ঢাকা, বৃহস্পতিবার 16 August 2018, ১ ভাদ্র ১৪২৫, ৪ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রাজশাহীতে বিদ্যুতের ভয়াবহ বিপর্যয় ॥ অতিষ্ঠ জনজীবন

রাজশাহী অফিস : রাজশাহীতে বিদ্যুতের ভয়াবহ বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে তীব্র গরম অন্যদিকে লোডশেডিং-এর ফলে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন।
রাজশাহী মহানগরীসহ পুরো জেলায় চরম লোডশেডিংয়ে বিপাকে পড়েছেন মানুষ। গত তিন-চার দিন ধরে বিদ্যুতের চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। ভুক্তভোগীরা জানান, একবার বিদ্যুৎ গেলে এক ঘন্টার আগে তার আর দেখা মিলছে না। রাজশাহী নগরীর তেরোখাদিয়া এলাকার একজন বাসিন্দা জানান, মঙ্গলবার সকাল সাতটার পরপরই বিদ্যুৎ চলে যায়। এর পর দেখা মেলে সকাল ১০টার দিকে। তার পর ১২টার দিকে আবার বিদ্যুৎ হাওয়া শেষ পর্যন্ত আসে দুপুর আড়াইটার দিকে। আগেরদিন রাতেও কয়েক দফা বিদ্যুৎ ছিল না। আর দিনের বেলায়ও ছিল একই অবস্থা। সবমিলিয়ে এখন গড়ে দিনের অর্ধেক সময়ও বিদ্যুৎ মিলছে না। এতে করে গরমে চরম কষ্টের মধ্যে দিন পার করতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে শোবার সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ভোগান্তিটা বেশি পোহাতে হচ্ছে। তিনি আরো জানান, রাতে ১১ টার পর থেকে রাত দুইটা পর্যন্ত অন্তত চার বার লোডশেডিং দেখা দেয়।
এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২০ মিনিট বিদ্যুতের দেখা মেলে। আর বাকি সময়টা ছিল অন্ধকারে। নগরীর রামচন্দ্রপুর, রানীনগর, তালাইমারী প্রভৃতি এলাকা থেকেও একই পরিস্থিতির কথা জানা যায়। অন্যদিক, বিদ্যুৎ না থাকায় অধিকাংশ সময় বন্ধ রাখতে হচ্ছে রাজশাহীর কল-কারখানাসহ দোকান-পাটও। বিশেষ করে ইলেক্ট্রোনিক্সনির্ভর দোকানগুলো নিয়ে চরম বিপাকে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। যেন ঠিকমতো খুলতেই পারছেন না কেউ কেউ। এই অবস্থায় কেনাকাটায়ও নেমেছে ধস। বিদ্যুতের এমন লোডশেডিংয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-এর একজন প্রকৌশলী জানান, লোডশেডিং-এর কারণ জাতীয় গ্রিড থেকেই বিদ্যুৎ কম পাওয়া যাচ্ছে। চাহিদার প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ মিলছে। তিনি আরো জানান, নগরীতে প্রায় ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। তবে মিলছে বড় জোর ৮০ মেগাওয়াটের মতো। বাকিটা না পাওয়ায় লোডশেডিং হচ্ছে। এদিকে জেলায় চাহিদা রয়েছে প্রায় ১০০ মেগাওয়াট। সেখানেও মিলছে চাহিদার অর্ধেকেরও কম। ফলে নগরীর চাইতে জেলার অবস্থা আরো বেশি ভয়াবহ বলে দাবি করেছেন পল্লী বিদ্যুতের একাধিক কর্মকর্তা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ