ঢাকা, বুধবার 15 August 2018, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫, ৩ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কুষ্টিয়ায় গরু খামারীরা শেষ মুহূর্তে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে

খালিদ হাসান সিপাই, কুষ্টিয়া: কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে কুষ্টিয়ায় গরুর খামারীরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। ভালো দাম পাওয়ার আশায় গরুর খামারীরা শেষ সময়ে গরুর পরিচর্যা ও বিভিন্ন হাটে নেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন হাটে গরু উঠতে শুরু হয়েছে।
জানা যায়,  মাংসের দাম ও চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কুষ্টিয়ায় গরু মোটাতাজাকরণ  খামার গড়ে ভাগ্যের চাকা ঘুরতে শুরু করেছে খামারীদের। বাণিজ্যিকভাবে কয়েক হাজার গরু মোটাতাজাকরণ খামার গড়ে উঠেছে। কেউ শখের বশে, কেউ বেকারত্বের অভিশাপ ঘোচাতে, কেউ সংসারে সচ্ছলতা আনতে এসব খামার গড়ে তুলেছে।
ঈদকে সামনে রেখে কোরবানীর পশু  বিক্রির উদ্দেশ্যে এ জেলায় সাড়ে ৪ লাখ গরু মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে। 
এ জেলার বড় বড় গরুর সুনাম রয়েছে চারিদিকে। জেলার ৯৮৫টি গ্রামই এখন যেন একেকটি গো-খামারে পরিণত হয়েছে। গ্রামাঞ্চলের এমন কোন বাড়ী পাওয়া যাবে না যেখানে গরুর খামার নেই। বিগত কয়েক বছর গরু খামার করে অনেকেই ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছে অনেকেই।
বেকার যুবক ও দরিদ্ররা  খামার করে একদিকে যেমন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অপরদিকে খামারের গোবর থেকে বায়োগ্যাস করে সংসারে জ্বালানির সাশ্রয় করছে। ফলে জেলার বিভিন্ন গ্রামে বেকার যুবকরা এ বছরও গরু মোটাতাজাকরণে মত দিয়েছে। গরুর ভালো দাম পেলে আগামীতেও তারা গরুমোটাতাজারণ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখবে বলে অভিমত প্রকাশ করে।
গরু মোটাতাজাকরণ প্রসঙ্গে জেলার পশু সম্পদ কর্মকর্তারা জানান, খামারীরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে পশুকে পরিচর্যা ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ায় না। ফলে আমাদের খামারীদের পশু সঠিকভাবে বেড়ে ওঠে না।
গ্রামাঞ্চলের অনেক খামারী গরু দ্রুত মোটা করার জন্য ভারতীয় নিম্নমানের ওষুধ খাওয়ায়। এগুলো খাওয়ানো ঠিক না। এতে পশুর চামড়ার নিচে পানি জমে মোটা দেখালেও কার্যত মাংস বৃদ্ধি হয় না। এতে পশুর প্রচ- সমস্যা হয়। যে কোন মুহূর্তে ওইসব পশু দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে। এসব এড়াতে কুষ্টিয়ার খামারীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও গণসচেতনতা সৃষ্টি করা হয় বলে জানালেন জেলার প্রাণী ও পশু সম্পদ কর্মকর্তা।
ঈদের পূর্ব মুহূর্তে খামারীদের ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। ভালো দাম পাওয়ার আশা নিয়ে খামারীরা দেশের বিভিন্ন হাটে বিক্রির পরিকল্পনা করেছে। ভারতের পশু আমদানী না হলে খামারীদের এ আশা সফল হতে পারে। তাই দেশীয় পশুর বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে সরকার ভারতীয় গরু আমদানী বন্ধ করবেন এ দাবি জেলার খামারীদের।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ