ঢাকা, শুক্রবার 17 August 2018, ২ ভাদ্র ১৪২৫, ৫ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কবি মোশাররফ হোসেন খান

কে জি মোস্তফা : সুদীর্ঘকাল সাহিত্য-সম্পাদনার কাজ করেছি। এবং এখনও করছি। সেকালের নবীন ও সদ্যনবীন কবিদের অনেকেই এখন খ্যাতিমান। এদের কারও কারও কবিতা পড়ে আমি যথেষ্ট তৃপ্তি লাভ করি। কবি মোশাররফ হোসেন খান তাঁদেরই অন্যতম। কবিতায় নিবেদিত এমন অনলস ও পরিশ্রমী কবি আজকের দিনে খুব কমই দেখা যায়। বলা যায় কবিতাচর্চাই যেন তার দিনপঞ্জী। আধুনিক মনস্কতা আর পুরনো মূল্যবোধে তাঁর কবিতা যথেষ্ট পরিপুষ্ট।

কী নেই তাঁর কবিতায়! বিচিত্রপথগামী কবির মন। জীবনের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নার ফসল কুড়োতে কুড়োতে কবি মোশাররফ হোসেন খান ভরে নিয়েছেন কবিতার ঝুলি। কবিতার শরীরে সমকালীন সময়ের খুঁটিনাটি ধরে রাখার আন্তরিক প্রচেষ্টা যেমন রয়েছে, ব্যক্তিগত অনুভূতি ও উপলব্ধিকে সহজতর ভাষার শরীরে ধরে রাখার কৌশলও তাঁর আয়ত্বাধীন।

জীবনের নানা অনুষঙ্গের মধ্যে থেকে কবি বিষয়বস্তু নির্বাচন করে থাকেন। শব্দের শরীরে কবিতা জেগে ওঠে অভ’তপূর্ব অনুষঙ্গ ও আয়ত্বাধীন ছন্দসতর্কতা নিয়ে। কবির মানস-চেতনা ও আত্মোপলব্ধির বহি:প্রকাশ কবিতাগুলোর পরতে পরতে। দেশ মাটি মানুষ এবং ধর্মীয় মূল্যবোধই তাঁর কাছে আসল সংস্কৃতি।

বহমান জীবনধারার মাঝে ভালোবাসার গন্ধে খুঁজে পাওয়া যায় এক টুকরো শান্তির আশ্রয়। সেই আঘ্রাণকে উপজীব্য করে রচিত হয়েছে তাঁর বেশ কিছু কবিতা। যে অতৃপ্তি বাঁচিয়ে রাখে প্রেমকে তাকে ধরতে চাওয়ার ইচ্ছাতে, টুকরো টুকরো ছবির কোলাজের মতো রচিত হয়েছে সেসব কবিতা।

প্রকৃতির সৌন্দর্য বন্দনাতেও কবি নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন। যে জীবন প্রতিনিয়ত করাতের মতো চিরে চিরে রক্তাক্ত করে, আছে সে জীবনের কথাও। আত্মঅহমিকাশূন্য কবি মোশাররফ হোসেন খান সহজ সত্যকে সোজাসুজি দেখেন। আত্মউদঘাটনে সেসব কবিতা  যেন এক-একটি মুক্তির বার্তা।

প্রিয়ভাজন কবি মোশাররফ হোসেন খান তাঁর নিরন্তর সৃজনশীলতায় আরও উদ্ভাসিত হবেন, এটাই কাম্য। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ