ঢাকা, বুধবার 15 August 2018, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫, ৩ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কুমারখালীর শিশু শিপনের জীবন যুদ্ধ

মাহমুদ শরীফ, কুমারখালী (কুষ্টিয়া): যে বয়সে শিশু শিপনের (১০) হেঁসে খেলে স্কুলে যাওয়ার কথা- ঠিক সেই বয়সে অসুস্থ দাদীর ঔষধ কেনা, ছোট-বড় দুই বোনের মুখে খাবার তুলে দেবার জন্য সে তার বাবার রেখে যাওয়া বাদামের ডালা (ঝুড়ি) কাঁধে তুলে নিয়েছে। সকাল বেলা ডালাটি গলার সাথে ঝুলিয়ে স্কুল, কলেজ, বাজার, খেলার মাঠসহ যদুবয়রা ও বিভিন্ন এলাকার এক প্রান্ত হতে অপর প্রান্ত পর্যন্ত বাদাম বিক্রী করে বেড়ায় কিশোর শিপন।
অভাব অনটনের সংসারের দায় মাথায় নিয়ে জীবন সংগ্রামে নেমেছে শিশুটি। এক প্রশ্নের জবাবে শিপন বলে, না খেয়ে ঘরে শুয়ে থাকলে কেউ এক মুঠো খাবারের কথা বলেনা। দাদির ঔষধ কেনা তো আছেই তারপরেও রয়েছে ছোট-বড় দুই বোন। এখন আমি বাধ্য হয়েই লেখাপড়া বাদ দিয়ে বাপের (বাবা) রেখে যাওয়া এই পেশায় নামছি। স্কুল যদি যাই- তাহলে আমার সংসার চালাবে কে ? প্রতিদিন বাদাম বিক্রি করে যা আয় হয় তা দিয়ে সংসার চালায়। প্রশ্ন করতেই কেঁদে ফেলে বলে- ঈদ যদি প্রতিদিন হতো তাহলে আমার বিক্রি বেশি হতো।
 খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিশু শিপন জেলার কুমারখালী উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নে যদুবয়রা গ্রামের হতদরিদ্র মৃত আরিফ হোসেনর ছেলে। শিপনের বাবা গত রমজান মাসে আকষ্মিক মৃত্যুবরণ করে। বর্তমানে সংসারে একমাত্র উপার্জনক্ষম একমাত্র শিপন। বৃষ্টি বা অন্য কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ হলে অধিকাংশ দিনে তাদের না খেয়ে দিন অতিবাহিত হয়। মা যেন বেঁচে থাকতেও নেই। মায়ের বিষয়ে প্রশ্ন করলেই সে আর কোন কথা বলতে চায় না।
জানা যায়, তার দুই বছর বয়সের সময় মা তাদের ভাই-বোনদের রেখে পাশের গ্রামের অন্য একটি ছেলের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। বাবাই আগলে রেখেছিল তাদের।   সেও অকালে পরপারে পাড়ি দিয়েছে।  সম্প্রতি যদুবয়রা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আলাপচারিতার এক পর্যায়ে সে রাগে ক্ষোভে বলে- আমার মা মারা গেছে।
অসুস্থ্য বৃদ্ধা দাদির ঔষধ কেনা আর ছোট-বড় দুই বোনের জন্য খাবার জোগাড় করতে বড্ড ক্লান্ত হয়ে পড়ছে সে।
বিষয়টি কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দৃষ্টি দেওয়ার নির্দেশ দিলেও অজ্ঞাত কারনে শিপনের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি বলে জানা গেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ