ঢাকা, বৃহস্পতিবার 16 August 2018, ১ ভাদ্র ১৪২৫, ৪ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বিআরটিএ দুর্নীতিমুক্ত হলে রংচটা, হেডলাইটবিহীন গাড়ি ফিটনেস সার্টিফিকেট পায় কীভাবে? -দুদক চেয়ারম্যান

স্টাফ রিপোর্টার : দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আইন মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। যারা আইন মানবেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘রাস্তায় যখন বেরোবেন তখন দুদকের পরিচয় ব্যবহার করবেন না, সাধারণ মানুষের মতো আচরণ করবেন, অসাধারণ হওয়ার চেষ্টা করবেন না।’
গতকাল বুধবার সকালে জাতীয় শোক দিবসে দুদক আয়োজিত এক আলোচনা সভায় ইকবাল মাহমুদ এসব কথা বলেন। নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় কিশোরেরা দুদকের লোগো লাগানো একটি গাড়ি আটক করেছিল, এমন প্রসঙ্গ তুলে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘সংবাদ পাওয়ামাত্রই আমরা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছি। কাউকেই আমরা ছাড় দিইনি এবং ভবিষ্যতেও ছাড় দেব না।’
ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুর্নীতিই মানুষের মুক্তির প্রধান অন্তরায়। তাই আমার অনুরোধ, আসুন, আমরা সবাই আইন মেনে চলব। কেউ আমাদের আইন মানাবে, সে জন্য অপেক্ষা করে থাকব, সেটা হতে পারে না। কারণ আইন না মানাই দুর্নীতি। তাই এই প্রতিষ্ঠানের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আইন মেনে চলতে হবে। যিনি বা যাঁরা আইন মানবেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুর্নীতি দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা। যদি দুর্নীতি দমন বা প্রতিরোধ করা যায়, তবেই মানুষ শিক্ষাসহ সব ধরনের সরকারি সেবা হয়রানি মুক্তভাবেই পাবে। তিনি বলেন, বিআরটিএ  দুর্নীতিমুক্ত হলে, রংচটা, হেডলাইটবিহীন গাড়ি ফিটনেস সার্টিফিকেট পায় কীভাবে? তিনি আরও বলেন, আমরা বিআরটিএর কার্যক্রম দেখছি, বর্তমানে কৌশলগত কারণেই হস্তক্ষেপ করছি না। তারা যদি বেআইনি কিছু করে, জনস্বার্থেই কমিশন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেবে।
শোক দিবসের আলোচনায় দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আজ জাতীয় শোক দিবস যেমন সত্য, তেমনি আজকের দিনটি লজ্জার এবং কলঙ্কেরও। কারণ আমি এমন একটি দেশের নাগরিক, যে দেশের মানুষের জন্য বঙ্গবন্ধু জীবনের সর্বোচ্চ ত্যাগ করেছেন, সেই দেশেরই কতিপয় দুর্বৃত্ত তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। বঙ্গবন্ধুকে আমরা রক্ষা করতে পারিনি, তাই এই কলঙ্ক জাতি হিসেবে মোচন করা সম্ভব নয়। এমনকি এ কলঙ্ক ভবিষ্যতে হাজার বছর পরের প্রজন্মকেও বহন করতে হতে পারে।’
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাকে আশার আলো দেখায় নতুন প্রজন্মের শিশু, কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণীর উজ্জ্বল মুখ, যারা আমাদের ব্যর্থতা দেখিয়ে দেয়। এই প্রজন্মই সত্যিকারভাবে জাতির পিতার আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করে। এরাই জাতির পিতার স্বপ্নের অর্থনৈতিক, সামাজিক বৈষম্য থেকে মুক্তির সংগ্রামকে আদর্শ হিসেবে লালন করে, বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণ করবে।’
ইকবাল মাহমুদ বলেন, আজকে শপথ নেওয়ার দিন, ‘শোককে শক্তিতে পরিণত করে দুর্নীতি নামক অশুভ শক্তির লাগাম টেনে ধরতে হবে। আমরা যে যেখানে যে অবস্থাতেই থাকি না কেন, আগামী প্রজন্মের সোনালি ভবিষ্যৎ এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে একই সুতায় গেঁথে দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।’
শোকসভায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন দুদক কমিশনার এ এফ এম আমিনুল ইসলাম, মহাপরিচালক মোহাম্মদ জয়নুল বারী, পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন, উপপরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট যারা নিহত হয়েছেন, তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ