ঢাকা, শুক্রবার 17 August 2018, ২ ভাদ্র ১৪২৫, ৫ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কুরবানীর প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য

কামাল সিদ্দিকী : আল্লাহর প্রতিটি বিধি বিধানের মধ্যে নিগুঢ় তাৎপর্য রয়েছে। যা আমরা অনেক সময় বুঝে উঠতে পারি না। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, “ইন্না ফি মালিকা লায়াতিল লিল আলামিনÑএতে জ্ঞানীদের জন্য নির্দশন রয়েছেন।’’ আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের এ নিগূঢ় তাৎপর্য বিধানসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো কুরবানীর বিধান। যা পৃথিবীর আদিকাল হতে বর্তমান সময় পর্যন্ত চলে আসছে এবং ভবিষ্যতেও চলবে। আল্লাহ বলেন, “আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য কুরবানীর বিধান দিয়েছি।’’ কুরবানী আরবি শব্দ। এর অর্থ ত্যাগ, উৎসর্গ, বিসর্জন ও নৈকট্য লাভ। ইলমে ফিকাহের ভাষায় একে উযহিয়্যা বলা হয়।

অর্থাৎ আলাল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট দিনে, পশু যবেহ করাকে উযহিয়্যা বা কুরবানী বলে। পবিত্র জিলহাজ্জ মাসের দশ তারিখে ঈদুল আযহার দু’রাকাত ওয়াজিব নামায শেষে সমগ্র বিশ্বব্যাপী মুসলমানরা আল্লাহর নির্দেশে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর স্মৃতির অনুসরণে কুরবানী করে থাকে। কুরবানী করা ওয়াজিব।

মানব ইতিহাসে সর্বপ্রথম কুরবানী হযরত আদম (আঃ) এর সময় থেকেই কুরবানী শুরু হয়েছিল। তাঁর পুত্র হাবিল কাবিল এর মাধ্যমেই পৃথিবীর প্রথম কুরবানী প্রথা শুরু হয়েছিল। তখনকার শরীয়ত অনুযায়ী হযরত আদম (আঃ) এর প্রতি আদেশ হয়েছিল হাবিলের সঙ্গে কাবিলের বোনকে এবং কাবিলের সঙ্গে হাবিলের বোনের বিয়ে দিতে। কাবিলের বোন হাবিলের বোনের চেয়ে সুন্দরী ছিল। তাই সে হাবিলের বোন লাবিফাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায় এবং তার বোন আকলিমাকে বিয়ে করতে চায়। এতে আদম (আঃ) তাদেরকে বলেন, “তোমরা উভয়ে আল্লাহর নামে কুরবানী কর। যার কুরবানী আল্লাহর নিকট কবুল হবে, আকলিমাকে সেই বিয়ে করবে।” হাবিল ছিল সৎ কর্মশীল ও মোত্তাক্বী, সে একটি মোটা তাজা দুম্বা কুরবানী করে পাহাড়ের উপর রেখে আসল। কাবিল ছিল অসৎ প্রকৃতির। সে কিছু শস্য, গম, সংগ্রহ করে সেখানে রেখে আসে। তখনকার বিধান মতে আসমান হতে আগুন এসে হাবিলের দুম্বা জ্বালিয়ে দেয় আর কাবিলের শস্য গম অক্ষত অবস্থায় পড়ে থাকে। এতে কাবিল রাগ হয়ে হাবিলকে হত্যা করে। (তথ্যসূত্র : মারেফুল কুরআান) 

হযরত যায়েদ ইবনে আরকাম (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত আছে তিনি বলেন, “সাহাবা কিরাম আরজ করলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সঃ), কুরবানী জিনিসটা কী?” রাসুলুল্লাহ (সঃ) ইরশাদ করলেন, এ হলো তোমাদের পিতা ইব্রাহিম (আঃ) এর সুন্নাত। সাহাবা কিরাম পুনরায় নিবেদন করলেন, এতে আমাদের কি কল্যাণ নিহিত আছে? তিনি বললেন, এর প্রত্যেকটি পশমের বিনিময়ে একটি করে নেকি রয়েছে। তোমরা মোটাতাজা পশু যবেহ কর। কেননা এগুলো পুলসিরাতে তোমাদের বাহন হবে। (ইবনে মাজাহ) 

মহান স্রষ্টার সন্তুষ্টির জন্য সৃষ্টির ত্যাগের উত্তম দৃষ্টান্ত হচ্ছে হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর কুরবানী। স্রষ্টা ও সৃষ্টির প্রেমের বন্ধনই হচ্ছে দুনিয়ার চলমান জীবনের গতি প্রকৃতি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের যাবতীয় সৃষ্টিই হচ্ছে তার অপর সৃষ্টি আশরাফুল মাখলুকাতের কল্যাণে নিবেদিত। আল্লাহ পাকের সৃষ্টি রহস্যের অন্যতম মহিমা হচ্ছে ¯েœহ-ভালোবাসা বা মমতা। এক মহামায়া ঘিরে রয়েছে জগৎময়। এ মায়ার নিগূঢ় বন্ধনে চলছে এ বসুন্ধরা। জীবকুলের দিকে তাকালে আমরা এ মহামায়ার ছাপ দেখতে পাই। ইতর প্রাণী হতে শুরু করে আশরাফুল মাখলুকাত পর্যন্ত মায়াময় ছত্রছায়ায় আবৃত। দেয়া-নেয়া, দান-প্রতিদান, ত্যাগ-উৎসর্গ ইত্যাদি ভালোবাসর নিদর্শন। ভোগে সুখ নেই ত্যাগেই সুখ। শুধু ভোগ নিজেকে স্বার্থপর করে তোলে। আর ত্যাগ করে মহিয়ান। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অপার ত্যাগÑ আলো-বাতাস, পানি-মাটি, সকল নাজ নেয়ামত বান্দার জন্য তাঁর প্রেমের নির্দশন। 

আসলে এক পক্ষে কোন মায়ার বন্ধন হয় না। মায়ার জন্য চাই প্রতিমায়, প্রেমের জন্য চাই প্রতিপ্রেম। পারস্পরিক মায়া বা প্রেমের বন্ধন দৃঢ় হয় পারস্পরিক ত্যাগের দ্বারা। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বান্দার নিবেদিত ত্যাগই হচ্ছে কুরবানী। কুরবানী তাই অপার দৃষ্টান্ত-¯্রষ্টার প্রতি সৃষ্টির নিবেদন। যার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন হযরত ইব্রাহিম (আঃ)। যে ঘটনা সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সুরা আস্সাফাতের ৯৯ থেকে ১১৩ নং আয়াতে উল্লেখ করেছেন। 

 হযরত ইব্রাহিম (আঃ) তাঁর জাতির কাছ থেকে হতাশ হয়ে দেশ ত্যাগ করেছিলেন। তাঁর সঙ্গি হলেন তাঁর স্ত্রী সারা ও ভাগ্নেয় হযরত লুত (আঃ)। হযরত ইব্রহিম (আঃ) এর স্ত্রী সারা ছিলেন নিঃসন্তান। এক পর্যায়ে হযরত ইব্রহিম (আঃ) আল্লাহর নিকট একটি সন্তানের জন্য দোয়া করলেন। “রাব্বি হাব্বলি মিনাচ্ছলেহিন।’’-হে আল্লাহ আমকে সৎ পুত্র দান করুন। তাঁর এ দোয়া আল্লাহ কবুল করলেন এবং তাঁকে একটি পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দেয়া হয়েছিল।

হযরত ইব্রাহিম (আঃ) যখন দেশ ত্যাগ করে মিশরে পৌঁছেন মিশরের তৎকালীন স¤্রাট ফেরাউন তাঁর হাজেরা নামক কণ্যাকে হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর স্ত্রীর সারার খেদমতের জন্য দান করেছিলেন। নবীর স্ত্রী সারা বিবি হাজেরাকে হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর সাথে বিয়ে করিয়ে দিলেন। আর হযরত হাজেরার গর্ভেই জন্ম গ্রহণ করেছিলেন হযরত ইসমাইল (আঃ)। পরবর্তী পর্যায়ে হযরত ইব্রাহিম (আঃ) আল্লাহর নির্দেশে শিশু পুত্র ইসমাইলসহ বিবি হাজেরাকে মক্কার মরুপ্রান্তরে জনশুন্য এলাকায় নির্বাসনে রেখে আসেন। আল্লাহর বিশেষ রহমতে এ বিজন প্রান্তরে মা হাজেরা তাঁর কলিজার টুকরা ইসমাইলকে লালন পালন করে বড় করে তোলেন। হযরত ইসমাইল (আঃ) এর বয়স যখন ১৩ বছর তখন হযরত ইব্রাহিম (আঃ) পরপর তিন রাত্র স্বপ্নের মাধ্যমে প্রিয় বস্তুকে কুরবানীর করার নির্দেশ শুনতে পান। হযরত ইব্রাহিম (আঃ) চিন্তায় পড়ে যান এবং অবশেষে তিনি উপলব্ধি করতে পারেন যে, এই পৃথিবীর মধ্যে তাঁর সর্বাধিক প্রিয় বস্তু হচ্ছে তাঁর ¯েœহের ধন হযরত ইসমাইল (আঃ)। 

 হযরত ইসমাইল (আঃ) এর প্রতি তাঁর পিতা হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর অত্যাধিক ¯েœহের বিভিন্ন কারণ ছিল। প্রথমত: দীর্ঘ বছর যাবৎ নিঃসন্তান থাকার পর আল্লাহর অশেষ রহমতের দান পুত্র ইসমাইল (আঃ)। দ্বিতীয়তঃ বার্ধক্য বয়সে তরুণ সন্তানের প্রতি নির্ভরশীলতা ছিল খুবই স্বাভাবিক ও মানবিক। তাছাড়া আল্লাহর নির্দেশে ইসমাইল (আঃ) তাঁর মায়ের সাথে নির্বাসনে থাকার কারণে পিতা হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর ¯েœহ-ভালোবাসা থেকে ছিলেন বঞ্চিত। এবং পিতার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতাও হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর অন্তরদহনের কারণ ছিল। যে কারণে পুত্র ইসমাইলের প্রতি অধিক ¯েœহ হযরত ইব্রাহিম (আঃ)কে স্বীয় জীবন অপেক্ষা প্রিয় প্রভূর নির্দেশ পালনে নিজ পুত্রকে কুরবানী করার সিদ্ধান্তে দৃঢ় হন। হযরত ইব্রাহিম (আঃ) তাঁর ¯েœহের পুত্র ইসমাইল (আঃ) কে আল্লাহর এ নির্দেশের কথা জানালেন। অনুগতশীল নবী পুত্র ইসমাইল (আঃ) আল্লাহর এ নির্দেশ পালনে সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে গেলেন। পাঠক, আসুন আমরা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের জবানীতে পৃথিবীর ইতিহাসের সর্বোচ্চ ত্যাগের এ কাহিনী শুনি। 

 “অতঃপর সে যখন পিতার সঙ্গে চলাফেরা করার মত বয়সে উপনিত হল,তখন ইব্রাহিম (আঃ) বললো, বৎস! আমি স্বপ্ন দেখেছি যে, তোমাকে যবেহ করছি। এখন তোমার অভিমত কি বল? সে বললো, “হে আমার পিতা, আপনি যা আদিষ্ট হয়েছেন তাই করুন। আল্লাহর ইচ্ছায় আপনি আমাকে ধৈর্যশীলগণের অন্তর্ভুক্ত পাবেন।” যখন তারা উভয়ে আনুগত্য প্রকাশ করলো এবং ইব্রহিম পুত্রকে কাত করে শায়িত করলো, তখন আমি তাকে আহ্বান করে বললাম, হে ইব্রাহিম ! তুমি স্বপ্নাদেশ সত্যিই পালন করলে। এভাবেই আমি সৎকর্ম পরায়নদের পুরস্কৃত করে থাকি। নিশ্চয়ই এ ছিলো এক স্পষ্ট পরীক্ষা। আমি তাকে মুক্ত করলাম এক কুরবানীর বিনিময়ে। আমি একে পরবর্তীদের জন্য স্মরণীয় করে রেখেছি। ইব্রাহিমের জন্য শান্তি বর্ষিত হইক। এভাবে আমি সৎকর্মপরায়ণদের পুরস্কৃত করে থাকি। সে ছিলো আমার মু’মিন বান্দাগণের অন্যতম। (সুরা সাফফাত ১০২Ñ১১১ আয়াত)।

হযরত ইব্রাহিম ও হযরত ইসমাইল (আঃ) এর মহান প্রভূর সন্তুিষ্টর জন্য যে প্রচেষ্টা চালিয়ে ছিলেন তা অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে। শয়তান বারবার তাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল। হযরত ইব্রাহিম (আঃ) কঙ্কর নিক্ষেপ করে শয়তানকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন। অর্থাৎ তিনি মনের ভ্রান্ত ছলনা, মানসিক দুর্বলতা এবং পুত্রের প্রতি স্নেহ-বাৎসল্যের উপর মহান আল্লাহর হুকুম ও তাঁর সন্তুষ্টিকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। আর হযরত ইসমাইল (আঃ) তাঁর পিতার প্রতি আল্লাহর নির্দেশ পালনে নিজ জীবন অপেক্ষা আল্লাহ ও তাঁর নবীর আনুগত্যকে মেনে নিয়েছিলেন। এখানে পিতার প্রতি সন্তানের বিশ্বাসের এতটুকু চির ধরেনি। তারা উভয়ে আল্লাহর প্রতি সর্বোচ্চ ভালোবাসার নজির স্থাপন করেছিলেন। আল্লাহর রাহে নিজেকে উৎসর্গ করার জন্য হযরত ইসমাইল (আঃ) ছিলেন উদগ্রিব। তিনি পিতা ইব্রাহিম (আঃ)কে বলেছিলেন, ‘পিতা, আমাকে খুব শক্ত করে বেঁধে নিন যাতে আমি ছটফট করতে না পারি। আপনার পড়নের কাপড় সামলে নিন, যাতে আমার রক্তের ছিঁটা তাতে না পড়ে। এতে আমার সওয়াব হ্রাস পেতে পারে। এ ছাড়া এ রক্ত দেখলে আমার মা অধিক ব্যাকুল হবেন। আপানার ছুরিটাও ধার দিয়েনিন এবং তা আমার গলায় দ্রুত চালাবেন, যাতে আমার প্রাণ সহজে বের হয়ে যায়। কারণ, মৃত্যু বড় কঠিন ব্যাপার। আপনি আমার মায়ের কাছে পৌঁছে আমার সালাম বলবেন। যদি আমার জামা তাঁর কাছে নিয়ে যেতে চান, তবে নিয়ে যাবেন। হয়ত এতে তিনি কিছুটা সান্ত¦না পাবেন।’

 হযরত ইব্রাহিম (আঃ) পুত্রের ¯েœহভরা এ সকল আকুতি শুনে ভারাক্রান্ত হয়ে জওয়াব দিলেন, ‘বৎস, আল্লাহর নির্দেশ পালনে তুমি আমার চমৎকার সহায়ক হয়েছ।’ অতঃপর তিনি পুত্রকে চুম্বন করলেন এবং অশ্রুপূর্ণ নেত্রে তাঁকে বেঁধে নিয়ে ইসমাইল (আঃ) এর গলে ছুরি চালালেন। কিন্তু মহামহিম দয়াল আল্লাহ তাঁর দয়ার সাগরে ঢল নামলো, তিনি বেহেস্ত হতে দুম্ভা কুরবানী করালেন।

প্রকৃতপক্ষে হযরত ইব্রাহিম ও হযরত ইসমাইল (আঃ) কর্তৃক আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এ সর্বোচ্চ ত্যাগের প্রচেষ্টার নামই হচ্ছে কুরবানী। যে প্রসঙ্গে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, লাইয়াঁ-নালল্লাহা লুহুমুহা ওয়ালঅ দিমাউহা অলাকিনইয়ানা লুহুত্তাক্বওয়া মিনকুম Ñ অর্থাৎ এগুলোর গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, কিন্তু পৌঁছে তাঁর কাছে তোমাদের মনের তাকওয়া।’ 

প্রকৃতপক্ষে এখানেই কুরবানীর মহত্ব ও তাৎপর্য। মানুষ অর্থ ব্যয় করে কুরবানী করে আবার সেই কুরবানীর গোশত মানুষেই খায়। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কোন বাহ্যিক চাকচিক্য দেখে কুরবানী করেন না। তিনি মানুষের অন্তরের একনিষ্ঠতা আবেগ আর শ্রদ্ধা ভক্তির ভিত্তিতে বিচার করে থাকেন। এ প্রসঙ্গে হাদিস শরীফে হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা তোমাদের চেহারা -সুরত ও ধন ঐশ্বর্য দেখে বিচার করেন না, বরং তিনি তোমাদের অন্তর ও আমল দেখে বিচার করেন। (মুুসলিম )

 সুতরাং শুধু পশু নয়; অন্তরের কুরবানীই হচ্ছে বড় কুরবানী। এই তো হলো কুরবানীর প্রেক্ষাপট-আত্মিক তাৎপর্য। কুরবানীর সামাজিক তাৎপর্য অনবদ্য। কুরবানীর মাধ্যমে মানুষের পারস্পারিক সম্পর্ক বৃদ্ধি পায় ও সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় হয়। শরীকানা কুরবানী সমআর্থিক সম্পন্ন পরিবারগুলোকে এক ব্যাস্থাপনায় এনে পারস্পরিক জানা শোনার পরিবেশ করে দেয়। যা থেকে একের প্রতি অন্যের হৃদ্যতা বৃদ্ধি করে। এবং কুরবানীর কঠোর শর্তসমূহ অংশীদার সম্পর্কে মনের গ্লানী দূর করতে সাহায্য করে থাকে। এ ছাড়া সমাজের দুস্থ, ইয়াতিম, অসহায় মানুষেরা বছরে একদিন অন্তত আমিষের স্বাদ গ্রহণ করে তৃপ্তি পেয়ে থাকে। এ কুরবানীর দ্বারা ব্যক্তির স্বার্থপরতার চিন্তা দূর হয়ে পরস্বার্থে অর্থ সম্পদ ব্যয়ের মনোবৃত্তি তৈরি হয়।

 পরিশেষে বলা যায় যে, পশুর গলে ছুরি চালানোর মাধ্যমে মনের পশুত্বকে বিতাড়নের মহড়ার নামই হলো কুরবানী। যে মন সর্বদা আল্লাহ প্রেম আর পর কল্যাণের জন্য থাকে সদা তৎপর। আল্লাহ আমাদের প্রকৃত কুরবানীর মহাত্ম হাসিলের তাওফিক দিন।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ