারই আমাদের সবার কাম্য হওয়া উচিত।
পাদটীকা : নিবন্ধটি প্রকাশ হওয়ায় টনক নড়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। সব কিছু ছাপিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ওইসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ‘অনিয়ম-দুর্নীতি’ হয়েছে কী না, তা খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে সরেজমিনে তদন্তের প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। এতে নড়েচড়ে বসেছে প্রকল্প বাস্তবায়ন সংশ্লিষ্টরা।
যবনিকা : অনেকেরই প্রশ্ন উঁকি দিতে পারে যে, দুর্নীতির কথা বলায় নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত হওয়ার পরও কেনোই বা দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করি। এসব প্রশ্নের জবাবে আজ শুধু এতটুকুই বলতে চাই- ঢোলের শব্দ শুনলে যেমন নাচনির নাচতে ইচ্ছা করে অথবা নাচনিকে দেখলে সহসাই ঢোলেরই বাজতে ইচ্ছা করে। তেমনই দুর্নীতির কথা বলায় অপরাধী রাগে ফনিমনসা হয়ে ওঠে অথবা অপরাধীকে দেখলে দুর্নীতির কথা সামনে চলে আসে। এমন রীতি-নীতির রেওয়াজ থেকেই দুর্নীতির কথা বলিবলা হয়ে থাকে। এর ব্যতিক্রম হয়নি আমার নিজের বেলায়। তাছাড়া সাংবাদিকতার দায়িত্ববোধ থেকে অপরাধীর রেগে ফনিমনসা হওয়ায় বিচলিত কিংবা ভয়-ভীতির আশঙ্কা উপেক্ষা করে অপরাধীর দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরতে যৎসামান্য চেষ্টায় আজ নিয়োজিত। যার ফলশ্রুতিতে মাঝেমধ্যে গণমাধ্যমে ঘটমান দুর্নীতির চিত্র প্রকাশ করে আসছি। কিন্তু বিধি বাম! দুর্নীতির চিত্র গণমাধ্যমে প্রকাশ করায় অনেকেরই মাথাব্যথা দ্বিগুন হয়ে যায়। কেউবা রাগে ফনিমনসা হয়ে ওঠে। দুর্নীতিবাজদের নানাবিধ অভিনয় দেখে মনে হয়- যারা ‘দুর্নীতির চিত্র’ তুলে ধরে, তারাই যেনো প্রকৃত ‘দুর্নীতিবাজ’! এরপরও নিত্যদিন আশায় বুকবাঁধি। দুর্নীতিবাজদের দাপটে দুর্নীতির প্রতিবাদকারীরা যেনো অসহায় হয়ে না পড়ে।
dulonbiswas@gmail.com

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ