ঢাকা, বৃহস্পতিবার 16 August 2018, ১ ভাদ্র ১৪২৫, ৪ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ফেরার পথে অনেক কাটা মোহাম্মদ আশরাফুলের

অরণ্য আলভী তন্ময় : বাংলাদেশের ক্রিকেটে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ম্যাচ গড়াপেটার সাথে জড়িত থাকার কথা অকপটে স্বীকার করেছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। টাইগার ক্রিকেট যেন আমাদের জন্য হুমকি হয়ে না দাড়ায় সে বিষয়টি যদিও শুরু থেকে দেখা হচ্ছিল। তবে আশরাফুল যা করেছিলেন তাতে শুধু পিছিয়ে পড়াই নয়, কলঙ্কও সঙ্গী হয়েছিল। তাতে অনেকের নাম আসলেও একমাত্র আশরাফুলই স্বীকার করেছিলেন। মোহাম্মদ আশরাফুলকে একটা সময় জাতীয় দলের সবচেয়ে বেশি সময় সার্ভিস দেওয়া খেলোয়াড় হিসেবে চিন্তা করা হয়েছিল। কারণ জাতীয় দলে ১৬ বছর বয়সে অভিষেক হয় ২০০১ সালে। কিন্তু ২০১৩ সালে এক ঝড়ই সবকিছু উলট পালট করে দেয়। ম্যাচ গড়াপেটায় জড়িয়ে ঘড়োয়া ও আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন। এখন আবার নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরার দিন গুনছেন। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) স্পট ফিক্সিং আর ম্যাচ ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে নিষেধাজ্ঞার খাড়ায় পড়ার ৫ বছর পর অবশেষে মুক্তি মিলছে বাংলাদেশের এক সময়ের সেরা ব্যাটসম্যান আশরাফুলের। গত ১৩ আগস্ট থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি মিলেছে তার। ২০১৬ সালের ১৩ আগস্ট ঘরোয়া লিগে খেলার অনুমতি মিললেও এতদিন জাতীয় দল আর বিপিএলে নিষিদ্ধ ছিলেন আশরাফুল। আবারও ফেরার সুযোগ পেয়ে দারুণ খুশি আশরাফুল। নিজের অনুভুতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, ’খুব বাজে ও কষ্টের কিছু সময় কাটিয়ে আবারো আলোতে ফিরেছি আমি। এই দিনের জন্য পাঁচ বছর প্রতিক্ষা করেছি। আমি ২০১৮ সালের ১৩ আগস্টের জন্য দীর্ঘ প্রতিক্ষা করেছি। আমি আমার দোষ স্বীকার করার পর পাঁচ বছরের বেশি পেরিয়ে গেছে। যদিও গত দুই বছর আমি ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলেছি, কিন্তু এখন জাতীয় দলের যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হতে আর কোন বাধা রইল না। আবারও বাংলাদেশের হয়ে খেলতে পারলে সেটা আমার জন্য সবচেয়ে বড় অর্জন হবে।’ গত দুই বছরে তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে গেছে। প্রথম বছর তেমন ভাল না কাটলেও ২০১৭-১৮ মৌসুমে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের হয়ে পাঁচটি সেঞ্চুরি পেয়েছেন আশরাফুল। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের এক আসরে তিনি মাত্র দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে এই কীর্তি গড়েছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিষেধাজ্ঞা থেকে ফেরার পর ২৩টি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে ৪৭.৬৩ গড়ে রান তুলেছেন তিনি। তবে ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে অবশ্য গত ১৩ মাসে ২১.৮৫ গড়ে রান তুলেছেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান, সেঞ্চুরি মাত্র ১টি। ফেরার লড়াইটা কেমন ছিল জানতে চাইলে টেষ্ট ক্রিকেটের সর্বকনিষ্ট এই সেঞ্চুরিয়ান বলেন, ’এটা খুব কষ্টের, কারণ একজন ক্রিকেটার হিসেবে মাঠের বাইরে থাকাটা সহজ নয়। আর নিষেধাজ্ঞা থেকে ফেরার পর প্রথম মৌসুমটা তেমন ভাল কাটেনি, তবে ২০১৭-১৮ মৌসুমে বেশ ভাল করেছি। আসন্ন মৌসুমে আরও ভাল করতে চাই। এখন আমি আমার পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দলে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পাবো। আমি এরইমধ্যে দীর্ঘ একমাসের ট্রেনিং প্রোগ্রামে অংশ নিয়েছি। ১৫ আগস্টের পর আসন্ন জাতীয় ক্রিকেট লিগের জন্য প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি শুরু করবো’। ২০১৪ সালের জুনে বিপিএলের দুর্নীতি বিরোধী ট্রাইব্যুনাল আশরাফুলের উপর ৮ বছরের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশি মুদ্রায় ১০ লাখ টাকা জরিমানা করে। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ডিসিপ্লিনারি প্যানেল শাস্তি কমিয়ে পাঁচ বছরে নামিয়ে আনে। তবে বিসিবি ও আইসিসি শাস্তি কমানোর বিরোধিতা করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পাঁচ বছরই স্থির হয়। তবে ওই দুই বছর তাকে বিসিবি কিংবা আইসিসির দুর্নীতি বিরোধী কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে বলে শর্ত আরোপ করা হয়। এর অংশ হিসেবে ২০১৫ সালের বিপিএলে দুর্নীতি বিরোধী অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি, যেখানে তাকে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের দুর্নীতির বিষয়ে সচেতন করতে দেখা যায়। বাংলাদেশের ক্রিকেটভক্তদের মাঝে আজও আশরাফুল অনেক প্রিয় একটি নাম। তাকে আবার লাল-সবুজের জার্সি গায়ে তুলতে দেখার অপেক্ষায় আছে তার বহু ভক্ত। কিন্তু এখনও বেশ খানিকটা পথ পাড়ি দিতে হবে তাকে। তবে নিষেধাজ্ঞা থেকে পুরো মুক্তি মিলছে এটাই তাকে আবার নতুন করে আশা জাগিয়েছে। ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে যে ভুল তিনি করেছিলেন তা শোধরাতে তার দীর্ঘ লড়াই অবশেষে আলোর মুখ দেখছে এটাই তাকে সাহস জোগাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের একমাত্র ওয়ানডে ম্যাচ জয়ের সুখস্মৃতিতে জড়িয়ে রয়েছে তার নাম। ২০০৫ সালের ১৮ জানুয়ারি পাওয়া সেই জয়টির নায়ক ছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। সেঞ্চুরির ইনিংস খেলে জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন। এরপর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১২টি ওয়ানডে খেলেছে বাংলাদেশ। কিন্তু সবকটিতেই হারের রেকর্ড। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ই নয়, আরও অনেক সাফল্যের অংশীদার ছিলেন আশরাফুল। আন্তর্জাতিক মঞ্চে অবিশ্বাস্যভাবে আর্বিভাব হয়েছিল তার। এর আগে ২০০১ সালের ৮ সেপ্টেম্বর শ্রীলংকার বিপক্ষে অভিষেক টেস্টেই ক্রিকেট বিশ্বে আলোড়ন তৈরি করেন। তখন আশরাফুল বনে গিয়েছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রথম মহাতারকা। বাংলাদেশ ক্রিকেটের একাধিক গৌরবময় আখ্যানের জনক আশরাফুল। ব্যাটের কারুকাজ দেখিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে অনেকবারই আনন্দে ভাসিয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক। কিন্তু ২০১২ সালের বিপিএলের দ্বিতীয় আসরে পাতানো ম্যাচে জড়িয়ে ২০১৩ সালের জুন মাস থেকে আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটে নিষিদ্ধ হন আশরাফুল। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে স্পট ফিক্সিং আর ম্যাচ ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে নিষেধাজ্ঞার খাড়ায় পড়ার ৫ বছর পর অবশেষে মুক্তি মিলছে বাংলাদেশের একসময়ের সেরা এ ব্যাটসম্যানের। ১৩ আগস্ট থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি মিলেছে তার। ২০১৬ সালের ১৩ আগস্ট ঘরোয়া লিগে খেলার অনুমতি মিললেও এতদিন জাতীয় দল আর বিপিএলে নিষিদ্ধ ছিলেন আশরাফুল। আবারও ফেরার সুযোগ পেয়ে দারুণ খুশি আশরাফুল। বললেন, এই দিনের জন্য পাঁচ বছর প্রতিক্ষা করেছেন তিনি। মনের গহীনে এখনো জাতীয় দলের খেলার স্বপ্ন লালন করে চলেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের একসময়ে সবচেয়ে বড় তারকা মোহাম্মাদ আশরাফুল। ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে ক্রিকেট থেকে দীর্ঘ পাঁচ বছর ছিলেন নির্বাসনে। কি দুঃসহ সময়-ই না পার করতে হয়েছে টেস্ট ক্রিকেটের সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরির মালিককে। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) স্পট ফিক্সিং এবং ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অপরাধে নিষেধাজ্ঞার খাড়ায় পড়েন একসময়ের দেশসেরা ব্যাটসম্যান। এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে আর কোন বাধা থাকবে না ডানহাতি ব্যাটসম্যানের। অবশ্য ২০১৬ সালের ১৩ আগস্ট থেকেই ফিরেছেন ঘরোয়া ক্রিকেটে। আবারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার সুযোগ পেয়ে আবেগে আপ্লুত আশরাফুল। জাতীয় দলে ফিরতে পারবেন কি পারবেন না, তার ছোট প্রমাণ কিন্তু গত মৌসুমে দিয়েছেন আশরাফুল। প্রথম বছর তেমন ভাল করতে না পারলেও ২০১৭-১৮ মৌসুমে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে পাঁচ সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েন। কীর্তিই তো! আশরাফুল ছাড়া লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের যে এক আসরে এমন কীর্তি আছে আর একজনের। দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া ক্রিকেট লিগ মোমেন্টাম ওয়ানডে কাপে ২০১৫-১৬ মৌসুমে একই কীর্তি গড়েন আলভিরো পিটারসেন। নিষেধাজ্ঞা থেকে ফিরে ২৩টি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে ৪৭.৬৩ গড়ে রান তুলেছেন আশরাফুল। তবে ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারেননি। ১৩ ম্যাচে গড় ২১.৮৫, সেঞ্চুরি মাত্র ১টি। ঘরেয়া ক্রিকেটে প্রমাণ করে তবেই যে জাতীয় দলের বার্তা দিতে হবে সেটা ভালো করেই জানেন আশরাফুল, ‘এখন আমি আমার পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দলে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পাবো। আমি এরইমধ্যে দীর্ঘ একমাসের ট্রেনিং প্রোগ্রামে অংশ নিয়েছি। ১৫ আগস্টের পর আসন্ন জাতীয় ক্রিকেট লিগের জন্য প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি নেব।’ ২০১৪ সালের জুনে বিপিএলের দুর্নীতি বিরোধী ট্রাইব্যুনাল আশরাফুলের উপর ৮ বছরের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। একই সঙ্গে জরিমানা করা হয় ১০ লাখ টাকা। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ডিসিপ্লিনারি প্যানেল শাস্তি কমিয়ে পাঁচ বছরে নামিয়ে আনে। বিসিবি ও আইসিসি তাতে নাখোশ হয়। শেষ পর্যন্ত অবশ্য নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ পাঁচ বছরই স্থির থাকে। তবে ওই দুই বছর তাকে বিসিবি কিংবা আইসিসির দুর্নীতি বিরোধী কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে বলে শর্ত আরোপ করা হয়। এর অংশ হিসেবে ২০১৫ সালের বিপিএলে দুর্নীতি বিরোধী অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি, যেখানে তাকে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের দুর্নীতির বিষয়ে সচেতন করতে দেখা যায়। বাংলাদেশের ক্রিকেটভক্তদের মাঝে আজও আশরাফুল জনপ্রিয় একটি নাম। বয়সটাও যে আহমরি হয়েছে তা নয়। গত মাসে পা দিয়েছেন চৌত্রিশে। এই বয়সে এখনো অনেকেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মাতিয়ে বেড়াচ্ছেন। বাংলাদেশের কর্মকর্তারা কি তাকে একটি সুযোগ দিয়ে দেখবেন? নাকি অপয়াক্তেয় থেকে যাবেন?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ