ঢাকা, বুধবার 15 August 2018, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫, ৩ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

হামলাকারীরা গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত সাংবাদিকরা রাজপথ ছাড়বে না

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এশিয়ান জার্নালিস্ট চেরিটেবল সোসাইটি আয়োজিত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতার ও গণমাধ্যমে আরোপিত বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেছেন, সরকার একের পর এক ইস্যু তৈরি করে সাংবাদিকদের আন্দোলন অন্যদিকে প্রবাহিত করতে চাইছে। সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতার না করে সরকার নানা তালবাহানা শুরু করেছে। সময় ক্ষেপণ করা হচ্ছে যেন ধীরে ধীরে সাংবাদিকদের আন্দোলন স্তিমিত হয়ে পড়ে। এ চিন্তা করা ভুল হবে। কেননা সাংবাদিকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে, তাদের ওপর হামলা হবে, রক্ত ঝরবে আর হামলাকারীদের বিচার হবে না তা হবে না। আমরা অনেক সহ্য করেছি আর নয়। দোষীদের শাস্তি না দেয়া পর্যন্ত সাংবাদিকদের আন্দোলন থেকে ফেরানো যাবে না। হামলাকারীরা গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত সাংবাদিকরা রাজপথ ছাড়বে না।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এশিয়ান জার্নালিস্ট চেরিটেবল সোসাইটি আয়োজিত পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতার ও গণমাধ্যমে আরোপিত বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। সংগঠনের সভাপতি মাজাহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে সভাপতি রুহুল আমিন গাজী। বক্তব্য দেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজের সভাপতি  কাদের গনি চৌধুরী, সাবেক সভাপতি কবি আবদুল হাই শিকদার, সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম, জাতীয় প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, প্রিজারভেশন অব বাংলাদেশ উইমেন এন্ড চিল্ড্রেন হিউম্যান রাইট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জ্যো¯œা আক্তার বেবি, সাংবাদিক নেতা নুরুল আমিন রোকন, কামরুজ্জামান কাজল প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ডিইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক দিদারুল আলম।
রুহুল আমিন গাজী বলেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনের নিউজ কাভার করতে গিয়ে সাংবাদিকরা নারকীয় হামলার শিকার হয়েছে। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দুইদিনে ৬০ জন সাংবাদিক আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতার করে শাস্তি না দেয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। কোনো ইস্যু তৈরি করে এ আন্দোলন থামানো যাবে না।
তিনি বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীরা শিখিয়েছে কিভাবে রাস্তায় শৃংখলা আনা যায়। কিন্তু পুলিশ শিখতে পারেনি। কেননা পুলিশ ঘুষ খাওয়া নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এজন্য তারা রাস্তায় শৃংখলা আনতে পারে না। আর শিশুরা ঘুষ খায়নি বলেই রাস্তায় শৃংখলা এসেছিল। আর সেই আন্দোলনে পুলিশের সামনে ছাত্রলীগের পেটোয়াবাহিনী তাদের ওপর হামলা করেছে। হামলা থেকে সাংবাদিকরাও রেহাই পায়নি। কারা হামলা করেছে মিডিয়া তাদের দেখিয়েছে। নতুন করে সনাক্ত করার কোনো প্রয়োজন নেই। দ্রুত তাদের গ্রেফতার করে শাস্তি দিন। দেশে গণতন্ত্র না থাকলে সাংবাদিকদের স্বাধীনতা থাকে না। আর গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের বিকল্প নেই। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হলে অবশ্যই নির্যাতনের বিচার হবে।  
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহের সময় ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা সাংবাদিকদের ওপর যে নৃশংস হামলা চালিয়েছে তা কোনো মানুষের পক্ষে করা সম্ভব না। এমন পরিস্থিতিতে আমরা নীরব থাকতে পারি না। দেশে আজ দানবের শাসন চলছে। শিক্ষার্থীদের অহিংস আন্দোলনকে ছাত্রলীগ সহিংস আন্দোলনে রুপ দিয়েছে। সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতনকারীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না। আর যাদের ওপর নির্যাতন করা হয়েছে  সেই শিক্ষার্থীদের জেলে রাখা হয়েছে এটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।
মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, যেভাবে দিনের পর দিন হামলা-নির্যাতন করা হচ্ছে, এমন পরিস্থিতিতে আমরা সাংবাদিক সমাজ নীরব থাকতে পারি না। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহের সময় ছাত্রলীগের যেসব সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। তিনি বলেন, রাজপথ নিরাপদ করুন। নইলে ফায়সালা রাজপথেই হবে। 
কবি আবদুল হাই শিকদার বলেন,  স্বৈরাচারের সমস্ত কিছু সরকারের চেহারায় ফুটে উঠেছে। তাদের চেহারায় আয়ুব খানের চেহারা দেখা যায়। সরকারের ভয়াবহ শাসনের কারণে দেশ ব্যর্থ অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।
ইলিয়াস খান বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের সরকার ইচ্ছা করে গ্রেফতার করছে না। যেমন ইচ্ছা করে গ্রেফতার করেনি সাগর-রুনির হত্যাকারীদের। বর্তমান সরকার তাদের ফ্যাসিবাদি আচরণ বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে।  প্রত্যেক  স্বৈরশাসক ও ফ্যাসিবাদি সরকার মনে করে তারাই শেষ সরকার। কিন্তু ইতিহাস বলে কেউ টিকে থাকতে পারেনি। সরকারের বিরুদ্ধে জনগণ জেগে উঠেছে। এ সরকারের পতন হবেই। সেই পতনের আন্দোলনে সবার শরিক হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ