ঢাকা, বুধবার 15 August 2018, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫, ৩ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সর্বক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতি ও রক্তপাতের ওপর ক্ষমতাসীন আ’লীগ দাঁড়িয়ে আছে

স্টাফ রিপোর্টার: অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার করে ঈদের আগেই দলের চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানিয়েছে বিএনপি। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ দাবি জানান। তিনি বলেন, অবিচল অঙ্গীকারে দৃঢ় মনোবল নিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সরকারের অন্যায় মোকাবিলা করছেন দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। আরেকটি একতরফা নির্বাচন আয়োজনের জন্য শেখ হাসিনার একমাত্র প্রতিপক্ষ হিসেবে বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দী করে রেখেছে। আমরা স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, দেশনেত্রীকে কারাগারে আটকে রেখে এদেশে একতরফা নির্বাচন হবে না। শূন্য কেন্দ্রে ভোটারবিহীন ইলেকশনের নামে সিলেকশন হতে দেয়া হবে না। এ সময় কোটা সংস্কার আন্দোলনে সরকারের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেন রিজভী।
ক্ষমতাসীন আ’লীগ প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই বেগম জিয়াকে নিপীড়নের শৃঙ্খলে আটকে রেখেছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, আইনী প্রক্রিয়ার নামে আওয়ামী লীগ সরকারি প্রক্রিয়ায় বেগম জিয়ার ওপর নামিয়ে আনা হয়েছে জুলুম ও অত্যাচার। অবৈধ সরকার নিজেদের নিরাপদ রাখতেই এ জুলুম ও অত্যাচার করছে। তারা বহুদলীয় গণতন্ত্র ও সুষ্ঠু নির্বাচনকে বিপদ মনে করে। তাই গণতন্ত্রে স্বীকৃত মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে বয়ে যাওয়া আন্দোলনের আপসহীন নেত্রীকে নিয়ে তাদের যত ভয় ও আতঙ্ক। আতঙ্ক মুক্ত হতেই তারা বেগম জিয়াকে মুক্ত রাখেনি। তাকে সুচিকিৎসা নেয়ার সুযোগ পর্যন্ত নিতে দেয়া হয়নি। আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী শুধু তাকে আটক করেই ক্ষান্ত হয়নি, বিপর্যস্ত করতে কারাগারেই নানামুুখী নির্যাতন করা হচ্ছে। তার কক্ষ শুধু জ্বরাজীর্ণ ধুলাবালীতে আকীর্ণ নয়, স্যাঁত-স্যাঁতে মেঝেতে কীট প্রতঙ্গের উপদ্রব বিভৎস্যরূপ ধারণ করেছে।
রিজভী বলেন, সরকারি চাকরিতে যৌক্তিক কোটা সংস্কারের মাধ্যমে মেধার ওপর গুরুত্বারোপে ছাত্র-ছাত্রীদের দাবিকে বার বার অগ্রাহ্য করেছে সরকার। কোটা সংস্কারের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী কোটা বিলুপ্তির ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সে ঘোষণা বাস্তবায়িত করা হলো না। প্রতারিত হলো কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা। সরকারি বাহিনী ও সশস্ত্র ছাত্রলীগের ক্যাডাররা রড, বাঁশের লাঠি ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করলো কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর। হাত-পা কোমর ভেঙ্গে দেওয়া হলো শিক্ষার্থীদের। ক্যাম্পাসে নিষ্পাপ ছাত্র-ছাত্রীদের রক্তে রঞ্জিত হলো। গ্রেফতার ও রিমান্ডে অবর্ণনীয় নির্যাতনের শিকার হলো তারা। এখন আবার সচিব পর্যায়ের কমিটি প্রায় সর্ব পর্যায়ের কোটা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। কিন্তু আদালতের রায়ের কথা উল্লেখ করে কোটা সংস্কার আরও প্রলম্বিত করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। অথচ আদালতের কোনো রায় নেই, পর্যবেক্ষণ আছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা কোটা বাতিল চায় না তারা কোটা সংস্কার চায়। কিন্তু আবারও সব কোটা বাতিল করার প্রস্তাব মানেই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আবারও প্রতারণার কৌশল অবলম্বন। এটিও আরেকটি প্রহসন।
বিএনপির এ নেতা বলেন, আওয়ামী সরকার প্রতারণা ও ছলনার ওপর শাসন দণ্ড অবৈধভাবে ধরে রেখেছে। সর্বক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতি ও রক্তে পাতের ওপর এ সরকার দাঁড়িয়ে আছে। সরকার দেশকে নীরব নিস্তব্ধ করতেই পছন্দ করে। কথা বলা, প্রতিবাদ সমালোচনা শুনলেই কা-জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। গণতন্ত্রের সারাৎসার স্বাধীনভাবে চিন্তা করা ও সত্যকে স্বাধীনভাবে সন্ধান করা এ সরকারের আমলে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। অবৈধ কর্তৃপক্ষের হুকুম মেনে চলা গণতন্ত্র নয়। কিন্তু ভোটারবিহীন সরকার চায় তাদের হুকুমেই সবাইকে মেনে চলতে হবে। সেজন্য তারা নির্মূলের নীতি বাস্তবায়ন করছে। আর এ কারণেই মনুষত্ব বিসর্জন দিয়ে নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদের আন্দোলনকে রক্তাক্ত করা হয়েছে, রক্তে ভিজিয়ে দেওয়া হয়েছে তাদের স্কুল ড্রেস। আন্দোলন দমাতে নির্বিচারে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, রিমান্ডে নিয়ে অকথ্য নির্যাতন করা হচ্ছে এবং তাদের জামিন দেওয়া হচ্ছে না। অথচ প্রধানমন্ত্রী দুদিন আগে বলেছেন শিক্ষার্থীদের আন্দোলন তাদের পথ দেখিয়েছে। একদিকে প্রশংসা আরেক দিকে বর্বোরচিত দমন-পীড়ন এক অদ্ভুত দ্বিচারি সরকার। শিশু-কিশোরদের সাথেও প্রতারণা করতেও এরা বেপরোয়া। ন্যায্য আন্দোলন সরকারের কাছে অপরাধ। আটককৃত শিশু -কিশোররা পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত, এ ঈদের উৎসব থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। সশস্ত্র ছাত্রলীগ-যুবলীগের হেলমেটধারিরা পুলিশের বেস্টনিতে থেকে শিশু-কিশোর ও সাংবাদিকদের উপর আক্রমন করে রক্তাক্ত করল। পুলিশের আইজি বলেছেন, গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, অথচ তিনি সেই হেলমেটধারিদের ধরার কথা কিছুই বলেননি, পুলিশ ধরছে আহত শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের ও সামাজিক গণমাধ্যম ব্যবহারকারীদের। সরকার আহত শিশু-কিশোরারা অপরাধী বানালো, অথচ যারা রক্তাক্ত করলো, গুলী ছুঁড়ল তারা বীর হিসাবে আখ্যায়িত হলো। তাদের বিষয়ে মন্ত্রী থেকে শুরু করে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও থানা পুলিশও টু শব্দটিও করছে না। অবিলম্বে ছাত্র-ছাত্রীদের নির্বিচারে গ্রেফতার বন্ধ করতে হবে, এ পবিত্র ঈদুল আযহার আগেই আটককৃত সকল শিক্ষার্থীদের মুক্তি দিতে হবে।
সরকার মানবাধিকার লংঘন করছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেইে নির্দয় বিবেকহীন নিপীড়ন চালাচ্ছে। এ ছাড়া আর কোনো বৈশিষ্ট্যই অর্জন করতে পারে নি। একের পর মানবাধিকার লঙ্ঘন করে নারকীয় ঘটনার মাধ্যমে এক হানাদারী শাসন কায়েম করেছে জনগণের ওপর। বিরোধী দলহীন, প্রতিবাদহীন সভা-সমাবেশহীন দেশকে বিরাণভূমিতে পরিণত করার চেষ্টা চালাচ্ছে এ অবৈধ সরকার। আর সেজন্য গ্রেফতার এবং মিথ্যা মামলার হিড়িকে সারা বাংলাদেশের বিএনপি নেতা-কর্মীরা ঈদের প্রাক্কালেও এক দুর্বিষহ জীবন কাটাতে হচ্ছে। গত তিন চার দিনের মধ্যে ঢাকা জেলা, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, চট্রগ্রামে মিথ্যা মামলা দায়ের করে বিএনপি নেতাদের নামসহ অসংখ্য অজ্ঞাতনামা রেখে মামলায় জড়ানো হয়েছে। সেই অজ্ঞাতনামা মামলায় পুলিশ ওৎ পেতে যখন যেমন খুশি নির্বিচারে বিএনপি নেতা-কর্মীদের আটক করছে। হাজার হাজার নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গ্রেফতার আতঙ্কে এখন ঘর ছাড়া এলাকা ছাড়া তারা। চলছে লাগামহীন গ্রেফতার বাণিজ্য। নেত্রকোণা জেলায় পৃথক দু’টি বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলায় দূর্গাপুর উপজেলায় দেড়শ জন ও কলমা কান্দা উপজেলায় ১শ’ ৬০জন অজ্ঞাত নামাদের আসামী করা হয়েছে। ঢাকা জেলার সাভারে একটি, নবাবগঞ্জ থানায় দুটি, দোহারে একটি, আশুলিয়ায় একটি, ধামরাইয়ে একটি মামলা দায়ের করা হযেছে। সাভারের মামলায় জেলার সভাপতি ডা. সালাহ উদ্দিন বাবু, বিএনপি নেতা বিপ্লব দেওয়ান, মাহমুদুল হাসান আলাল ও শামসুল হুদাসহ ৫০জনকে আসামি করা হযেছে। দোহার ও নবাবগঞ্জ থানায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু আসফাকসহ অসংখ্য নেতা-কর্মীকে আসামী করা হয়েছে। ধামরাইয়ে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদসহ অসংখ্য অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে। ময়মনসিংহ জেলায় ময়মনসিংহ সদর, হালুয়াঘাট ও ধুবাওড়ায় অসংখ্য অজ্ঞাত আসামী করে মামলা করা হয়েছে। আমি এসব মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এ মামলা উদ্দেশ্যপ্রণোদীত। গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করতে সরকারের ব্যর্থ প্রচেষ্ঠার অংশ। অবিলম্বে এসব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ