ঢাকা, বৃহস্পতিবার 16 August 2018, ১ ভাদ্র ১৪২৫, ৪ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ইয়াবা থেকে মুক্তির পথ

ইয়াবার হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় কি। মনে রাখতে হবে, মাদকাসক্তি প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ করাই অতি উত্তম। তাই এই মাদকের আগ্রাসন থেকে রক্ষা পেতে সামগ্রিক প্রতিরোধ অতীব জরুরী।
আসক্ত ব্যকি, যিনি পুনরায় স্বাভাবিক সুস্থ জীবন ফিরে পেতে চায়, তাদের নিরাশ হওয়ার কিছু নেই। এ কথাটাই সত্য নয় যে, তারা আর কখনই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারবে না। শুধুমাত্র প্রয়োজন ধৈর্য সহকারে দীর্ঘ মেয়াদী চিকিৎসা। একবার কেউ আসক্ত হয়ে গেলে তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার না করা, বার বার কাউন্সেলিং-এর মাধ্যমে ভালোভাবে বুঝাতে হবে। কোনভাবেই বকাবকি ও মারধর করা যাবে না।
শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক চিকিৎসার জন্য মনোরোগ চিকিত্সকের পরামর্শ নেওয়া জরুরী। মনে রাখতে হবে অপরাধী নয়, অপরাধই ঘৃণার বিষয়। স্বাভাবিক সুস্থ জীবনে ফিরে আসতে তাদের প্রতি ঘৃণা নয় বরং সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শে বিভিন্ন ধরণের চিকিৎসা পদ্ধতি আসক্ত ব্যক্তিদের আশার আলো দেখাচ্ছে। তারা ফিরে যেতে পারছে মাদকমুক্ত জীবন ধারায়। ওষুধ, সাইকোথেরাপি ও অন্যান্য উপায়ে মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবন যাপন পদ্ধতিতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। পরিবর্তন করার চেষ্টা করতে হবে তার আগের পারিপার্শ্বিক পরিবেশ, যা তাকে মাদকাসক্ত হতে সাহায্য করেছে। এতে মনোরোগ চিকিৎসকদের যেমন ভূমিকা রয়েছে তেমনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও প্রকৃত বন্ধুও। একজন নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি সবার সম্মিলিত সহযোগিতায়ই আবার সে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে। সবাইকে নিয়েই এই প্রতিরোধ যুদ্ধে নামতে হবে এবং এই যুদ্ধ চলমান রাখতে হবে। গড়ে তুলতে হবে মাদক প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন।
মাদকের বিরুদ্ধে প্রথমে পরিবারকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। বাবা-মাকে সন্তানের মধ্যে এমন বীজ বপন করতে হবে, যাতে সে আত্মপ্রত্যয়ী হয়, অশুভকে চিনতে পারে। বাবা-মায়ের কোন কলহ বিবাদ যেন সন্তানকে প্রভাবিত না করতে পারে। তাই পারিবারিক শিক্ষা, যথাযথ অনুশাসন এবং সচেতনতা খুবই জরুরী। দৃঢ় পারিবারিক বন্ধন ও সঠিক শিক্ষা মাদক প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে হলে তাদের জন্য দরকার খেলাধূলা, সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল কর্মকান্ডে ও সুস্থ বিনোদনের সুযোগ সুবিধা এবং এগুলো চর্চা করতে উদ্বুদ্ধ করা।
একথা ভুলে গেলে চলবে না, ধর্মীয় অনুশাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধর্ম চর্চা অনুশীলন করলে অনেক ক্ষেত্রে সর্বগ্রাসী মাদক বর্জন এবং প্রতিকার করা সম্ভব হয়।
মাদক ব্যবহারের কুফল এবং পাচার প্রতিরোধে এবং জনসচেতনতা সৃষ্টিতে দেশের শিল্প সংস্কৃতির সাথে জড়িত ব্যক্তিবর্গ এবং সংবাদপত্রসহ মিডিয়ার কর্মীদেরও দায়িত্ব পালন অপরিসীম। সামগ্রিক দৃষ্টিতে ইয়াবা সেবনের ক্ষতি অসীম ও অপূরণীয়। এটি একটি ব্যক্তি, তার পরিবারকে করে ধ্বংস, সমাজকে করে কলুষিত, ফলে পুরো সামাজিক ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ে, আর রাষ্ট্রের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায়। সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব, মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে ঘৃণা ও অপরাধী হিসেবে বড় করে না দেখে কোথা থেকে, কীভাবে, কারা মাদক সরবরাহকারী, চোরাকারবারী বা কারা এসবের মূল হোতা, তাদের বিচার ও শাস্তির আওতায় আনা। প্রয়োজনে যথাযথ আইন প্রণয়ন করা এবং তার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। তবেই ইয়াবার ভয়ঙ্কর ছোবল থেকে আমাদের ভবিষ্যত্ প্রজন্ম ও কোমলমতি সন্তানদের রক্ষা করা সম্ভব হবে। তাই এখনই উচিত সবাইকে একতাবদ্ধ হয়ে মাদক বিরোধী স্লোগানে সোচ্চার হয়ে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা। 
-অধ্যাপক ডাঃ এ বি এম আব্দুল্লাহ
ডীন, মেডিসিন অনুষদ
অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ