ঢাকা, মঙ্গলবার 14 August 2018, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৫, ২ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

“হযরত ইসমাইল (আ.) একজন আদর্শ সন্তান”

উম্মে রুম্মান (উমামা) : “তিনি দোয়া করলেন হে আমার রব; আমাকে একটি নেক ছেলে দান করুন। (এ দোয়ার জবাবে) আমি তাকে একটি ধৈর্যশীল পুত্রের সুখবর দিলাম।
 সেই ছেলে যখন দৌড় ঝাঁপ করার বয়সে পৌছাল, তখন ইব্রহিম তাকে বললেন; বাবা আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, আমি তোমাকে জবেহ করছি। এখন তুমি বল, তুমি কি মনে করো। ছেলে বলল আব্বাজান ! আপনাকে যে হুকুম দেয়া হয়েছে তা করে ফেলুন। ইনশাআল্লাহ্, আপনি আমাকে সবরকারী হিসাবে পাবেন। শেষ পর্যন্ত দুইজনেই অনুগত হয়ে মাথা নত করে দিলেন এবং ইব্রাহিম তার ছেলেকে উপুড় করে শুইয়ে দিলেন, তখন আমি আওয়াজ দিলাম। হে ইব্রহিম আপনি স্বপ্নকে সত্য করে দেখিয়ে দিয়াছেন।
আমি নেক লোকদের এভাবেই পুরুস্কার দিয়ে থাকি। নিশ্চয় এটি ছিল একটি স্পষ্ট পরীক্ষা, এক বড় কুরবানি।
ফিদায়া হিসাবে আমি ছেলেটি কে ছাড়িয়ে নিলাম এবং তার প্রশংসা ও গুণ চর্চা চিরকালের জন্য পরবর্তী বংশধরদের মধ্যে রেখে দিলাম। এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদের পুরুস্কার দিয়ে থাকি।” (সূরাহ আস - সাফফাত ১০০ -১১০ )।
ইন্নাল হামদুলিল্লাহি ওয়াসসালাতু ওয়াসসালামু আলা রাসুল্লিলাহি ওয়াআলা’ আলিহি ওয়া আসহাবিহি ওয়া সাল্লামা তাসলিমান কাছিরান মাজিদান ইলা ইয়াওমীদ্দিইন, আম্মাবাদ্।
নিঃসন্দেহে সন্তনের জন্য পিতা-মাতা পৃথিবীর বুকে রহমত সরূপ। বর্তমান সময়ের দিকে দৃষ্টিপাত করলে দেখা যাবে যে, জাহিলি যুগের চেয়েও জঘন্য সমাজে বাস করছি আমরা। ন্যূনতম মানবিক বা সভ্য আচরণ সমাজের মানুষের কাছে পাওয়া এখন দুষ্কর। কেন আজ আমাদের এই অধঃপতন? আমরা স্রোতের কোন দিকে আগাচ্ছি? পিতা মাতার প্রতি ভালবাসা, তাদের প্রতি আনুগত্য বোধ, তাদের ইচ্ছার মূল্যায়নে কেন আমরা পিছপা? উত্তর হয়ত একটাই ! আমরা আমাদের পথ নির্দেশনা থেকে অনেক দূরে চলে এসেছি। জানি না আমাদের সোনালি ইতিহাস।
 কুরানের সাথে নেই সুসম্পর্ক, নেই সম্পৃক্ততা। নতুন প্রজন্মের কছে কি শিক্ষা রেখে যাচ্ছি আমরা?   অবাধ্যতা আর অবক্ষয়।
আলহামদুল্লিল্লাহ; মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের জন্য কতই না চমৎকার উদাহারণ রেখে দিয়েছেন তার প্রিয় নবী-রাসুলদের মাঝে। তারাই আমাদের উত্তম আদর্শ। জীবন চলার পাথেয়।
হ্যাঁ; কথা বলছিলাম সাইয়েদেনা হযরত ইসমাইল (আ.) কে নিয়ে। যে কিনা আমাদের জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) এর প্রথম এবং সবচেয়ে প্রিয় পুত্র, আল্লাহর একজন নবী। হযরত ইসমাইল (আ.) ছিলেন এমন একজন অনুগত সন্তান যার উদাহারণ বর্তমানে বিরল এবং সর্বকালের জন্য উত্তম আদর্শ বটে। যেখানে পিতা-মাতার চরম অবাধ্যতায় কাটে আমাদের আমাদের জীবন সেখনে হাজার হাজার বছর আগে হযরত ইসমাইল (আ.) আমাদের শিক্ষা দিয়াছেন কোন মাত্রায় পিতার ইচ্ছা পালনে সচেষ্ট থাকতে হয়। পিতার স্বপ্ন পুরণের জন্য নিজের জীবনের পরওয়া না করে নিজেকে কুরবানি করতে সম্মতি জানায়। হযরত ইসমাইল (আ.) এর শিশু অন্তর পিতার প্রতি ভালবাসা আর শ্রদ্ধায় ছিল অটুট। তিনি ভালোভাবে জানতেন তার পিতা তার ক্ষতি চান না। কিন্তু জীবন বজি রেখে পিতার জন্য সবরকারী হওয়া সহজ কাজ ছিল না। পিতার ইচ্ছাই তার শেষ ইচ্ছা ছিল। একটু ভাবলেই বুঝা যায়, আমাদের পিতা-মাতা আমাদের জন্য কতই না কষ্ট করেন কিন্তু যদি তারা যদি আমাদের মনঃপুত কোন জিনিস দিতে বা করতে না পারে অথবা অসম্মতি জানায় তবে কেমন আচরণ করি আমরা? কিন্তু আমরা নিজেরাই নিজেদের দায়িত্ব সম্পকে ওয়াকিবহাল নই। একবার ও ভাবি না তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের জন্য সরাসরি রহমত স্বরূপ। আমরা আমাদের শিশুকালে কতটা অসহায় ছিলাম; তারা আমদের কতটা আদর ও যতœ করে লালন পালন করেছিলেন। আর আমরা প্রতিনিয়ত তাদের কষ্ট দেই। তবে কি এতটাই নির্বোধ আমরা!
 পবিত্র কুরাআনে আল্লাহ বারবার নির্দেশ দিয়াছেন পিতা মাতার প্রতি সদাচারণ করতে, বিনয় অবলম্বন করতে, তাদের সাথে “উহ” শব্দটি পর্যন্ত না করতে। মায়ের পায়ের নিচে জান্নাত আর পিতার সন্তুষ্টি আল্লাহর সন্তুষ্টি।
রাসুল্লুলাহ (সা.) বলেন, লানত সে সকল সন্তানের প্রতি যারা পিতা-মাতার অবাধ্য। কেন আমরা আমাদের পিতা-মাতার অবাধ্য হয়ে আমাদের চির কাঙ্ক্ষিত জান্নাত নষ্ট করবো? আমাদের জান্নাতের যাবার চাবিই আমাদের নেক আমল, আমাদের পিতা-মাতা। একটি কে বাদ দিয়া অন্যটিকে বাছাই করার সুযোগ নেই। সন্তানের জন্য পিতা মাতার দোয়া সবার আগে কবুল হয়। যেমনটি দেখি পিতা ইব্রাহিম (আ.) এর দোয়ায়, তার উত্তম দোয়ার ফলে আল্লাহ হযরত ইসমাইল (আ.) এর প্রশংসা ও গুণ চর্চা চিরকালের জন্য পরবর্তী বংশধরদের মধ্যে অনুকরণই ও অনুসরণীয় করে দিয়েছেন।
হযরত ইসমাইল (আ.) এর আনুগত্য স্বরূপ চিরস্থায়ী ভাবে কুরবানি ফরয করা হয়।
তাই আসুন কুরবানীর প্রকৃত ঘটনা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে নিজেদের জন্য, নিজের জান্নাতের পথ সুগম করার জন্য পিতামাতার সাথে উত্তম আচরণ করি এবং হযরত ইসমাইল (আ.) এর মত আদর্শ ও অনুগত সন্তান হিসেবে গড়ে তুলি। আল্লাহ আমাদের সেই তৌফীক দিন।
 ওয়া সাল্লালাহু আলা সাইয়েদেনা মুহাম্মাদ ওয়াআলা’ আলিহি ওয়া আসহাবিহি ওয়া সাল্লাম, আলহামদুল্লাহি রব্বিল আলামিন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ