ঢাকা, বৃহস্পতিবার 16 August 2018, ১ ভাদ্র ১৪২৫, ৪ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

গভীর শ্রদ্ধায় জাতীয় শোক দিবস পালিত

গতকাল বুধবার রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতীয় শোক দিবসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে মোনাজাত করেন -পিআইডি

# সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে প্রতিহত করব : ওবায়দুল কাদের
স্টাফ রিপোর্টার: গভীর শোক, শ্রদ্ধা ও যথাযোগ্য রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গতকাল বুধবার পালিত হয়েছে স্বাধীনতার স্থপতি সাবেক প্রেসিডেন্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস। সরকারি ও বেসরকারিভাবে সারা দেশে গতকাল নানা কর্মসূচি পালন করা হয়।।
জাতীয় শোক দিবসটি সরকারিভাবে পালনের পাশাপাশি আওয়ামী লীগসহ তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসমূহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পালন করেছে। দলীয় কার্যালয়সমূহ এবং সরকারি-বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। এছাড়া কুরআনখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং দুস্থ ও অসহায়দের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়। বাদ জোহর বঙ্গভবনে মিলাদে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি।
গতকাল জাতীয় শোক দিবসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকাল সাড়ে ৬টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে প্রথমে রাষ্ট্রপতি এবং তার পরপরই প্রধানমন্ত্রী ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় তাদের গার্ড অব অনার দেয়া হয়। বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। সেখানে বিশেষ মোনাজাত ও পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করা হয়। পরে মন্ত্রিসভার সদস্য ও আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান শেখ হাসিনা।
জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তিনবাহিনী প্রধানগণ, পুলিশের আইজি এবং আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন এবং ১৪ দলীয় শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের নেতৃত্বে তথ্যমন্ত্রী এবং জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সাম্যবাদী দল সভাপতি এবং সাবেক মন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়াসহ ১৪ দলীয় নেতৃবৃন্দ এ সময় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানান।
সকালে ৭ টার দিকে প্রধানমন্ত্রী বনানী কবরস্থানে গিয়ে ১৫ আগস্ট নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখানে তিনি শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনায় মোনাজাতে অংশ নেন এবং প্রতিটি কবরে ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে দেন। এ সময় বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা নিবেদনের পর আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও ১৫ আগস্ট নিহত ব্যক্তিদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
শ্রদ্ধা নিবেদনের পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে প্রতিহত করা হবে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জাতীয় শোক দিবসে আমাদের শপথ হবে, বঙ্গবন্ধুর কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে কোনো অপশক্তি বিশেষ করে সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করব।’
 তিনি বলেন, ‘আমরা শংকার মধ্যেই এগিয়ে যাব। মৃত্যুর মিছিলে দাঁড়িয়ে আমরা জীবনের জয়গান গাই, ধ্বংস স্তুপের ওপর দাঁড়িয়ে আমরা সৃষ্টির পতাকা উড়াই। আর এটাই হলো আওয়ামী লীগের ইতিহাস।
 সেতুমন্ত্রী কাদের বলেন, বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্যেই শুধু সীমিত থাকলে চলবে না। আমরা  বঙ্গবন্ধুর সততা ও সাহসের দৃষ্টান্ত যদি অনুসরণ করি তাহলেই বঙ্গবন্ধুর প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।
 তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু আজ নেই। তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন জনগণের মুক্তির সংগ্রামের আপসহীন কান্ডারি। বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকার বিরোধী কোনো আন্দোলনই সফল হবে না। যে কোনো যৌক্তিক দাবি মেনে নেয়ার সৎ সাহস প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আছে।
তিনি বলেন, সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মতো এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড পৃথিবীতে আর ঘটেনি। আমাদের আজকের শপথ হলো- জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে প্রতিহত করা হবে।
বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড পৃথিবীর সব থেকে নৃশংসতম রাজনৈতিক হত্যা বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ বলেন, পৃথিবীতে জুলিয়াস সিজার থেকে শুরু করে যত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, তার মধ্যে সব থেকে নৃশংসতম পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড। অন্যান্য রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডে অবলা নারী, অন্তঃসত্ত্বা নারীরা ছিল না, অবুঝ শিশুও ছিল না। কিন্তু এখানে ছিল।
টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন : সকাল পৌনে ৮টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর জন্মভূমি টুঙ্গিপাড়ায় যান। সেখানে তিনি বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে দলের পক্ষ থেকে আরেকবার পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা । জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীও বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
 ছোট বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টুঙ্গিপাড়া বঙ্গবন্ধুর সমাধির সামনে দাঁড়িয়ে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করেন। এ সময় দেশ ও জাতির অব্যাহত শান্তি উন্নয়ন ও অগ্রগতি কামনা করে দোয়া করা হয়। একই সময়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতারা সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় দলের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এক মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুরপ্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের নেতৃত্বে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রলায় এবং তথ্য মন্ত্রণালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় প্রেস ক্লাব, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা শহীদ পরিবার, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি), মহিলা শ্রমিক লীগ, মৎস্যজীবী লীগ, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, যুব উন্নয়ন অধিদফতর, ঢাকা সিটি করপোরেশন শ্রমিক-কর্মচারী লীগ, গণপূর্ত শ্রমিক লীগ, মোটরচালক লীগ, রিকশা-ভ্যান শ্রমিক লীগ, জাতীয় বিদ্যুৎ  শ্রমিক লীগ, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদ, বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদফতর, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ফিল্ম আর্কাইভ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব পরিষদ, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলা একাডেমী, গণগ্রন্থাগার অধিদফতর, জাতীয় জাদুঘর, নজরুল ইনস্টিটিউট, শিশু একাডেমী, খেলাঘর, বাংলাদেশ বেতার, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট, বেতার কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, বিনিয়োগ বোর্ড, শিল্প গবেষণা পরিষদ, পলিটেকনিক শিক্ষক পরিষদ, ঢাকা আইনজীবী সমিতি, তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জাতীয় মহিলা সংস্থা, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, জাতীয় কবিতা পরিষদ, জাতীয় গীতিকবি পরিষদ, যুব ইউনিয়ন, মুক্তিযোদ্ধা ফাউন্ডেশন, ছাত্র ইউনিয়ন, শেখ রাসেল শিশু সংসদ, বাংলাদেশ ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, রেলওয়ে শ্রমিক লীগ, ঢাকাস্থ টুঙ্গিপাড়া সমিতি, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ পরিষদ, আবদুস সামাদ আজাদ ফাউন্ডেশন, সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্যপরিষদ, ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতি, টি অ্যান্ড টি শ্রমিক ফেডারেল ইউনিয়ন, শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত স্মৃতি পরিষদ, শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, টেলিযোগাযোগ শ্রমিক ইউনিয়ন, গোপালগঞ্জ জেলা সমিতি, খ্রিস্টান এসোসিয়েশন, বৌদ্ধ ছাত্র সংসদ, শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ, ডিপ্লোমা নার্সেস এসোসিয়েশন, সেন্টার ফর মেডিকেল এডুকেশন, সনাতন আইনজীবী কল্যাণ পরিষদ, চিলড্রেন্স ভয়েসসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন।
একদল বিপথপামী সৈনিক ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা বেগম মুজিব, তাঁর তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল, ১০ বছরের ছোট্ট রাসেল, দুই ভাইয়ের স্ত্রী সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর সহোদর শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবত, শেখ ফজলুল হক মনি এবং তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি, বেবী সেরনিয়াবত, সুকান্তবাবু, আরিফ, রিন্টুসহ বঙ্গবন্ধু পরিবারের ১৮ জন সদস্য হত্যা করে। বঙ্গবন্ধুর সামরিক সচিব কর্নেল জামিলকেও হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় স্বামীর কর্মস্থল জার্মানীতে অবস্থান করায় বঙ্গবন্ধুর বড় মেয়ে শেখ হাসিনা এবং ছোট মেয়ে শেখ রেহানা প্রাণে রক্ষা পান। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলাদা বাণী দিয়েছেন। বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশন শোক দিবসের অনুষ্ঠানমালা সরাসরি সম্প্রচারসহ বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করেছে। সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ