ঢাকা, মঙ্গলবার 14 August 2018, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৫, ২ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কুয়াকাটায় খাজুরার মূল রক্ষা বাঁধ সমুদ্রের ঢেউয়ে এখন বিলীন হয়ে যাচ্ছে

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) : সমুদ্রে তা-বে পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৪৮নং পোল্ডারের খাজুরা-মাঝিবাড়ি ও মিরাবাড়ি অংশ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে মূল রক্ষা বাঁধটি -কলাপাড়া সংবাদদাতা

এইচ,এম, হুমায়ুন কবির, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) থেকে : সমুদ্রে তা-বে পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৪৮নং পোল্ডারের খাজুরা-মাঝিবাড়ি ও মিরাবাড়ি অংশ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে মূল রক্ষা বাঁধটি এখন হুমকির মুখে পড়েছে। সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের তোরে সৈকতের বালু ক্ষয়ের কারণে প্রতিদিন জোয়ারের পানির তোড়ে বাঁধের কূলের সিসি ব্লক সরে গেছে। বাঁধটি অংশের মাটিও সরে গিয়ে বিভিন্ন অংশে ছোট-বড় অনেক গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। টানা বৃষ্টি আর সাগরের পানি বৃদ্ধি পেয়ে আরেক দফা বাঁধটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড যে ব্লক বসিয়ে ভাঙনরোধে চেষ্টা কারলেও তা কোনো কাজেই আসছেনা বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ ১৮ কিলোমিটার সৈকতের একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের মনোলোভা দৃশ্য পৃথিবীতে বিরল। এ কারণে শীত, গ্রীষ্ম ও বর্ষা সব ঋতুতেই স্থানটি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের পদভারে মুখরিত থাকে। কিন্তু বিক্ষুব্ধ ঢেউয়ের তান্ডবে কুয়াকাটার মূল রক্ষা বাঁধটি এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এছাড়া জিরো পয়েন্ট, ঝাউ বাগান, ইকোপার্ক ও নারিকেল কুঞ্জ সংলগ্ন এলাকার থেকে সাগরের ঢেউয়ের তান্ডবে সৈকতের বালু সড়ে বিলীন হওয়ার শংকা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে নারিকেল, তাল, ঝাউ সহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ সাগরে গিলে খেয়েছে। এখন বাঁধটি ঝুঁটিপূর্ণ পয়েন্ট গুলো বিলীন হয়ে যাবে এমন আশঙ্কা করেছে স্থানীয়রা। কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কার্যালয়ের একটি সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর দরপত্র আহ্বান করে ভাঙন রোধে বাঁধের খাজুরা-মাঝিবাড়ি ও মিরাবাড়ি পয়েন্টে ২ ফুট দৈর্ঘ্য ও দেড় ফুট প্রস্থের সিসি ব্লক ফেলা হয়। বর্তমানে ওই সিসি ব্লক সাগরের ঢেউয়ের তান্ডবে একরে পার এক সড়ে যাচ্ছে। কুয়াকাটা বাসিন্দা মো.ইয়াকুব আলী বলেন, আমরা স্থায়ী ও মজবুত বাঁধ চাই। খাজুরা গ্রামের জেলে আবদুল জব্বার বলেন, অমাবইস্যা-পূর্ণিমার জোয়ারের সময় সাগরে পানির চাপ বাড়লে ভয়ের মধ্যে থাকতে হয়। অপর এক ব্যবসায়ি আব্দুল হামেদের বলেন, সাগরপারের ঝিনুকের দোকানটির আয়ে চলত সংসারের যোগান। প্রায় এক মাস আগে অস্বাভাবিক জোয়ারের উত্তাল ঢেউ তার দোকানটিতে হানা দেয়। এসময় অধিকাংশ মালামালসহ দোকানটি ভেসে গেছে। তবে উত্তাল ঢেউয়ের তোড় ঠেকানো না গেলে এখানকার ব্যবসায়ীরা চরম দুরবস্থায় পড়বেন। এ বিষয়ে উপকূলীয় মানব উন্নয়ন সংস্থা (সিকোডা)’র নির্বাহী পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি ও প্রচন্ড ঢেউয়ের তান্ডবে উপকূলীয় এলাকার বেড়িবাঁধ ভাঙ্গন অব্যহত রয়েছে। এভাবে ভাঙ্গন অব্যহত থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে লক্ষাধিক মানুষ গৃহহীন এবং হাজার হাজার একর ফসলি জমি সমুদ্র গর্ভে বিলিন হওয়ার আশংকা রয়েছে। তাই উপকূল রক্ষার জন্য সরকারকে দ্র্রত সময়ের মধ্যে ভাঙ্গন রোধের উদ্যোগ নিতে হবে। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)’র বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়কারী লিংকন বায়েন বলেন, এভাবে সৈকত সংলগ্ন গাছপালা সমুদ্র গর্ভে বিলিন হতে থাকলে পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব পরবে। বালুক্ষয় রোধ করার জন্য সরকারের দ্রত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে আমি মনে করছি। তাহলে-ব্যাপক-সম্ভাবনাময়-একটি-সমুদ্র-সৈকত-তথা-পর্যটন-শিল্প-রক্ষা-পাবে।’
কুয়াকাটা পৌর মেয়র আব্দুল বারেক মোল্লা জানান, ওইসব দোকানিদের জন্য ভিন্ন জায়গা খুঁজা হচ্ছে। কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের জানান, কুয়াকাটা বীচ রক্ষা প্রকল্পের কাজের পরিকল্পনা চলছে। তবে কবে নাগাদ এর কাজ শুরু হবে তা তিনি জানাতে পারেননি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ