ঢাকা, সোমবার 19 November 2018, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৩২ কিমি যানজট,ভোগান্তি চরমে

সংগ্রাম অনলাইন : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা-গোমতী সেতুর দুই পাশে ৩২ কিলোমিটারজুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যানজটে আটকা পড়ে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন যাত্রী ও পশু বিক্রেতারা।

মঙ্গলবার বিকাল থেকে এই যানজটের সৃষ্টি হয়। এরপর আজ বৃহস্পতিবার সকালে মেঘনা-গোমতী সেতুর দুই পাশে ৩০-৩২ কিলোমিটার পর্যন্ত যানজট দীর্ঘ হয় বলে জানায় হাইওয়ে পুলিশ।

এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকা পড়ে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা গরম, প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়ার মতো নানা ভোগান্তি সহ্য করতে হচ্ছে। এছাড়া কোরবানির পশুবাহী গাড়িগুলোও আটকা পড়ায় এর সাথে সংশ্লিষ্টরা দুর্ভোগে রয়েছেন।

হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা রিজিওনের পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত যানজটের পরিমাণ কম থাকলেও বিকাল থেকে আকার দীর্ঘ হতে থাকে। যানজটের পরিমাণ উঠা-নামার মধ্যেই বৃহস্পতিবার সকালে প্রায় ৩২ কিলোমিটারজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়।

পুলিশ জানায়, ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের মধ্যে মহাসড়কের কুমিল্লা দাউদকান্দি মেঘনা-গোমতী সেতুর টোলপ্লাজা থেকে চান্দিনার মাধাইয়া পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার এবং মুন্সীগঞ্জ জেলার অংশে ১০ কিলোমিটার যানজট লেগে আছে।

পশুবাহী গাড়িতে থাকা বিক্রেতারা বলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার ফলে পশুর বিভিন্ন শাররিক সমস্যা, খাদ্য নিয়ে চিন্তায় পড়েছি আমরা। তারা ব্যবসা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।   

এদিকে ঢাকাগামী যাত্রী ব্যবসায়ী জাকির হোসেন স্বজল জানান, কুমিল্লা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছি ভোরে। গাড়িতে সাড়ে ৪ ঘণ্টা বসে আছি, এখনো দাউদকান্দি পৌঁছাতে পারেনি।

কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড় হাজী মান্নান স্টোরের ব্যবসায়ী মো. আবদুল আউয়াল জানান, সারা বছরের তুলনায় ঈদ উৎসব আসলে আমাদের বিকিকিনির পরিমাণটা একটু বাড়ে। কিন্তু ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার অংশে গত কয়েকদিনের দীর্ঘ যানজটের কারণে ঢাকা যেতে পারছি না। ঈদ উৎসবের জন্য নতুন পোশাক না আনলে ব্যবসা করবো কীভাবে।

চট্টগ্রামগামী শ্যামলী পরিবহনের যাত্রী সেলিনা ইসলাম বলেন, বৃদ্ধা মাকে নিয়ে ঈদ করার জন্য ঢাকা থেকে রওনা দিয়েছেন ভোর রাত চারটায়। কিন্তু সকাল ১১টায়ও মেঘনা ব্রিজ পার হতে পারেননি। সঙ্গে থাকা শিশু গরমে অতিষ্ঠ। প্রকৃতির ডাকে সাড়ায় বৃদ্ধ মাকে নিয়ে ভোগান্তির কথাও জানালেন এই বাসযাত্রী।

হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা রিজিওনের পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম বলেন, মেঘনা সেতুর কাছে গার্মেন্ট শ্রমিকরা কিছুক্ষণের জন্য মহাসড়ক অবরোধ করলে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন লেগে যায়। এছাড়া ঈদকে সামনে রেখে পণ্যবাহী যানবাহন বেড়ে যাওয়ায়ও এর প্রভাব সড়কে পড়ছে বলে জানান তিনি। সূত্র: ইউএনবি। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ