ঢাকা, বুধবার 15 August 2018, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫, ৩ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খনির সাবেক ৩ কর্মকর্তাকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ

স্টাফ রিপোর্টার : বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির দুর্নীতি অনুসন্ধানে খনির সাবেক তিন মহাব্যবস্থাপককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
কয়লা খনির দুর্নীতি নিয়ে দুদকের তদন্ত কমিটির প্রধান ও সংস্থাটির উপপরিচালক শামছুল আলম বলেন, ‘খনির সাবেক তিন কর্মকর্তাকে আজ (মঙ্গলবার) জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কখনও তাদের আলাদা আলাদা করে, আবার কখনও তিন জনকে একসঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।’
দুদকের পক্ষ থেকে এদিন চার কর্মকর্তাকে তলব করা হয়েছিল। এর মধ্যে তিন জন হাজির হন গতকাল। তারা হলেন, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী খুরশীদুল হাসান, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুজ্জামান ও সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান। এদিন হাজির হননি খনির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী কামরুজ্জামান।
দুদকের উপপরিচালক শামছুল আলম বলেন, সরকারি কাজে ব্যস্ত থাকায় প্রকৌশলী কামরুজ্জামান হাজির হতে পারেননি। রোববার তিনি আসতে চেয়েছেন। আমরা তাকে সে পর্যন্ত সময় দিয়েছি।
এর আগে, সোমবারও খনির সাবেক চার কর্মকর্তাকে তলব করেছিল দুদক। তারা হলেন, খনির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান, সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর আব্দুল মতিন ও মহাব্যবস্থাপক (সারফেস অপরেশন) মো. সাইফুল ইসলাম সরকার। এর মধ্যে কেবল সাইফুল ইসলাম হাজির হন। তাকে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। শামছুল আলম জানিয়েছিলেন, বাকি তিন জনের মধ্যে একজন অসুস্থ, অন্য দু’জনের কাছে তলবের চিঠি পৌঁছায়নি।
 কেবল খনির সাবেক বা বর্তমান কর্মকর্তাই নয়, সোমবার পেট্রোবাংলার ৩২ কর্মকর্তাকেও তলব করেছে দুদক। তাদের আগামী ১৬ আগস্ট, ২৮ আগস্ট, ২৯ আগস্ট ও ৩০ আগস্ট পর্যায়ক্রমে দুদকে হাজির হতে বলা হয়েছে।
এর আগে, কয়লা গায়েবের ঘটনা দুর্নীতির অনুসন্ধানে গত ২৩ জুলাই তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করে দুদক। দুদকের উপপরিচালক শামছুল আলমকে প্রধান করে গঠিত এই তদন্ত কমিটির বাকি দুই সদস্য হলেন, সহকারী পরিচালক এ এস এম সাজ্জাদ হোসেন ও উপসহকারী পরিচালক এ এস এম তাজুল ইসলাম। আর তদন্ত এই কমিটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন দুদকের পরিচালক কাজী শফিক।
পরে কয়লা আত্মসাতের ঘটনায় গত ২৪ জুলাই বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আনিছুর রহমান বাদী হয়ে মামলা করেন। পরে দুদক এই মামলার তদন্ত শুরু করে।
দুর্নীতির মামলায় দুদকের অভিযোগের সংক্ষিপ্ত বিবরণীতে বলা হয়েছে, পরস্পর যোগসাজশে অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ করে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৪ মেট্রিক টন কয়লা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে বড়পুকুরিয়ায়। এসব কয়লার অনুমানিকক মূল্য ২৩০ কোটি টাকা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ