ঢাকা, বুধবার 15 August 2018, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫, ৩ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বাগমারায় আ’লীগ ঈদগাহ মাঠ দখলের অভিযোগ

আফাজ্জল হোসেন, বাগমারা (রাজশাহী) সংবাদদাতা: রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় ঈদগাহ মাঠের জায়গা দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে তক্তপাড়া ঈদগাহ মাঠের সভাপতি আব্দুস সাত্তারসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা বাদি হয়ে বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার তক্তপাড়া গ্রামে ইউপি সদস্য ও স্থানীয় আ’লীগ নেতা পিরপালের জমি যা খতিয়ান অনুসারে তেইশ শতক মুসলমানের পক্ষে জিম্মাদার হিসেবে জনৈক মেহের আলী প্রামানিক গং রয়েছেন। ওই জমিতে গ্রামবাসী ঈদগাহ মাঠ নির্মান করেন। কিন্ত একই গ্রামের ইউপি সদস্য আবুল কালাম ওই সম্পত্তির মালিক দাবী করে সেখানে ঈদগাহ নির্মান ও সংস্কারে বাধা দেয়। ওই ঘটনায় গ্রামবাসী ও ইউপি সদস্য আবুল কালামের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউপি সদস্য আবুল কালাম বাগমারা থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দাখিল করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে গ্রামবাসীর সাথে বাকবিতান্ডা বেঁধে যায়। এদিকে বৃহস্পতিবার গ্রামবাসীর পক্ষে ও নতুন ঈদগাহ মাঠ কমিটির সভাপতি আব্দুস সাত্তার উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে ইউপি সদস্য আবুল কালামকে জোরপূর্বক জমি দখলকারী হিসেবে চি‎িহ্নত করেছেন। লিখিত অভিযোগটি তদন্তের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকিউল ইসলাম সহকারী কমিশনার (ভুমি) আব্দুল্লাহ আল মামুনকে নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে আবুল কালাম সম্পত্তি গুলো তার নিজের বলে দাবী করলেও তিনি সমস্ত জমির কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। গ্রামবাসী জানান, ওই জমি শুধু মাত্র ধর্মীয় কাজে ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত রাখা যাবে, ব্যক্তির নামে কেও তা দখল নিতে পারবে না। বিষয়টি নিয়ে কথা বললে ইউপি সদস্য আবুল কালাম জানান, সম্পত্তির বৈধ কাগজপত্র থাকলেও এলাকার কতিপয় ব্যক্তি জমি দখলের পাঁয়তারা করছে। এ ব্যাপারে তক্তপাড়া জামে ঈদগাহ মাঠের সভাপতি আব্দুস সাত্তার বলেন, মুসলমানদের পক্ষে কয়েকজন জিম্মাদারের জমিতে গ্রামবাসী মিলে ঈদগাহ মাঠ নির্মানের জন্য সংস্কার কাজ আরম্ভ করলে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কালাম উক্ত পিরপালের সম্পত্তির চার শতক সে ক্রয় করেছে বলে দাবী করে। কিন্ত পিরপালের কোন সম্পত্তি হস্তান্তরের কোন বিধান নেই। সে একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে ভুয়া দলিল করে গ্রামবাসীকে মিথ্যা মামলাসহ নানা ভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। এতে করে গ্রামবাসীর মাঝে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকিউল ইসলাম অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, পিরপালের কোন সম্পত্তি হস্তান্তরের কোন নিয়ম নেই। বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সহকারী কমিশনার (ভুমি) আব্দুল্লাহ আল মামুনকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ