ঢাকা, বৃহস্পতিবার 16 August 2018, ১ ভাদ্র ১৪২৫, ৪ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

গেমস ফুটবল এবং স্বপন

অরণ্য আলভী তন্ময় : গত মাসে শেষ হয় ২০১৮ রাশিয়া  বিশ্বকাপ। যা বিশ্বকে মাতিয়ে রেখেছিলো ক্রীড়ার উন্মাদনায়। এর রেশ এখন আর নেই। বৃহৎ আসরের ফুটবল টুর্নামেন্ট এবং বাংলাদেশ! এই দু’টোরমানেই হচ্ছে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। যা অপ্রিয় হলেও অক্ষরে অক্ষরে সত্য। বিশেষ করে বাংলাদেশের পুরুষ ফুটবল দল। তা এশিয়া ও বিশ্ব মানের বিচারে। যা বজায় রয়েছে যুগ যুগ ধরে। তা কি নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে ? এমন পরিস্থিতিতে লাল-সবুজ পতাকা দল ২০১৮ এশিয়ান গেমস ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিবে। এর আয়োজক ইন্দোনেশিয়া। বিশ্বের অন্যতম বড় গেমসে বাংলাদেশ পুরুষ টিম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। সেটা ভালো কথা। কিন্তু এই প্রতিযোগিতায় তাদের লক্ষ্য কি ? প্রশ্নের উত্তর হাস্যকর! যা খুবই পরিচিত। এমন ধারায় বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ লক্ষ্য হিসেবে অভিজ্ঞতা অর্জনকে দাঁড় করিয়েছেন। সেটা পুরনো দিনের একই গানের রেকর্ড বাজাবার মতো। তা না হলে হাসির উত্তরটা কৌতুকের খোরাক হিসেবে বেশ জমে উঠতো। অভিজ্ঞতা অর্জন ! সেটা কিসের জন্য ? বার বার প্রশ্ন জাগে, গোলবলের প্রতি মায়া-মমতার বন্ধনের কারনে! যা লাল-সবুজ পতাকা দেশের ছায়াতলে। অবশ্যই গভীর ভালোবাসাকে পুঁজি কর। বৃহৎ আসরের প্রতিযোগিতায় অভিজ্ঞতা অর্জনের অপর নাম সাউথ এশিয়ার লড়াইয়ে সুপার ডুপার রেজাল্ট করা। তা শুধুমাত্র বাংলাদেশ দলের জন্য। যা গর্ব করার অবাক বিষয়। সেটাও আবার ধারাবাহিক ভাবে টিভি ও পেপারের স্ব খ্যাত প্রচার মূলক ভাষা হিসেবে। যা হাসির খোরাকে পরিণত হয়ে শোভা পায় বাফুফের কর্মকর্তাদের মুখে। তা শত ভাগ সত্য কথা। এ অবস্থায় এশিয়ান গেমসের ফুটবল লড়াইয়ে ইন্দোনেশিয়ার সবুজ ঘাসের মাঠে পা রাখবেন বাংলার দামাল ছেলেরা। ইংলিশ কোচ জেমি ডে এই টিমকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। তার দক্ষতার তুলনা নেই। বিশ্বকাপ দল ইংল্যান্ডের ফুটবল ভুবনের মানুষ সে। তা স্বীকার করতেই হবে সবাইকে। কি বলেন? কিন্তু বিপরীত চিত্রে বাংলাদেশের অবস্থান। যাদের পারফর্মের মান একেবারেই যাচ্ছে তাই। যা বজায় আছে বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে এখন পর্যন্ত। সেটা এক বাক্যে স্বীকার করেছেন আবাহনী, মোহামেডান এবং জাতীয় দলের সাবেক সুপার স্টার প্লেয়ার শহীদ হোসেন স্বপন। নারায়নগঞ্জ সোনালী অতীত ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তিনি। এমন প্রসঙ্গে তার ভাষ্য, বর্তমানে আমার পরিচয় সংগঠক। আমি কাজ করে যাচ্ছি দেশের ফুটবলের জন্য। তা বলাবাহুল্য। এখন খেলোয়াড়দের নৈপূণ্যের মান কোথায়? যে কারণে এ ক্রীড়া মাঠে দর্শক পাচ্ছে না। সেটা কেন? প্রশ্ন আমার! দেশের ফুটবল সিস্টেম মতো চলছে না। এই ক্ষেত্রে স্থায়ী পরিকল্পনা আছে কি? না, যা নেই। তা মনে করি আমি। রাশিয়ায় ২০১৮ ফিফা বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট দেখেছি। সেটা বরাবরের ন্যায়। কী সুন্দর পরিকল্পনা ! যা ফুটে উঠে রাশিয়ায়। সফল আয়োজন তাদের। এক কথায় দক্ষ যারা। সড়ক পথে ভ্রমন ফ্রী। বিশ্বকাপ ম্যাচ দেখা দর্শকদের এমন সুযোগ করে দেয় রাশিয়া ফুটবল ফেডারেশন। সেটা টিকিট প্রাপ্তির ধারাতে। আমার মাচ দেখা হয় দু’টি। দ্বিতীয় রাউন্ডে সুইডেন-সুইজারল্যান্ড প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। অসাধারণ খেলেছে তারা। প্রানভরে উপভোগ করি তা। কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ দেখেছি। এই লড়াইয়ে ফ্রান্স দাপট বজায় রেখে উরুগুয়েকে হারিয়ে দেয়। এমন নৈপুন্য সকলের হৃদয় কেড়ে নিয়েছে। যা উল্লেখ করা খুবই দরকার। কারণ খেলার মাঠে পারফর্মটাই মূল বিষয়। সেটা কি বাংলাদেশ জাতীয় দলের মাঝে পাওয়া যায় ? প্লেয়াররা কি সেই দিকে খেয়াল রেখেছে। আর এ বিষয়ে বাফুফের কর্মকর্তাদের ভূমিকা কি ? সবকিছু মিলিয়ে লাল-সবুজ পতাকা দেশে ফুটবলের হ য ব র ল অবস্থা। তা সত্য কথা। এখানে উন্নয়নের স্থায়ী পরিকল্পানা নেই। তাই সাফল্য পাবার পথ পাচ্ছে না এ খেলা। বর্তমানে এর দৌড় ঝাপ সাউথ এশিয়া সীমানা পর্যন্ত আটকে গেছে। চলতি এশিয়ান গেমস ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার জোয়ারে গা ভাসিয়েছে বাংলাদেশ পুরুষ টিম। কোনো ম্যাচে কি জয় পাবে? নাকিসাউথ এশিয়ানের লড়াইয়ে সাফল্য পাবার দোহাই দিয়ে ঘুরপাক খাবে ? যা সময়ই বলে দিবে। গ্রুপ‘বি’তে লাল-সবুজ পতাকা দল অংশ নিবে। যাদের প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান, থাইল্যান্ড ও কাতার । সে সব শক্তিশালী টিমের বিপক্ষে তারা জয় পাবে কি ? নারায়ণগঞ্জ জেলা ফুটবল এসোসিয়েসনের (ডি এফ এ) সহ সভাপতি শহীদ হোসেন স্বপন বলেছেন, বাংলাদেশের গ্রুপ ততটা শক্তিশালী নয়। এখানে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, সৌদী আরব, কুয়েত, চীন, ইরান, ইরাক, আরব আমিরাত, ওমানের মতো দল নেই। যারা পাওয়ার ফুটবল খেলে। তাদের সঙ্গে লড়াইয়ে টিকে থাকার কথা নয়।এর উল্টো চিত্রে বুরি বুরি গোল খায় বাংলাদেশ ! এশিয়ান গেমসে কোচ জেমি ডের টিম শক্তিশালী গ্রুপে পড়ে নাই। সেটা ঠিক। তাই  বলে বাংলাদেশ দলের জয় পাবার সম্ভাবনা খুবই কম। বিশ্বকাপ ফুটবলের দেশ সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে জন্ম  নেয় উজবেকিস্তান। এ ক্রীড়ায় ইউরোপ স্টাইল কী! তারাই উদাহরন হয়ে প্রমান রাখে। যা বার বার দৃশ্যমান হয় সবুজ ঘাসের ময়দানের যুদ্ধে। তা সকলের বোধগম্য। গত শতাব্দীর সত্তর আশি নব্বই দশকের মাঝের সময় পর্যন্ত কাতার এবং থাইল্যান্ড দলের বিরুদ্ধে সমান তালে ফাইট করে প্রশংসার জোয়ারে ভেসে গিয়েছিলো  বাংলাদেশ। তাদেরকে একতরফা দাপট বজায় রাখতে দিতো না। মাঝে মাঝে খেলায় জয় পেয়েছে। তবে সেটা সংখ্যায় অনেক কম। তা দেখা যাচ্ছে না বিংশ শতাব্দীতে। উল্টো চিত্রে অবস্থান নিয়ে ম্যাচে পরাজিত হচ্ছে। এর পাশাপাশি বুরি বুরি গোল খাচ্ছে। আর এই রেজাল্ট প্রমাণ করে লাল-সবুজ পতাকা দেশের জনপ্রিয় ফুটবলের অধ:পতনের দৃশ্য। এমন কথা গায়ে লাগলেও সত্য। কী বলেন? এ পরিস্থিতিতে ২০১৮ ইন্দোনেশিয়া এশিয়ান গেমসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় খেলার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আপাতত জয় পাওয়াটা স্বপ্ন। যা ঘটে গেলে অনায়াসে বলা যাবে অঘটন। তাছাড়া অন্য কিছু না। এমন বিশ্লেষন শুধুমাত্র বর্তমান পারফরম্যান্সের বিচারে। সেটা কি নতুন করে বলার প্রয়োজন রয়েছে? সত্যিকার অর্থে সারা দেশে গোল বলের মান খুবই খারাপ। এমন অবস্থা হতে পরিত্রান পাবার জন্য নতুন করে ভাবা উচিত বাফুফের। তা খেলাটির উন্নয়নের পথে সুন্দর সোনালী রৌদ্রের ঝলক দেখাবে। যা মনে করি আমি। ওনার এ মন্তব্য বাংলাদেশের ফুটবলে করুন চিত্র তুলে ধরে। সংগঠনের পাশাপাশি ব্যবসা- বাণিজ্যের কাজে ব্যস্ত আছেন তিনি। পরিশেষে নারায়ণগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য এবং তারকা ফুটবলার শহীদ হোসেন স্বপন সবাইকে জানিয়েছেন আসন্ন ঈদের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ