ঢাকা, বৃহস্পতিবার 16 August 2018, ১ ভাদ্র ১৪২৫, ৪ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

যে বিষয় নিয়ে ট্রাম্প-এরদোগানের ভুল বোঝাবুঝি

১৫ আগস্ট, বিজনেস ইনসাইডার/ দ্য গার্ডিয়ান/ হ্যারেৎজ  : চলতি বছরের জুলাইতে ন্যাটোর সম্মেলনের সাইডলাইনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগানের মধ্যে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে দেশ দুটির মধ্যে বন্দিবিনিময় চুক্তির অবসান ঘটান তারা। এরই জের ধরে তুরস্কের মুদ্রা লিরার জন্য একটি অর্থনৈতিক বিপর্যয় নেমে আসে, সাথে সাথে এর ধাক্কা লাগে সারা বিশ্বে।

দ্য গার্ডিয়ান একটি সূত্রে জানতে পেরেছে যে, ট্রাম্প এবং এরদোগানের মধ্যে বৈঠকে হামাসের সাথে যোগসূত্র থাকার দায়ে ইসরাইলে আটক একজন তুর্কি নারীর মুক্তির ব্যাপারে ব্যাপক দরকষাকষি হয়। যদি যুক্তরাষ্ট্র তুর্কি নারীকে ইসরাইলের বন্দি দশা থেকে মুক্ত করতে সহায়তা করত তবে তুরস্ক দেশটিতে আটক যুক্তরাষ্ট্রের যাজক এন্ড্রু ব্রানসনকে মুক্তি দিত বলে জানা যাচ্ছে।

সূত্রটি আরো জানায়, ‘এরদোগান ইসরাইলে আটক তুর্কি নারীকে মুক্ত করার জন্য ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানান। তাদের ওই বৈঠকে একজন দোভাষী ছাড়া আর কেউই ছিল না। ট্রাম্প বলেন, প্রথমেই এন্ড্রু ব্রানসনের ব্যাপারে আমার নিশ্চয়তা চাই। জবাবে এরদোগান বলেন ঠিক আছে। অর্থাৎ তিনি এর মাধ্যমে বুঝাতে চেয়েছেন যে, আমরা এই ব্যাপারে কাজ চালিয়ে যাবো।’ ন্যাটোর ওই সম্মেলনের একদিন পরেই ইসরাইল দেশটিতে আটক তুর্কি নারীকে মুক্তি দেয় কিন্তু তুরস্ক এন্ড্রু ব্রানসনকে কারাগার থেকে মুক্তি দিয়ে গৃহবন্দি করে রাখে।

সূত্র জানায় ‘বৈঠকের চুক্তি অনুযায়ী ব্রানসনের মুক্ত না হওয়াতে ট্রাম্প দ্বিধান্বিত হয়েছেন।’ এখানে উল্লেখ করা জরুরি, খ্রিস্টান ইভানজেলিকাল কমিউনিটির সদস্য হিসাবে ট্রাম্প এবং তার ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের নিকট এন্ড্রু ব্রানসনের গুরুত্ব রয়েছে এবং তার মুক্তি না হওয়ার জের ধরে দেশটি তুরস্কের উপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

২০১৬ সালে তুরস্কে একটি ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকার পতনে ফেতুল্লা গুলেনপন্থীদের মদত দেয়ার দায়ে তুরস্ক ব্রানসনকে আটক করেছে। এর আগে এরদোগান ব্রানসনের বিনিময়ে ফেতুল্লা গুলেনকে তুরস্কের নিকট হস্তান্তর করার প্রস্তাব দেন কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তা নকচ করে দেয়।

এর পর পরেই যুক্তরাষ্ট্র দেশটির উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে একটি অর্থনৈতীক ঝড় তুলে যার ফলে লিরার মান ডলারের বিপরীতে ৪৫ শতাংশ কমে যায় যদিও সোমবার এর কিছুটা উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে।

এরদোগন যুক্তরাষ্টের নিষেধাজ্ঞাকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসমূলক’ কাজ বলে অভিযোগ করেছেন। তিনি ন্যাটোর মিত্র দেশটি তুরস্কের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছে বলে জানান। তবে এর প্রতি উত্তরে তুরস্ক যুক্তরাষ্ট্রের ইলেকট্রনিক্স পণ্য বয়কট করার ঘোষণা দেয়। রাশিয়া তুরস্ক ও ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার অবৈধ নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্বের দেশগুলোর কাছে ডলারের গ্রহণযোগ্যতা কমে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ডলারের ব্যবহার বন্ধ হয়ে যাবে। এ মন্তব্য করেছেন রাশিয়া ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।

মঙ্গলবার আঙ্কারায় তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু সঙ্গে সাক্ষাতের পর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেন, ‘কয়েক বছর আগে থেকেই আমরা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নিজস্ব মুদ্রা ব্যবহারের কথা ভাবছি। ইরান ও তুরস্কের সঙ্গে এরইমধ্যে এ ব্যাপারে সমঝোতা হয়েছে এবং চীনের সঙ্গে সমঝোতার কাছাকাছি অবস্থায় রয়েছি’।

ল্যাভরভ আরো বলেন, অন্য দেশগুলোর বিরুদ্ধে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ অবৈধ এমনকি মার্কিন আইনের সঙ্গেই সাংঘর্ষিক। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অচিরেই আন্তর্জাতিক লেনদেনে ডলারের প্রভাব কমতে শুরু করবে এবং বিশ্বের বহু দেশ ডলারের ব্যবহার বন্ধ করে দেবে। সংবাদ সম্মেলনে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা আরোপের নীতির বিরোধী। ইউরোপীয় দেশগুলিও এ ব্যাপারে উদ্বিগ্ন’।

তিনি বলেন, ‘ইরান বিরোধী মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় অংশ নেবে না তুরস্ক। আমরা আমেরিকাকে জানিয়ে দিয়েছি, আগের মতোই ইরানের কাছ থেকে গ্যাস কেনা অব্যাহত রাখব’।

 মার্কিন পণ্যে দ্বিগুণ শুল্ক বসাল তুরস্ক : এবার বেশ কয়েকটি মার্কিন পণ্যে দ্বিগুণ শুল্কারোপ করেছে তুরস্ক। এর মধ্যে রয়েছে যাত্রীবাহী গাড়ি, অ্যালকোহল ও তামাক। তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তুরস্কের অর্থনীতিতে মার্কিন হামলার জবাবে এ শুল্ক বসানো হয়েছে।

মার্কিন যাজককে সন্ত্রাসবাদ মামলায় বিচার ও বিভিন্ন কূটনৈতিক কারণে দুই ন্যাটো মিত্রের মধ্যে উত্তেজনা চলছে।

গত শুক্রবার তুরস্ক থেকে আমদানি করা অ্যালুমিনিয়াম ও স্টিলের ওপর দ্বিগুণ শুল্কারোপের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর জবাবে পাল্টা শুল্কারোপ করে গেজেট প্রকাশ করেছে তুরস্ক। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের সই করা ওই গেজেটে বলা হয়েছে, মার্কিন যাত্রীবাহী গাড়িতে ১২০ শতাংশ, অ্যালকোহলে ১৪০ ও তামাক পাতায় ৬০ শতাংশ শুল্কারোপ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রসাধনী, চাল ও কয়লার মতো পণ্যে দ্বিগুণ শুল্ক বসিয়েছে তুরস্ক।

 দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ফুয়াত ওকাট বলেন, আমাদের অর্থনীতির ওপর মার্কিন প্রশাসনের ইচ্ছাকৃত হামলার জবাবে তাদের বেশ কয়েকটি পণ্যে শুল্ক বাড়ানো হয়েছে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান বলেন, তুরস্ক অর্থনৈতিক যুদ্ধের টার্গেটে পরিণত হয়েছে। অর্থনীতিকে জাগিয়ে তুলতে তুর্কি নাগরিকদের নিজেদের ইউরো ও ডলারগুলো বিক্রি করে দিতে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ