ঢাকা, বৃহস্পতিবার 16 August 2018, ১ ভাদ্র ১৪২৫, ৪ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চট্টগ্রামে অস্তিত্বহীন থানার ভুয়া মামলায় কারাগারে দর্জি দোকানি

চট্টগ্রাম ব্যুরো : মো. ফোরকান। নগরের বায়েজিদ থানার আতুরার ডিপো এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা আবুল হাশেমের পুত্র। পেশায় দর্জি দোকানি। অস্তিত্বহীন থানার ভুয়া মামলায় ১৫ দিন ধরে কারাগারে রয়েছেন ফোরকান। কারাবন্দি ফোরকানের ভাই রাশেদ বলছেন, ওই এলাকার জনৈক ছালেহ জহুর ও সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে আবুল হাশেমের সঙ্গে। তারাই ফোরকানকে ফাঁসিয়ে দিয়েছেন।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, নগরের বায়েজিদ থানা পুলিশ ফোরকানকে গ্রেফতারে যে ওয়ারেন্ট ব্যবহার করেছে, তাতে কক্সবাজার জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২৩৫/১৬ নম্বর মামলা এবং কক্সবাজার কোতোয়ালি থানার ৬(৫)১৬ নম্বর মামলার কথাও উল্লেখ রয়েছে। ওয়ারেন্টটি তামিল করার জন্য বায়েজিদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে কক্সবাজার আদালত থেকে। যদিও কক্সবাজারে কোতোয়ালি থানা নামে কোন থানাই নেই। এ অস্তিত্বহীন থানার মামলায় চলতি বছরের ২১ মার্চ কক্সবাজার আদালতের সিলমারা ওয়ারেন্টটি কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে আসে বলে জানান ওয়ারেন্ট তামিলকারী বায়েজিদ থানা এসআই সাইফুল ইসলাম। এতে কক্সবাাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সীল রয়েছে বলেও নিশ্চিত করেন এ পুলিশ কর্মকর্তা।
গত ১ আগস্ট ফোরকানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের একঘন্টার মধ্যেই চট্টগ্রামের মহানগর হাকিম আদালতেও পাঠিয়ে দেন ওয়ারেন্ট তামিলকারী এসআই সাইফুল ইসলাম। এ বিষয়ে এসআই সাইফুলের বক্তব্য হচ্ছে, তিনি আদালতের আদেশ পালন করেছেন মাত্র। কক্সবাজারে কোন কোতোয়ালি থানা নেই তিনি তা জানেন। কিন্তু কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের (নারী ও শিশু আদালতের দায়িত্বও রয়েছে) ওয়ারেন্ট পেয়ে তিনি তামিল করেছেন। অস্তিত্বহীন থানার ভুয়া ওয়ারেন্ট তামিলের ফলে ফোরকান কারাগারে রয়েছেন। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পদ্মা ওয়ার্ডে ১৫ দিন ধরে বন্দিজীবন কাটছে তার।
 বায়েজিদের গোলাম কাদের শাহ বাড়ী এলাকার আমিন জুট মিলস এলাকায় বসবাস করেন ফোরকান। ফোরকান ৬ বছর ধরে দর্জি দোকানে কাজ করছেন। গত ১ আগস্ট পৌনে ১১টার দিকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করার জন্য দোকানে হাজির হয়। এসময় আশপাশের ব্যবসায়ীরা পুলিশকে বুঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। ওইদিন বেলা ১২টার মধ্যেই তাকে চট্টগ্রামের মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
কক্সবাজার থানার ওসি মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন খন্দকার ফোন করলে তিনি জানান, প্রথম কথা হচ্ছে কক্সবাজারে কোনো কোতোয়ালি থানা নেই। তার উপর স্বামী স্ত্রীর একটি যৌতুক মামলার নম্বর ওই ওয়ারেন্টে উল্লেখ করা হয়েছে বলে ইতোমধ্যে জেনেছি। পুরো বিষয়টিই ভুয়া মনে হচ্ছে। চট্টগ্রাম আদালতের আইনজীবী দুদকের পিপি এডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী জানান, অস্তিত্বহীন থানার মামলা নম্বর কিভাবে ওয়ারেন্টের সাথে জুড়ে দেয়া হল তা রীতিমত বিম্ময়ের ব্যাপার।
এ বিষয়ে এসআই সাইফুল ইসলাম বলেন, কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সীলযুক্ত একটি ওয়ারেন্ট বায়েজীদ থানায় আসার পর আদালতের আদেশ পালনের অংশ হিসেবে মো. ফোরকানকে গ্রেফতার করা হয়। ওয়ারেন্টটি সঠিক নাকি ভুয়া তা আদালতের বিবেচনার বিষয়।
কারাবন্দি ফোরকানের ভাই রাশেদ বলেন, আমার ভাইকে গ্রেফতারের পর কক্সবাজার গিয়ে কোন কোতোয়ালি থানা খুঁজে পাইনি। কক্সবাজারে একটি মডেল থানা রয়েছে। সেই থানায় গিয়েও যে মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে সেই মামলার হদিস পাওয়া যায়নি। এরপর নগরীর কোতোয়ালী থানায় গিয়েও একই অবস্থা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ