ঢাকা, বুধবার 15 August 2018, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫, ৩ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বারবার মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়েছে কিন্তু পিছিয়ে যাইনি -প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার: স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে আমাকে চলতে হয়। আমি জানি, আমার চলার পথ কখনোই খুব সহজ নয়। বারবার মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়েছে। কিন্তু পিছিয়ে যাইনি। পিছিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করিনি। দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যা যা করণীয় সেটাই করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে ‘সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প: জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা সড়ক (এন-৪) ৪-লেন মহাসড়কে উন্নীতকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ২৩টি সেতু ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ফেনী জেলায় ফতেহপুর রেলওয়ে ওভারপাস উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। এর ফলে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের দ্বারসহ দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক যোগাযোগের নতুন মাত্রাসহ আসন্ন ঈদ যাত্রায় স্বস্তির দ্বার উন্মোচিত হলো।
উদ্বোধনের পর জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা মহাসড়কের চার লেন প্রকল্পের আওতায় ২৩টি ব্রিজ যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী অংশের ফতেহপুর রেলওয়ে ওভারপাসেরও উদ্বোধন করেন তিনি। এর ফলে ঈদযাত্রায় অনেকটা যানজটমুক্ত ভ্রমণের সুবিধা পাবেন উত্তরবঙ্গসহ বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষ।
২০১৬ সালে জানুয়ারিতে শুরু হয় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ৪ লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজ। ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রায় ৮০ ভাগ কাজ শেষ হয়ে গেছে। সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের আওতায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধীনে এ কাজগুলো সম্পন্ন হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সেনাবাহিনী প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজিজ আহমেদ। এ ছাড়াও প্রকল্পের ভিডিও চিত্র তুলে ধরেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব নজিবুর রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার সব সময় একটা জিনিস মনে হয়। এদেশের মাুনষের সুখ সুবিধার জন্য যদি একটু ছোট কাজও করতে পারি তাহলে আমার আব্বার আত্মা তো অন্তত শান্তি পাবে। নিশ্চয়ই তিনি একটু স্বস্তি পাবেন। এটা আমার উপলব্ধি।
 শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে আমাকে চলতে হয়। আমার চলার পথ কখনোই খুব সহজ নয় আমি জানি। বারবার আমাকে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়েছে। কিন্তু আমি পিছিয়ে যাইনি। আমি কখনো পিছিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করিনি। আমি দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যা যা করণীয় সেটাই করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
এ ক্ষেত্রে দেশবাসীসহ সকলের সহযোগিতা পাওয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতার কথা স্মরণ করেন। এ বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আজকে আমরা সড়ক এবং সংযোগ সেতুগুলো করতে পারছি। এর ফলে আজকে শুধু বাংলাদেশ না, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের একটা দ্বার উন্মোচিত হল।
 দেশ স্বাধীনের পর জাতির পিতার আঞ্চলিক ও উপআঞ্চলিক সহযোগিতার কথাটি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এই দক্ষিণ এশিয়ার উপআঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটি ক্ষেত্র তৈরি করেছি। এটা ‘সাসেক’ হিসেবে পরিচিত। এই সাসেকের আওতায় একটা উপআঞ্চলিক যোগাযোগ তৈরি করা যার মধ্য দিয়ে আমাদের দেশের ব্যবসা বাণিজ্য উন্নতি হবে। দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হবে। সেই সাথে আমাদের উপআঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে শুধু বাংলাদেশ না বাংলাদেশের সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোরও উন্নতি হবে।
এই উন্নয়নের আমাদের দেশের গ্রাম অঞ্চলের প্রত্যন্ত মানুষ পাবে। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমাদের সকল কাজ বলে উল্লেখ করেন তিনি। বক্তব্য শেষে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রকলগুলোর উদ্ধোধন করেন শেখ হাসিনা। এর ফলে আর্থ সামাজিক উন্নয়নের দ্বারসহ আসন্ন ঈদ যাত্রায় স্বস্তির দ্বার উন্মোচিত হল।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হারানোর কথা স্মরণ করতে গিয়ে কন্ঠ ভারি হয়ে আসে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মাত্র সাড়ে তিন বছরে যুদ্ধবিধস্ত বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার দিকগুলোও তুলে ধরে বলেন, পরাজিত শক্তিরা কখনো বসে থাকেনি। তাদের ষড়যন্ত্র অব্যাহত থাকে। তারা যখন দেখতে পেল, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। তখনই চরম আঘাত হানল ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। এই আঘাত শুধু যে রাষ্ট্রপতিকে হত্যা করেছিল তা নয়, সাথে সাথে একটি পরিবারকে তারা শেষ করে দিল। তাদের একটিই উদ্দেশ্য ছিল, এই রক্তের কেউ যেন আর কখনো আসতে না পারে, আর তাকে ঘিরে বাংলার মানুষ যেন ঘুরে দাঁড়াতে না পারে।
বিদেশে থাকার কারণে ছোট বোনসহ নিজের বেঁচে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেও আক্ষেপ করে করেন তিনি।
এরপর আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে বাংলার মাটিতে ফিরে আসলে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতে তৎকালীন সরকার ঢুকতে দেয়নি সেই দিকটি তুলে ধরেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, দেশে ফিরে আমার একটাই লক্ষ্য ছিল যে জাতির জন্য আমার বাবা জীবন দিয়ে যাবে সে জাতির ভাগ্য যেভাবেই হোক পরিবর্তন করতেই হবে। আর আমি জানি আমার বাবার লক্ষ্য ও স্বপ্নটা কি ছিল? ১৫ আগস্ট যখন তাকে কেড়ে নেওয়া হল, তখন থেকে এদেশের মানুষের ভাগ্য আর পরিবর্তন হয়নি। কিন্তু যারা ক্ষমতায় ছিল তাদের ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে। সাধারণ মানুষ কিন্তু শোষিত বঞ্চিত নিপীড়িত নির্যাতিতই থেকে গিয়েছিল।
‘সেজন্য আমার জীবনের একটাই লক্ষ্য স্থির করে নিলাম, যে করেই হোক এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে হবে। মানুষ যেন একটু ভাল থাকে। মানুষ যেন একটু শান্তিতে থাকে, সুখে থাকে, সুখের মুখ দেখে, আর্থিক স্বচ্ছলতা পায়, দুবেলা খেতে পারে, গৃহহারারা যেন ঘর পায়, শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়, মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নতি হয়। এই একটা লক্ষ্য নিয়েই রাজনীতি করেছি। আর কোনোদিকে ফিরে তাকাইনি।
গতকালকে আমাকে যখন আমাদের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানালেন ২৩টি সেতু তৈরি আছে উদ্ধোধনের জন্য এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি ওভারপাস তৈরি আছে। সেটা সেপ্টেম্বর মাসের দিকে উদ্ধোধন করতে হবে। আমি বললাম কেন? আমি কালকেই করবো। এই সংযোগ সেতু ও রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণের কারণে টাঙ্গাইল থেকে শুরু করে একেবারে ফেনী পর্যন্ত আর চলাচলের কোনো অসুবিধা হবে না বলেও প্রত্যাশা করেন শেখ হাসিনা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ