ঢাকা, বুধবার 15 August 2018, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫, ৩ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পিছিয়ে ৩ খাত

স্টাফ রিপোর্টার : ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে রপ্তানি আয়ের ৯৫ দশমিক ৮৪ শতাংশই এসেছে দেশের প্রধান ৮টি পণ্য খাত থেকে। এই খাতগুলো থেকে আয় হয়েছে ৩৫১৪২ দশমিক ৫৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো সূত্রে এই তথ্য পাওয়া গেছে। সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। আর রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পিছেয়ে পড়েছে হিমায়িত খাদ্য, চামড়া এবং প্রকৌশল খাত।
রফতানিকৃত ৮টি খাতের মধ্যে রয়েছে ওভেন পোশাক, নীটওয়্যার, হোম টেক্সটাইল, হিমায়িত ও জীবিত মাছ, কৃষিজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত দ্রব্য, চামড়া-চামড়াজাত পণ্য ও চামড়ার পাদুকা এবং প্রকৌশল দ্রব্যাদি।
এবছর সবচেয়ে বেশি রফতানি আয় হয়েছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। আর এখাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে  ১০ দশমিক ৪০ শতাংশ। আর সবচেয়ে কম আয় হয়েছে প্রকৌশল খাত থেকে। এ খাতে আয় কমেছে ৪৮ দশমিক ৩২ শতাংশ।
বিগত ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে পণ্যখাতে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ছিল ৩৪৬৫৫ দশমিক ৯২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের নির্ধারিত রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ৩৭,৫০০.০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে পণ্য খাতের অর্জিত রপ্তানি আয় ৩৬৬৬৮ দশমিক ১৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার যা বিগত ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৮১ শতাংশ বেশী।
আলোচ্য সময়ে সবচেয়ে বেশি আয় হয়েছে ওভেন বা শীতের পোষাক খাতে থেকে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ওভেন পোশাকের রপ্তানি আয় ১৫৪২৬ দশমিক ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা বিগত বছরে একই সময় অপেক্ষা ৭ দশমিক ১৮ শতাংশ বেশী। উক্ত সময়ে মোট রপ্তানিতে এ খাতের অবদান ৪২ দশমিক ০৭ শতাংশ।
ওভেন পোশাক খাতের পরেই রয়েছে নীট পোষাক খাত। রপ্তানি আয়ের ৪১ দশমিক ৪২ শতাংশই এসেছে এই খাত থেকে। নীট পোষাক খাতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ১৫১৮৮ দশমিক ৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা বিগত বছরে একই সময়ের ১৩৭৫৭ দশমিক ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তুলনায় ১০ দশমিক ৪০ শতাংশ বেশী।
 হোম টেক্সটাইল খাতে ২০১৭-১৮ অর্থ-বছরে রপ্তানি আয় হয়েছে ৮৭৮ দশমিক ৬৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিগত বছরে এই খাতে আয় হয়েছিল ৭৯৯ দশমিক ১৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সেই তুলনায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আয় বৃদ্ধি পেয়েছে ৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ। উক্ত সময়ে মোট রপ্তানিতে এ খাতের অবদান ২ দশমিক ৪০ শতাংশ।
হিমায়িত ও জীবিত মাছ রপ্তানিতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আয় হয়েছে ৫০৮ দশমিক ৪৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা বিগত বছরে একই সময়ের ৫২৬ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৪২ শতাংশ কম। বিগত অর্থবছরের রপ্তানি আয় ৪৬৪ দশমিক ৩২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তুলনায় ৮ দশমিক ২৩ শতাংশ হ্রাস পেয়ে এই অর্থবছরে এ পণ্যটির রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪২৬ দশমিক ০৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। উক্ত সময়ের মোট রপ্তানিতে হিমায়িত ও জীবিত মৎস্য খাতের অবদান ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
কৃষিজাত পণ্য খাতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রপ্তানি আয় হয়েছে ৬৭৩ দশমিক ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা বিগত বছরে একই সময়ের ৫৫৩ দশমিক ১৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয়ের তুলনায় ২১ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেশী। উক্ত সময়ের মোট রপ্তানিতে এ খাতের অবদান ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
কাঁচা পাট ও পাটজাত দ্রব্য রপ্তানিতে গত অর্থবছরের তুলনায় ৬ দশমিক৫৬ শতাংশ বেশি আয় করেছে বাংলাদেশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রপ্তানি আয় হয়েছে ১০২৫ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার যা বিগত বছরে একই সময়ের ৯৬২ দশমিক ৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় অপেক্ষা ৬ দশমিক ৫৬ শতাংশেরও বেশী। উক্ত সময়ের মোট রপ্তানিতে এ খাতের অবদান ২ দশমিকম ৮০ শতাংশ।
চামড়া-চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা খাতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রপ্তানি আয় হয়েছে ১০৮৫ দশমিক  ৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা বিগত বছরে একই সময়ের ১২৩৪ দশমিক ০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয়ের তুলনায় ১২ দশমিক ০৩ শতাংশ কম। উক্ত সময়ের মোট রপ্তানিতে এ খাতের অবদান ২ দশমিক ৯৬ শতাংশ।
প্রকৌশল দ্রব্যাদি খাতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৫৫ দশমিক ৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা বিগত বছরে একই সময়ের ৬৮৮ দশমিক ৮৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় অপেক্ষা ৪৮ দশমিক ৩২ শতাংশ কম।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ