ঢাকা, বুধবার 15 August 2018, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫, ৩ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শহীদ আবদুল মালেক : বাংলাদেশের ইসলামী শিক্ষা আন্দোলনের মহানায়ক

ড. মোবারক হোসাইন : শিক্ষা একটি জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষা মূলত মানুষের আধ্যাত্মিক ও মানসিক বিকাশ ঘটায়। যে শিক্ষা মনুষ্যত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধের চেতনাকে জাগ্রত করতে ব্যর্থ সে শিক্ষা জাতির কোনো কল্যাণে তো আসেই না বরং একটি জাতিসত্তাকে দুর্বল করে ফেলে খুব সহজেই। ১৯৬৯ সালে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে চলমান ষড়যন্ত্র উপলব্ধি করতে পেরে শহীদ আবদুল মালেক এগিয়ে আসেন আদর্শ মানুষ গঠন ও একটি সুন্দর সমাজ বিনির্মাণের মেন্যুফেস্টো নিয়ে, জাতির সামনে পেশ করেন ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থার রূপরেখা। শহীদ আবদুল মালেক দৃঢ়তার সাথে দৃপ্তকণ্ঠে গোটা জাতির কাছে ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। অবশেষে কুপোকাত হয় ইসলামবিদ্বেষীদের সকল রাশভারী ষড়যন্ত্র; আব্দুল মালেকের বক্তব্যের পক্ষে ছাত্রসমাজের সমর্থনের মধ্য দিয়ে বিজয়ী হয় শহীদ আবদুল মালেকের স্বপ্ন। কিন্তু বাতিল শক্তি শহীদ আব্দুল মালেকের আদর্শের কাছে পরাজিত হয়ে তাঁকে হত্যার সিদ্ধান্ত নিয়ে উপর্যুপরী আঘাত করে। শাহাদাতের অমীয় সুধা পান করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী মুখ সবার প্রিয় শহীদ আব্দুল মালেক। সময়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আজও এদেশের মানুষ শহীদ আবদুল মালেককে খুব অনুভব করছেন। শহীদ আবদুল মালেককে হত্যা করে ঘাতকরা আবদুল মালেকের আদর্শকে মুছে দিতে পারেনি বরং শহীদ আবদুল মালেক আজ লক্ষ-কোটি ছাত্র-জনতার হৃদয়ের মানুষে পরিণত হয়েছেন। একটি আদর্শিক জাতি উপহার দিতে হলে শহীদ আবদুল মালেকের প্রস্তাবিত সেই শিক্ষানীতির অনুসরণ সময়ের অনিবার্য দাবি হয়ে উঠেছে।
ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থার পক্ষে অবস্থানের যৌক্তিকতা ও শাহাদাতের প্রেক্ষাপট : ১৯৬৯ সালে পাকিস্তানজুড়ে ব্যাপক গণ-অভ্যুত্থান দেখা দেয়। ফলে আইয়ুব সরকারের পতন ঘটে এবং জেনারেল ইয়াহিয়া ক্ষমতার মসনদে আরোহণ করেন। এরই একপর্যায়ে এয়ার মার্শাল নূর খানের নেতৃত্বে একটি শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। এই রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পর শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দেখা দেয়। ছাত্রসমাজের একটি অংশ ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠনের দাবি তুলে। ১৯৬৯ সালে শহীদ আব্দুল মালেকসহ ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল পাকিস্তানের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী এয়ার মর্শাল নুর খানের সাথে সাক্ষাৎ করে দেশে সার্বজনীন ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থা চালুর দাবি করেন। শহীদ আবদুল মালেকের প্রতিনিধিদলের পর দেশের অন্য আরও বেশকিছু সংগঠনও একই দাবি তোলে। সবার দাবির মুখে অল্প কিছুদিনের মধ্যে সরকার নতুন শিক্ষানীতি প্রণয়নের লক্ষ্যে একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করে। এটি ছিল পাকিস্তান আমলের গঠিত সর্বশেষ শিক্ষা কমিশন। গঠিত শিক্ষা কমিশন একটি শিক্ষানীতিও ঘোষণা করে। ঘোষিত শিক্ষানীতিতে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলেও এতে ইসলামী আদর্শের প্রাধান্য পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু তাতে বাধ সাধে সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের ধ্বজাধারীরা। তারা এ শিক্ষানীতি বাতিলের দাবি জানায়। এমনই প্রেক্ষাপটে শিক্ষা ব্যবস্থার আদর্শিক ভিত্তি কী হবে তা নিয়ে জনমত জরিপের আয়োজন করা হয়। জনমত জরিপের অংশ হিসেবে ১৯৬৯ সালের ২রা আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নিপা) ভবনে (বর্তমান ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ) শিক্ষানীতির ওপর একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই আলোচনা সভায় বামপন্থীদের বিরোধিতামূলক বক্তব্যের মধ্যে শহীদ আবদুল মালেক মাত্র ৫ মিনিট বক্তব্য রাখার সুযোগ পান। অসাধারণ মেধাবী বাগ্মী শহীদ আবদুল মালেকের সেই ৫ মিনিটের যৌক্তিক বক্তব্যে উপস্থিত সবার চিন্তার রাজ্যে এক বিপ্লবী ঝড় সৃষ্টি করে। ফলে সভার মোটিভ পুরোপুরি পরিবর্তন হয়ে যায়। জাতির শিক্ষাব্যবস্থার আদর্শিক ভিত্তির বিষয়ে তিনি সেদিন স্পষ্ট করে বলেছিলেন, “Pakistan must aim at ideological unity, not at ideological vacuum- it must impart a unique and integrated system of education which can impart a common set of cultural values based on the precept of Islam. We need common set of cultural values, not one set of cultural values.”
তাঁর বক্তব্যের এ ধারণাটিকে তিনি যুক্তিসহকারে খুব সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছিলেন। উপস্থিত শ্রোতা, সুধীম-লী এবং নীতিনির্ধারকরা শহীদ আবদুল মালেকের বক্তব্যের সাথে ঐকমত্য পোষণ করে একটি সার্বজনীন ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থার পক্ষে মত দেন। আবদুল মালেকের তত্ত্ব ও যুক্তিপূর্ণ অথচ সংক্ষিপ্ত বক্তব্য ক্ষিপ্ত করে দেয় ইতঃপূর্বে ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থার পক্ষে বক্তব্য রাখা বাম, ধর্মনিরপেক্ষ ও ইসলামবিরোধী বক্তাদের। সকল বক্তার বক্তব্যের মাঝ থেকে নীতিনির্ধারক এবং উপস্থিত শ্রোতা-সুধীমন্ডলী যখন আবদুল মালেকের বক্তব্যকে পূর্ণ সাপোর্ট দেয় তখন আদর্শের লড়াইয়ে পরাজিত বাম ও ধর্মনিরপেক্ষ গোষ্ঠীর সকল ক্ষোভ গিয়ে পড়ে শহীদ আবদুল মালেকের ওপর। নিপার আলোচনা সভায় বাম ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থার পক্ষে জনমত তৈরিতে ব্যর্থ হওয়ার পর তাদের হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য ডাকসুর নামে ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষার পক্ষে প্রস্তাব পাস করানোর উদ্দেশে দশ দিনের ব্যবধানে অর্থাৎ ১২ আগস্ট ঢাবির ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনে (টিএসসি) এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। ছাত্রদের পক্ষ থেকে শহীদ আব্দুল মালেকসহ কয়েকজন ইসলামী শিক্ষার ওপর কথা বলতে চাইলে তাদের সুযোগ দেয়া থেকে বঞ্চিত করা হয়। সভার একপর্যায়ে জনৈক ছাত্রনেতা ইসলামী শিক্ষার প্রতি কটাক্ষ করে বক্তব্য রাখে। তখন উপস্থিত শ্রোতারা এর তীব্র বিরোধিতা করে ইসলামী শিক্ষার পক্ষে স্লোগান দেয়। আবদুল মালেক তার সঙ্গী-সাথীদের নিয়ে টিএসসির আলোচনা সভাস্থলেই তার প্রতিবাদ করেন। এই প্রতিবাদ সংঘর্ষে রূপ লাভ করে। সংঘর্ষ একপর্যায়ে থেমে যায়। কিন্তু দ্বিতীয় পর্যায়ে আবদুল মালেক ও তাঁর কতিপয় সঙ্গীকে টিএসসির মোড়ে সেকুলারপন্থীরা হামলা করে এবং রেসকোর্সে এনে তার মাথার নিচে ইট দিয়ে ওপরে ইট ও লোহার রড দিয়ে আঘাত করে মারাত্মকভাবে জখম করে এবং অর্ধমৃত অবস্থায় ফেলে চলে যায়। ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়ন যৌথভাবে এ পরিকল্পিত হামলার নেতৃত্ব দান করে। সেখান থেকে উদ্ধার করে আবদুল মালেক ভাইকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালেই ১৫ আগস্ট তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
শহীদ আবদুল মালেকের শাহাদাতে শোকাহত সমগ্র জাতি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সম্ভবত আবদুল মালেক ভাইয়ের মতো মেধাবী ছাত্রনেতার শাহাদাত এর আগে ঘটেনি। ফলে আবদুল মালেক ভাইয়ের শাহাদাতে গোটা দেশ স্তব্ধ হয়ে যায়। সর্বমহলে এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে আসে। জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানের বিদায়ে কেঁদেছে গোটা জাতি। দলমত নির্বিশেষে সবাই এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সে সময়ের সংবাদপত্র তার সাক্ষী। আওয়ামী লীগের তদানীন্তন সভাপতি মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানও বিবৃতি দিয়ে ঘটনার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিভাবান ছাত্রনেতারা আবদুল মালেকের শাহাদাতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। এছাড়াও সকল জাতীয় নেতা নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছিলেন সেসময়। এ থেকেই বোঝা যায়, শহীদ আবদুল মালেকের শাহাদাত কতটা আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
শহীদ আবদুল মালেকের জানাযা অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে। আওলাদে রাসূল (সা) সাইয়েদ মোস্তফা আল মাদানী জানাযার ইমামতি করেন। জানাযার পূর্বে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেছিলেন, “শহীদ আবদুল মালেকের পরিবর্তে আল্লাহ যদি আমাকে শহীদ করতেন তাহলে আমি নিজেকে ধন্য মনে করতাম। বিশ্ববরেণ্য ইসলামী চিন্তাবিদ সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী (রহ) তাঁর শোকবাণীতে মন্তব্য করেন, “এক মালেকের রক্ত থেকে লক্ষ মালেক জন্ম নেবে।” তাঁর এ মন্তব্য অক্ষরে অক্ষরে সত্যে পরিণত হয়েছে। শহীদ আবদুল মালেকের শাহাদাতের সংবাদ শুনে সেদিন বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম নেতা সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী (রহ) বলেছিলেন, “আবদুল মালেক এদেশের ইসলামী আন্দোলনের প্রথম শহীদ তবে শেষ নয়”। এক আবদুল মালেকের শাহাদাতের ফলে আন্দোলন শত শত আবদুল মালেককে পেয়েছে যারা তাঁর মতো মনে-প্রাণে শাহাদাত কামনা করে। শহীদ আবদুল মালেককে হত্যা করে ইসলামী আদর্শকে স্তব্ধ করা যায়নি।
অনুপ্রেরণার মিনার শহীদ আবদুল মালেক
 ১. অতুলনীয় মেধার স্বাক্ষর :
“যখন তুমি এসেছিলে ভবে
 কেঁদেছিলে তুমি
 হেসেছিলো সবে।
এমন জীবন তুমি করিও গঠন
মরণে হাসিবে তুমি
কাঁদিবে ভুবন।” - কাজী নজরুল ইসলাম
১৯৪৭ সালে বগুড়া জেলার ধুনটের খোকসাবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণকারী শহীদ আবদুল মালেক ছিলেন ঈর্ষণীয় মেধার অধিকারী। এসএসসি এবং এইচএসসিতে তিনি রাজশাহী বোর্ডে যথাক্রমে একাদশ ও চতুর্থ স্থান অধিকার করেছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়নের ছাত্র আবদুল মালেক এত মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও ক্যারিয়ার নিয়ে কখনও ভাবতেন না। সবসময় ব্যস্ত থাকতেন ইসলামী আন্দোলন নিয়ে। তিনি বলেতেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসের চাইতে ইসলামী ছাত্রসংঘের অফিস আমার কাছে অধিক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”
১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৬৯ সাল- মাত্র ২২ বছর। এই ছোট্ট জীবনে শহীদ আবদুল মালেকের একেকটি কর্ম যেন একেকটি ইতিহাস হয়ে আছে। তার কর্মময় জীবন ইসলামী আন্দোলনের প্রতিটি কর্মীর জন্যই অনুপ্রেরণার। তিনি জীবনে যেমন একটি সুন্দর ক্যারিয়ার তৈরি করেছিলেন, তেমনি ইসলমী আন্দোলনের প্রয়োজনে সে ক্যারিয়ার সেক্রিফাইস করে প্রমাণ করে দিয়ে গেছেন, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের কাছে সকল বাধা তুচ্ছ, সকল পিছুটান নিঃস্ব।
২. সহজ-সরল জীবনযাপন : শহীদ আবদুল মালেক অত্যন্ত সাদামাটা জীবনযাপন করতেন। পোশাক বলতে ছিল একটি কম দামি সাদা পায়জামা ও পাঞ্জাবি যাতে ইস্ত্রির দাগ কেউ কখনো দেখেছে বলে জানা যায় না। রাতের বেলায় নিজ হাতে তিনি তা পরিষ্কার করতেন। যেন পরের দিনের সূচনায় তা আবার পরা যায়। অনেকের মত নূর মুহাম্মদ মল্লিকও লিখেছেন সারাদিন কাজ করে রাতের বেলায় তাঁর নিজের হাতে ক্লান্ত শরীরে সেই একমাত্র পাজামা-পাঞ্জাবি ধোয়া রুটিন কাজের কথা। কোন এক রাতে সেটি ধোয়া সম্ভব হয়নি বলে সকালে ধোয়া পাঞ্জাবি আধা ভেজা অবস্থায় গায়ে জড়িয়ে মালেক ভাই গিয়েছিলেন মজলিসে শূরার বৈঠকে যোগ দিতে। মালেক ভাইয়ের পোশাক যেমন সাদাসিধে ছিল, দিলটাও তেমন সাদাসিধে শুভ্র মুক্তার মত ছিল। প্রাণখোলা ব্যবহার তাঁর চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। শহীদ আবদুল মালেক ভাইয়ের সহকর্মী আবু শহীদ মোহাম্মদ রুহুল এক সাক্ষাৎকারে আবদুল মালেক ভাই সম্পর্কে বলেছেন, “একদা আমরা একসাথে চকবাজারে কালেকশনে যাই। তখন তাঁর অতি সাধারণ ইস্ত্রিবিহীন পাঞ্জাবি-পায়জামা এবং চপ্পল দেখে এক সুধী মালেক ভাইকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নয় বলে মনে করেন। এতে সহকর্মীরা ক্ষুব্ধ হলে মালেক ভাই আমাদেরকে এ বলে সান্ত¡না দেন যে, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কিনা তা আল্লাহই ভালো জানেন। আমি আমার জন্য যে মানের পোশাক প্রয়োজন মনে করেছি সে মানের পোশাকই পরিধান করেছি। কে আমার পোশাক দেখে কী ভাবল তাতে আমার কোনো ভাবনা নেই।”
৩. সংগ্রামী জীবন : ইসলামী নেতৃত্ব সংগ্রাম, সঙ্ঘাত ও কঠিন অগ্নিপরীক্ষার মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়। শহীদ আবদুল মালেক তাঁর সংগ্রামী জীবনের পদে পদে সেই পরীক্ষাই দিয়ে গেছেন। সারাটা জীবন কষ্ট করেছেন। আর্থিকভাবে খুবই অসচ্ছল একটি পরিবারে তার জন্ম হয়েছিল। তাই জীবনযাপনের অতি প্রয়োজনীয় উপকরণ থেকেও তিনি ছিলেন বঞ্চিত। সেই কচি বয়সে যখন তাঁর মায়ের কোলে থাকার কথা, তিনি থেকেছেন বাড়ি থেকে অনেক দূরে লজিং বাড়িতে। দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে স্কুলে যেতে হয়েছে তাকে। ক্ষুধার যন্ত্রণা, অমানুষিক পরিশ্রম কিংবা দুঃখ-কষ্টের দিনযাপন কোন কিছুই পিচ্ছিল করতে পারেনি তাঁর চলার পথ। [চলবে]

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ