ঢাকা, শুক্রবার 16 November 2018, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

চলে গেলেন সমকাল সম্পাদক

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

ও বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের (পিআইবি) চেয়ারম্যান গোলাম সারওয়ার আর নেই।সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে মারা গেছেন তিনি। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)

সোমবার সিঙ্গাপুরের স্থানীয় সময় রাত ১১টা ২৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় ৯টা ২৫ মিনিট) এই প্রখ্যাত সাংবাদিক শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

হৃদরোগের পাশাপাশি নিউমোনিয়া ও ফুসফুসের জটিলতায় ভুগছিলেন সারওয়ার। তার অবস্থার অবনতি হলে আজ বিকাল পাঁচটায় করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয় এই প্রবীণ সাংবাদিককে।

উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ৩ আগস্ট মধ্যরাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয় সারওয়ারকে। পরদিন সকালে তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সিঙ্গাপুরে নিউমোনিয়া সংক্রমণ হ্রাসের পাশাপাশি সারওয়ারের ফুসফুসে জমে থাকা পানিও কমে গিয়েছিল। হার্টও স্বাভাবিকভাবে কাজ করছিল। কিন্তু রবিবার হঠাৎ করে তার রক্তচাপ কমে যায়। কিডনিও স্বাভাবিকভাবে কাজ করছিল না।

এর আগে গত ২৯ জুলাই মধ্যরাতে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি হন দেশবরেণ্য এই  সাংবাদিক। তিনি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদেরও সভাপতি।

সম্পাদক গোলাম সারওয়ারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ রাতে এক শোক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই স্বনামধন্য সাংবাদিকের মৃত্যুতে দেশের সংবাপত্র জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি হলো।

দেশের প্রগতীশীল ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গোলাম সারওয়ারের অংশগ্রহণের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তুলে ধরতে গোলাম সারওয়ার ছিলেন উচ্চকণ্ঠ। প্রধানমন্ত্রী মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

গত ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের সাংবাদিকতা জগতে পদচারণা ছিল গোলাম সারওয়ারের। তাঁর সাংবাদিকতার জীবন শুরু হয় ১৯৬৩ সালে দৈনিক পয়গম দিয়ে। এরপর ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত দৈনিক সংবাদে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন।

 

যুদ্ধের পর কিছুকাল শিক্ষকতা শেষে ১৯৭৩ সালে দৈনিক ইত্তেফাকের সিনিয়র সহ-সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন সারওয়ার। ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত সেখানে প্রধান সহ-সম্পাদক, যুগ্ম-বার্তা সম্পাদক ও বার্তা সম্পাদক পদে কর্মরত ছিলেন।

১৯৯৯ সালে দৈনিক যুগান্তরের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন বরেণ্য এই সাংবাদিক। ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠা করেন দৈনিক সমকাল। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই পত্রিকার সম্পাদক হিসেবেই কাজ ক গেছেন তিনি।

সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য গোলাম সারওয়ারকে সরকার ২০১৪ সালে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।  ২০১৬ সালে কালচারাল জার্নালিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশ (সিজেএফবি) আজীবন সম্মাননা এবং ২০১৭ সালে আতাউস সামাদ স্মারক ট্রাস্ট আজীবন সম্মাননা অর্জন করেন।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি দেশ মাতৃকার মুক্তির জন্য অস্ত্র তুলে নিতেও ভুলেননি সারোয়ার। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে তিনির সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। যুদ্ধের পর বানারীপাড়া ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশনে কিছুদিন প্রধান শিক্ষক পদেও নিয়োজিত ছিলেন তিনি।

১৯৪৩ সালের ১ এপ্রিল বরিশালের বানারীপাড়ায় জন্ম নেন সারওয়ার। ছোটবেলা থেকেই তাঁর লেখালেখির প্রতি আগ্রহ ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় সম্মানসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভের পরই তিনি কর্মজীবনে প্রবেশ করেন।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি লেখালেখিতে সুনাম অর্জন করেছেন সারওয়ার। তাঁর প্রকাশিত গন্থের মধ্যে ছড়াগ্রন্থ রঙিন বেলুন এবং প্রবন্ধ সংকলন সম্পাদকের জবানবন্দি, অমিয় গরল, আমার যত কথা, স্বপ্ন বেঁচে থাক উল্লেখযোগ্য।

সাংবাদিকতা ছাড়াও সেন্সর বোর্ডের আপিল বিভাগের সদস্য এবং সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি দায়িত্ব পালন করছেন এই সাংবাদিক। তিনি একাধিকবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।

২০১৫ সালের আগস্ট মাসে বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের-পিআইবি চেয়ারম্যান হিসেবেও নিয়োগ পান বরেণ্য এই সাংবাদিক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ