ঢাকা, বুধবার 15 August 2018, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫, ৩ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে শিক্ষা ব্যবস্থা প্রণয়ন সময়ের অনিবার্য দাবি -শিবির সেক্রেটারি জেনারেল

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীতে ইসলামী শিক্ষা দিবস উপলক্ষে ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরী পশ্চিম আয়োজিত আলোচনা সভা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সেক্রেটারি জেনারেল মোবারক হোসাইন

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল মোবারক হোসাইন বলেন, ধর্মীয় শিক্ষা ব্যতীত সৎ ও দক্ষ মানুষ  তৈরি করা সম্ভব নয়। সমাজের বঞ্ছিত ও দক্ষ ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার জন্য যা যা দরকার তার সব কিছু ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থায় বিদ্যমান। একই সাথে চরিত্রের উৎকর্ষ সাধন ও শৃঙ্খলাপূর্ণ সমাজ গঠনে ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থার বিকল্প নেই। তাই ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে শিক্ষা ব্যবস্থা প্রণয়ন করতে হবে।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীতে ইসলামী শিক্ষা দিবস উপলক্ষে ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরী পশ্চিম আয়োজিত আলোচনা সভা ও  বিতর্ক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মহানগরী সভাপতি আব্দুল আলিমের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি যোবাইর হোসেন রাজনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক সালাউদ্দিন আইয়ুবি। এছাড়াও মহানগরী সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক, অফিস সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম ফেরদৌস ও অর্থ সম্পাদক বোরহান উদ্দিনসহ মহানগরীর বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
শিবির সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ধর্মের ওপর ভিত্তি করেই এ উপমহাদেশ বিভক্ত হয়েছিল। ১৯৬৯ সালের ১২ আগস্ট শিক্ষা নীতির ওপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত বিতর্কে ইসলামী মূলবোধের ভিত্তিতে শিক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ক্ষুরধার বক্তব্য তুলে ধরেন। যা সবার নিকট গ্রহণযোগ্য হয়। কিন্তু বাম রাম আদর্শহীনরা এই জ্ঞানগর্র্ভ উপস্থাপনা সহ্য করতে না পেরে আদর্শহীন কাপুরুষরা তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের অদূরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র আব্দুল মালেক এর উপর অত্যন্ত বর্বরোচিত ও নৃশংস হামলা চালায়। এ মর্মান্তিক ঘটনার ৩ দিন পর ১৫ই আগস্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তিনি শাহাদাৎ বরণ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থার কথা বলে যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় আরোহন করেছেন তারা কেউই আজ সেই ধর্মহীন শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বাইরে আসতে পারেনি। বরং সব শাসকই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধর্মহীন নীতি বিবর্জিত জাতি উপহার দিচ্ছে। যার ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হচ্ছে জাতিকে। তেতুল গাছ রোপণ করে যেমন আম আশা করা যায় না তেমনি  নৈতিকতাহীন শিক্ষা ব্যবস্থায় গড়ে উঠা নাগরিকরা জাতির প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে না। যার বাস্তব প্রতিফলন দেখছে দেশবাসী। ধর্মীয় মূল্যবোধ ও  নৈতিকতাহীন শিক্ষিতরাই দেশে দুর্নীতির মহোৎসবের মাধ্যমে বিশ্বে বাংলাদেশকে দুর্নীতিতে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শিক্ষিত অসৎ কর্মকর্তা, কর্মচারী দেশকে ভয়াবহ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এরাই আজকে বিশ্বে বাস অযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকাকে দ্বিতীয় স্থানে নিয়ে এসেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে শুরু করে পাথর কয়লা পর্যন্ত লোপাট করে দিচ্ছে। এ অবস্থায় ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা ছাড়া আমাদের প্রিয় এ মাতৃভূমিকে দুর্নীতিমুক্ত সৎ প্রশাসন উপহার দেয়া কোন ক্রমেই সম্ভব নয়। আত্বমর্যাদা সমুন্নত রাখা, সমৃদ্ধ ও ইনসাফপূর্ণ সমাজ এবং রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থার বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সেরা ছাত্র মর্মান্তিক ও নির্মম হত্যাকান্ডের ঘটনা ইসলাম প্রিয় তরুণরা একদিনের জন্যও ভুলেনি। শহীদ আবদুল মালেক লাখো তরুণের প্রেরণার বাতিঘর। ইসলামী ছাত্রশিবির এই দিনটিকে ইসলামী শিক্ষাদিবস হিসাবে পালন করে আসছে। শহীদ আবদুল মালেককে হত্যা করে ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থার আন্দেলনকে চিরতরে মুছে ফেলতে চেয়েছিল আদর্শহীনরা। কিন্তু তাদের এই ষড়যন্ত্র চূূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে। শহীদ আবদুল মালেকের রক্ত ইসলামী শিক্ষা আন্দোলনকে আরো বেগবান করেছে। ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থার দাবি এখন গণদাবীতে পরিণত হয়েছে। সময়ের ব্যবধানে বাংলার জমিনে ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা কায়েম হবেই ইনশাআল্লাহ। প্রেসবিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ