ঢাকা, বুধবার 15 August 2018, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫, ৩ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কয়রায় বেড়িবাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ দাকোপে নদী ভাঙনে ৪শ’ পরিবার পানিবন্দী

খুলনা অফিস : খুলনার দাকোপের ৩১ ও ৩২নং পোল্ডারে বেড়িবাঁধে ভাঙনে প্রায় ৪শ’ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। অনেকে ওয়াপদা বেড়িবাঁধের ওপর মানবেতর দিনযাপন করছে। ওয়াপদার বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় শত শত কৃষক তাদের আমন ধানের বীজতলা নিয়ে শঙ্কায় আছে।
এলাকাবাসী জানান, স্থানীয় নদ-নদীতে ৫ থেকে ৬ ফুট পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় দাকোপ ৩১নং পোল্ডারের তিলডাঙ্গা কামিনীবাসিয়া পুলিশ ক্যাম্পের পশ্চিমে ৩শ’ গজ বেড়িবাঁধ ও ৩২নং পোল্ডারের নলিয়ান ফরেস্ট অফিসের দক্ষিণে ৫০ গজ রাস্তা শিবসা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে।
সুতারখালী ইউপি চেয়ারম্যান মাসুম আলী ফকির জানান, সোমবার বিকেলে শিবসা নদীর প্রবল জোয়ারের তোড়ে বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় অনেকে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে বাঁধটি সংস্কারের জন্য চেষ্টা করা হলেও নদীর প্রবল জোয়ারের তোড়ে তা আবারও ভেঙে যাচ্ছে। তিলডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান রনজিত কুমার ম-ল জানান, পাউবো কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে নদী ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। এ বাঁধটি সংস্কারের জন্য পাউবো কর্তৃপক্ষকে বার বার বলা হলেও তারা অদ্যবধি সংস্কার বা বিকল্প বাঁধ নির্মাণে এগিয়ে আসেনি।
এ ব্যাপারে দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মারুফুল আলম বলেন, সরেজমিনে কামিনিবাসিয়া নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছি। নদীগর্ভে বিলীন হওয়া ৩৪টি পরিবারের আর্থিক সহায়তা ও পুর্নবাসনের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি। এ নদী ভাঙনের কারণে অনেক পরিবারের বসত ঘর-বাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় তারাও আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। সকল ক্ষতিগ্রস্তের ক্ষতির পরিমাণ ও নামের তালিকা প্রস্তুত করার জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
কয়রায় বেড়িবাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ : খুলনার কয়রা উপজেলার গাববুনিয়ায় পাউবোর বেড়িবাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে। এতে ভাঙন ধরায় নদী তীরবর্তী মানুষ রয়েছে আতঙ্কে। সরেজমিন দেখা গেছে, পাউবোর ১৩/১৪-২ পোল্ডারের শাকবাড়িয়া নদীর গাববুনিয়া বেড়িবাঁধ ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়েছে। স্থানীয়ারা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বেশ কয়েক দিন ভাঙনরোধে কাজ করলেও সোমবার দুপুরে নদীতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়িবাঁধ উপচে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে। তাৎক্ষণিক এলাকাবাসী কাজ করে পানি আটকাতে পারলেও রাতের জোয়ার নিয়ে তারা শঙ্কিত। আর ভাঙন আতঙ্কে এলাকা ছাড়ছে স্থানীয়রা। উত্তর বেদকাশি ইউপি চেয়ারম্যান সরদার নুরুল ইসলাম বলেন, গাববুনিয়া এলাকার বেড়িবাঁধে প্রায় ভয়াবহ ভাঙন ধরেছে। বেশ কিছু দিন সেখানে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কাজ করে কোনো রকম পানি আটকানো সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে এই ভাঙন কবলিত এলাকায় চলাচলের জন্য সকল প্রকার যানবাহন বন্ধ রাখা হয়েছে দীর্ঘদিন। কিন্তু সোমবার দুপুরে ৫০/৬০ হাত বেড়িবাঁধ জোয়ারের পানি উপচে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। তাৎক্ষণিক বস্তায় মাটি ভরাট করে পানি আটকানো হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ রক্ষা না হলে এই এলাকার ৪/৫টি গ্রাম যে কোনো মুহূর্তে প্লাবিত হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এতে করে মৎস্য সম্পদ ক্ষতির পাশাপাশি চলতি মওসুমে আমন ধানের মারাত্মক ক্ষতি হবে।
পাউবোর আমাদী সেকশন কর্মকর্তা সেলিম হোসেন বলেন, ভাঙনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রাথমিকভাবে এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে ভাঙনরোধে কাজ শুরু করা হয়েছে। এ ব্যাপারে কয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিমুল কুমার সাহা বলেন, গাববুনিয়া বেড়িবাঁধের বিষয়টি পাউবোর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে ভাঙনরোধে কাজ করা হবে বলে তিনি জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ