ঢাকা, বৃহস্পতিবার 16 August 2018, ১ ভাদ্র ১৪২৫, ৪ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনায় এবার ভারতীয় গরুর আমদানি না থাকলেও কুরবানির পশুর সঙ্কট হবে না

খুলনা অফিস : আগামী ২২ আগস্ট পবিত্র ঈদ উল আজহা। বাকি আর মাত্র এক সপ্তাহ। খুলনার সাপ্তাহিক পশুর হাটগুলো ইতোমধ্যেই জমে উঠতে শুরু করেছে। তবে, আজ বৃহস্পতিবার খুলনা মহানগরীর সর্ববৃহৎ জোড়াগেট পশুর হাট উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে নগর ও জেলার ২৭টি হাটেই পশু বিক্রি জমে উঠবে বলে ধারণা করছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।
এদিকে, এবার ভারতীয় গরুর আমদানি না থাকলেও কুরবানির পশুর সঙ্কট হবে না। দামও ক্রেতার নাগালের মধ্যে রয়েছে। যে কারণে খামারিরাও বেশ খুশি। মঙ্গলবার খুলনার দাকোপ উপজেলার বাজুয়া হাটে গরু-ছাগল বিক্রি হয়।
সূত্র জানিয়েছে, সাপ্তাহিক হাট হিসেবে সোমবার খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আঠারো মাইলে পশুর হাট বসে। এ হাটে প্রায় ৩ হাজার গরু আমদানি হয়। দামও ছিল ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে। সর্বনি¤œ ২৮ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিটি গরু বিক্রি হয়েছে। এ হাটের ইজারাদার শেখ হেলাল বলেন, কুরবানি উপলক্ষে হাটে গরু আমদানি বেড়েছে। গত সপ্তাহে যেখানে ৫শ’ থেকে ৬শ’ গরু আমদানি হয়, সেখানে এ সপ্তাহে প্রায় ৩ হাজার গরু উঠেছিল। দেড় হাজারের মত গরু বিক্রি হয়। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য জনৈক ব্যক্তি ১০টি গরু ক্রয় করেন। গড়ে যার প্রতিটির দাম ২৮ হাজার টাকা করে পড়েছে।
আঠারো মাইলে পশুর হাটের বিক্রেতা হেলালুজ্জামান বলেন, তিনি নিজের খামারে চার মাস পালন করে ৪টি গরু সোমবারের হাটে বিক্রি করেছেন। প্রতিটি ৭৫ হাজার টাকা করে। তবে, তুলনামূলক দাম কম হওয়ায় ক্রেতারাও খুশি। পাশাপাশি দেশি গরু হওয়ায় বিক্রিও হচ্ছে বেশি। ক্রেতা মনিরুজ্জামান এ হাট থেকে ২৯ হাজার টাকায় একটি গরু কিনেছেন। তিনি বলেন, দাম মোটামুটি হাতের নাগালে আছে। তবে, ঈদের সময় কাছাকাছি আসলে সরবরাহ ও চাহিদার সঙ্গে মিলিয়ে দাম আরও কম অথবা বেশিও হতে পারে।
এদিকে, ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়া ও শাহপুরে পশুর হাট বসবে আজ বৃহস্পতিবার। একই সঙ্গে ওইদিনই কেসিসির পরিচালনায় খুলনা নগরের সর্ববৃহৎ জোড়াগেট পশুর হাটও উদ্বোধন করা হবে। খর্ণিয়া পশুর হাটের ইজারাদার মো. হেফজুর রহমান বলেন, গত বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক হাটে প্রায় সাড়ে ৩ হাজারের মত গরু আমদানি হয়। তবে, সরাসরি ভারতীয় গরুর আমদানি না থাকলেও আগে আসা গরুর লালন-পালন করে দেশি গরুর মতই হাটে বিক্রি করেছেন খামারিরা। এ হাটে ৩০ হাজার থেকে লক্ষাধিক টাকা মূল্যে গরু বিক্রি হয়েছে। দামও ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকায় বিক্রির পরিমাণও ছিল বেশ। আগামী রোববারও এ হাট বসবে। খুলনা, সাতক্ষীরার পাশাপাশি যশোরের কেশবপুর থেকেও খামারিরা এ হাটে গরু বিক্রি করতে আসেন। এ হাট থেকে বেপারিরা পাইকারী দামে গরু কিনে দেশের বিভিন্ন হাটে নিয়ে যায় বলেও জানান তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, পাইকগাছার চাঁদখালিতে রোববার, ১০ আগস্ট থেকে ফুলতলা উপজেলার জামিরা, ফুলতলা উপজেলা সদর, দিঘলিয়া উপজেলার এম এম মজিদ কলেজ মাঠ, পথেরবাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গন, ফুলবাড়িগেট, মোলাডাঙ্গা হাজী জালাল উদ্দিন কলেজ, তেরখাদা উপজেলার ইখড়ি-কাটেঙ্গা, রূপসা উপজেলার আমতলা, কাজদিয়া, দাকোপ উপজেলার বাজুয়া, চালনা, খুটাখালি, কয়রা উপজেলার বামিয়া, দেউলিয়া, ঘুগরাকাঠি, পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুর, বাঁকা, কাশিমনগর, চাঁদখালি, জিরো পয়েন্ট, বটিয়াঘাটা উপজেলার খারাবাদ বাইনতলায় পশুর হাট বসতে শুরু করেছে। মহানগরীর জোড়াগেটে পশুর হাট বসবে আজ ১৬ থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত।
প্রাণিসম্পদ বিভাগ খুলনার সূত্র জানান, এ বছর খুলনা জেলায় ৪ হাজার ৫৫২ জন খামারি ২১ হাজার ১৮৬টি গরু এবং ১২ হাজার ৯৭৭টি ছাগল কুরবানির জন্য প্রস্তুত করেছে। জেলায় ২০১৭ সালে ৭৯ হাজার ৮৫২টি গরু ছাগল কুরবানি হয়। ২০১৬ সালে পশু কুরবানির সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১২ হাজার ৩৬৫টি।
খুলনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, পার্শ্ববর্তী জেলা নড়াইল ও যশোরে তাদের চাহিদা পূরণে অনেক বেশি গরু মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে। খুলনা জেলায় চাহিদা পূরণে অন্যান্যবারের মত পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে গবাদি পশু আসবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ