ঢাকা, বুধবার 15 August 2018, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫, ৩ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

পা বিকলাঙ্গের জন্য সংসারে সবার কাছে বোঝা!

ভোলাহাট (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা: চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার অবহেলিত ছোট্ট একটি উপজেলা ভোলাহাট। আর এ উপজেলার ৩নং দলদলী ইউনিয়নের মুশরীভুজার খাসপাড়া গ্রামের গরীব-অসহায় বাবা-মায়ের প্রতিবন্ধী টগবগে তরুণী মোস্তারী খাতুন। মোস্তারীর ডান পা’টি না দেখলে বলাই যাবে না, সে একজন এক পায়ে ভর করে চলা প্রতিবন্ধী বালিকা। জন্ম নেয়ার পর একটি পা বিকলাঙ্গ। বাবা ৫বছর ও মা ১০বছর আগেই মারা গেছেন। দুনিয়ার মায়াময় সংসারের কাছেও বড় বোঝা। একমাত্র মোস্তারীর খালা রোকেয়া বেগম ওরফে ভুটন স্বামী আর ছেলেমেয়ে নিয়ে অভাব-অনটনের মধ্যেও বিকলাঙ্গ মেয়েটিকে নিয়ে অতি কষ্টের মধ্যে দিনাতিপাত করছে। এর মধ্যে তার বিয়ের বয়স হলেও না পারছে বিয়ে দিতে আর না পারছে মেরে ফেলতে বা বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দিতে। টগবগে এ তরুণী প্রতিবেদকের সাথে কথা বললে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, আমার মা নেই, বাবাও নেই। দুনিয়াতে বেঁচে থাকার অবলম্বন আমার একমাত্র খালা ভুটন। বাবা-মা মারা যাবার পর আমার যাবতীয় ভরণ-পোষণের দায়-দায়িত্ব খালা করে আসছে। আমার একটি পা বিকলাঙ্গ হওয়ায় সবাই আমাকে ভিন্ন চোখে দেখে। আমার বিয়ের বয়স হলেও বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আমার পঙ্গু পা’টি। সকলের অজান্তে আমার চেহারা-সুরত দেখে কেউ পছন্দ করলেও পরবর্তীতে পঙ্গু পা দেখে হওয়া বিয়ে থমকে দাঁড়ায়। এ অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে জন্মস্থান ভোলাহাটে অবস্থান করতে করতে বেকায়দায় পড়ে পেটের আহারের তাগিদে অনেক চিন্তাভাবনা করে পাড়ি জমায় ঢাকায়।
সেখানে কয়েক বছর ধরে একটি কোম্পানীতে অল্প টাকায় চাকরী করি। এ অবস্থায় নিজে বুঝতে পারি, একজন ভাল ডাক্তারের কাছে গেলে স্বাভাবিক সুস্থ-সবল ভাল মানুষের মত চলাফেরা এবং সকলপ্রকার কাজ কর্ম করতে পারবো। তাই চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের শরণাপন্ন হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ডাক্তার আমাকে বলে তোমার পা একদম ভাল হয়ে যাবে কিন্তু দুই লাখ টাকা খরচ হবে চিকিৎসায়। ডাক্তারের কথা শুনে বেকায়দায় পড়ি আমি ও আমার খালা। এতোগুলো টাকা কিভাবে যোগাড় করবো। দিগ্বিদিক না পেয়ে শরণাপন্ন হই পত্র-পত্রিকায় প্রকাশনার জন্যে।
মোস্তারী আরো বলে, তাই বাংলার আনাচে-কানাচে থাকা আমার ভাইদের প্রতি বিশেষ করজোড়ে অনুরোধ, আমাকে স্বাধীন বাংলার একজন সৎ মানুষের বউ বা বাংলার বধূ হতে তথা একজন প্রকৃত মানুষের মত মানুষ হতে সহায়তা করুন।
মোস্তারী খাতুনের জন্মসূত্রে ঠিকানা-মোসাঃ মোস্তারী খাতুন(১৮), গ্রাম-খাসপাড়া(৭নং ওয়ার্ড), পোঃ-মুশরীভুজা, উপজেলা-ভোলাহটি, জেলা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩৩০ ও বর্তমান চাকরীসুত্রে বসবাসরত নরসিংদীর ঠিকানা-হুতারপাড়া, বেলাবো বাজার, নরসিংদী, ঢাকা। বিকাশ নম্বর-০১৭৩৮-৩৪৫১৪৭।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ