ঢাকা, মঙ্গলবার 14 August 2018, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৫, ২ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নীলফামারীতে সরকারি বিদ্যালয়ের ভবন ভেঙে মালামাল কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ

নীলফামারী সংবাদদাতা : জেলার ডোমার উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত শহীদ স্মৃতি মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবন ভেঙে তার রড, এ্যাঙ্গেল, স্ক্রু, টিন, দরজাসহ বিভিন্ন মালামাল কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে একই উপজেলার হলহলিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনামুল হক চৌধুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর দায়ের করা অভিযোগে জানা যায়, শহীদ স্মৃতি মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৭৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৫ কক্ষ বিশিষ্ট একটি নতুন ভবনের বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ ভবনটি স্থাপনের জন্য বিদ্যালয়ের উত্তর দিকে একটি পুরাতন ভবন ভেঙে ফেলা হয়। আর ওই ভেঙে ফেলা ভবনের পুরাতন ২ টন এঙ্গেল, ২ বস্তা স্ক্রু, ২০ বান্ডিল ঢেউটিন, ৫ দরজা, জানালাসহ কয়েক হাজার ইট পাওয়া যায়। যা বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে জমা ছিল। সম্প্রতি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক মিলে এসএমসি’র রেজুলেশনের মাধ্যেমে তা বিক্রি করে দেয়। যা সম্পূর্ণ বিধি বহির্ভূত। সরকারি যেকোনো মালামাল টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করার বিধান রয়েছে। এ বিধানকে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও প্রধান শিক্ষক বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রায় ৩ লক্ষ টাকার মালামাল কালোবাজারে বিক্রি করে দিয়েছে বলে অভিযোগে প্রকাশ। এ ব্যাপারে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য আসাদুজ্জামান চয়ন পুরাতন মালামাল কালোবাজারে বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করে জানান, সরকারি নিয়ম না মেনে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক দ’ুজনে মিলে তা বিক্রি করেছে। এ ব্যপারে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠাতা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বার জানান, বর্তমান প্রধান শিক্ষক নিজের খেয়াল খুশি মতো বিদ্যালয়টি পরিচালনা করছেন। তিনি বিদ্যালয় ভেঙেছেন মালামাল বিক্রি করেছেন আমরা তা জানিনা এ ছাড়া বিদ্যালয় সংস্কারের জন্য কাবিখা প্রকল্প হতে আট টন চাল বরাদ্ধ পাওয়া গেছে। সেই চালের ভাগ নিয়ে দুই বিদ্যোৎসাহী সদস্য ও সভাপতির মধ্যে হট্টোগোলও হয়েছিল। এ ব্যাপারে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি রাশেদ মাহমুদ উজ্জ্বল ও প্রধান শিক্ষক গোলাম সারওয়ার বাবু সাংবাদিকদের জানান, বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনটি ভেঙে ১ হাজার ৪ শ কেজি এঙ্গেল ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। আর টিনসহ অন্যান্য মালামাল বিদ্যালয়ের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে টেন্ডার না দিয়ে বিক্রির বিষয়ে তারা বলেন, এঙ্গেল পরিমাণে কম হওয়ায় টেন্ডার দেয়া হয় নাই। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ফাতিমা জানান, বিদ্যালয়ের পুরাতন মালামাল উদ্ধারসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ